জ্বালানি সাশ্রয়
সরকারি অফিস © বাসস
ইরান যুদ্ধসহ বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা কারণে দেশের জ্বালানি খাতে চাপ কমাতে সাপ্তাহিক ছুটি একদিন বাড়াতে পারে সরকার। অফিস সময় কমানো কিংবা হোম অফিস দেওয়ারও চিন্তা চলছে। এর পাশাপাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস ফেরানোসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।
জ্বালানি তেলের চড়া দাম, আমদানিতে খরচ বৃদ্ধি ও ডলার সংকটের কারণে এমন কৃচ্ছ্রসাধনের কথা চিন্তা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এর আগে করোনাকালের অভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে কাজে লাগানো হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত আরও আগেই নেওয়া উচিৎ ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।
কর্মকর্তারা বলছেন, আলোচনায় থাকা পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে, সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়তি একদিন যোগ করা বা সপ্তাহে দুদিন ঘরে বসে কাজ; অফিসের কাজ দ্রুত করা বা সময় কমিয়ে আনা; বিদ্যুৎ খরচ কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় অর্ধেক ক্লাস অনলাইনে নেওয়া হতে পারে। তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়ে সরকারি সংস্থাগুলোকে নিজস্ব প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হবে। বিশ্বে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তিন মাসের স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি জটিল হলে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নেওয়া হতে পারে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতেও উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। অপ্রয়োজনীয় ঋণ পরিহার ও কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব আছে। যদিও তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছে না সরকার।
আরও পড়ুন: এইচএসসি ও সমমানের ‘পরীক্ষা শুরু’ ৭ জুন
ঊর্ধ্বতন এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির অবনতি হলে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের বাইরেও চিন্তা করতে হতে পারে। ছয় মাস বা এক বছর মেয়াদী পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, কিছু মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কৃচ্ছ্রসাধনমূলক ব্যবস্থার খসড়া তৈরি শুরু করেছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জ্বালানি মজুত রোধসহ সাশ্রয়ে সরকার ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। চাপ কমাতে আরও নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হতে পারে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কোভিড আমলের অভিজ্ঞতার আলোকে সিদ্ধান্তগুলো আরও আগেই নেওয়া যেত। প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক ডাকার কথা বলেন তিনি। অফিসগুলোকে জ্বালানি সাশ্রয় সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।