একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করছে

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৮ PM , আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:২১ PM
একুশে পদক তুলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

একুশে পদক তুলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান © সংগৃহীত

শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অর্থাৎ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব শাখায় যাতে দেশ এগিয়ে যেতে পারে, নৈতিক মানসম্পন্ন তেমন একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই যাত্রায় দেশের বিজ্ঞজনদের দিক-নির্দেশনা অবশ্যই প্রত্যাশিত বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পদক বিতরণ করা হয়।

এ সময় অভিনয়ে ফরিদা আক্তার ববিতা, চারুকলায় অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাসসুম, সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর), নৃত্যে অর্থী আহমেদ এবং পালাগানে ইসলাম উদ্দিন পালাকারকে এই সন্মাননা পদক প্রদান করা হয়। এছাড়াও সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষাক্ষেত্রে অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং ভাস্কর্যে তেজস হালদার জস এবং সংগীতাঙ্গনে অবদানের জন্য জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজকে একুশে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধামন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আজকের এই মহতী অনুষ্ঠানে এমন কিছু কৃতিমান ব্যক্তিত্ব উপস্থিত হয়েছেন, যারা শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্পকলার বিভিন্ন শাখায় অবদান রেখে নিজ গুনে সমাদৃত হয়েছেন। আমি অনুষ্ঠানের শুরুতেই এই কৃতিমানদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। রাজনীতিবিদগণ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, জ্ঞানী গুণীজন দিক নির্দেশকের ভূমিকা পালন করে থাকেন।

তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র এবং সমাজে কৃতি মানুষদের সংখ্যা যত বেশি বাড়তে থাকবে সমৃদ্ধি এবং নৈতিকতার মানদণ্ডে সেই সমাজ ততবেশি আলোকিত হতে থাকবে। সুতরাং, রাষ্ট্র তার নিজের প্রয়োজনেই জ্ঞানীগুণী মানুষদের সম্মানিত করে নিজে সম্মানিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উপলব্ধি থেকেই স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করেছিলেন। এটি শুধু একটি পদকই নয়, বরং এই পদকের মধ্য দিয়ে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ঘটনাবলীগুলোকে স্মরণে আনার পাশাপাশি যেসব বিজ্ঞজন শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা, গবেষণা ও চর্চায় নিজেদেরকে এবং রাষ্ট্র ও সমাজকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাদের সঙ্গে আপামর জনসাধারণের পরিচয় ঘটে।

তিনি আরও বলেন, শুরুতে তিনটি বিষয়ে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পুরস্কার ‘একুশে পদক’ এর যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ সম্ভবত কমপক্ষে ১২টি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক অর্জন। জ্ঞান-বিজ্ঞান কিংবা শিল্প-সাহিত্য চর্চার ধারা আরো শাণিত এবং বিকশিত হোক এই প্রত্যাশা করছি। শিক্ষা গবেষণা এবং শিল্প সাহিত্যের চর্চাকে আরো বেগবান করতে রাষ্ট্র এবং সরকার তার দায়িত্ব অবশ্যই পালন করবে।

শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প সাহিত্য-চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অর্থাৎ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব শাখায় যাতে দেশ এগিয়ে যেতে পারে, নৈতিক মানসম্পন্ন তেমন একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করছে। আমাদের এই যাত্রায় দেশের বিজ্ঞজনদের দিক নির্দেশনা অবশ্যই প্রত্যাশিত।

তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসে ফেব্রুয়ারি মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। আর একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মপরিচয়ের স্মারক। বলা যায়, আমাদের সংস্কৃতি-চেতনার প্রাণপ্রবাহ একুশে ফেব্রুয়ারি। একুশে ফেব্রুয়ারি একদিকে মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অপরদিকে এটি ছিল জালেমের বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। সুতরাং, ফেব্রুয়ারি মানেই আত্মপরিচয় উপলব্ধির মাস। আমাদের শেকড় সন্ধানী মাস। প্রতি বছরের মতো এ বছর আমরা দেশের জ্ঞানী গুণী কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-ভাষাসংগ্রামীকে একুশে পদকে ভূষিত করেছি। জ্ঞানী গুণীদের কর্ম এবং কর্মময় জীবনের সঙ্গে আপামর জনগণের পরিচয় করিয়ে দেয়া রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।

একুশ আমাদের অবিনাশী চেতনা ও স্বাধিকার অর্জনের বীজমন্ত্র উল্লেখ করে প্রধামন্ত্রী বলেন, এবার আমরা ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর অতিক্রম করে ৭৫ বছরে পদার্পণ করেছি। অমর একুশের ভাষা-শহিদদের স্মরণে প্রবর্তিত আজকের একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে ভাষা সংগ্রামীদের স্মরণ করছি। আল্লাহ তাদের মৃত্যুকে শহীদি মৃত্যু হিসেবে কবুল করুন। আজ যারা একুশে পদকে ভূষিত হলেন, আপনাদের সবাইকে জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আপনাদের সৃজনমুখর জীবন আরও দীর্ঘ হোক, কল্যাণময় হোক, আল্লাহর দরবারে সেই প্রার্থনা করছি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিশ্চয়ই একদিন বিশ্ব সাহিত্যের জগতে আলো ছড়াবে এমন গর্বিত দিনের প্রত্যাশা করে আমি আমার বক্তব্য শেষ করছি।

এইচএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা নিলে ‘কঠোর ব্যবস্থা’
  • ১২ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে হামলার পরিকল্পনা ইরানের
  • ১২ মার্চ ২০২৬
জনসম্মুখে অশালীন আচরণ, প্রবীণ ব্যক্তিকে আঘাত—সেই মডেল মনিকা…
  • ১২ মার্চ ২০২৬
অধিবেশনে যোগ দিতে সংসদে এমপিরা, আসছেন আমন্ত্রিত রাষ্ট্রদূত-…
  • ১২ মার্চ ২০২৬
প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের নতুন আবেদন শুরু হতে পারে ১৫ মার্চ
  • ১২ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য সংকট বন্ধে প্রস্তাব পাসে ব্যর্থ নিরাপত্তা পরিষদ…
  • ১২ মার্চ ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
22 April, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081