জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় © টিডিসি সম্পাদিত
হঠাৎ বদলির পর সেই ৮ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বদলি আদেশ বাতিল করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের শেষ দিনে বাতিল সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০ জানুয়ারি জারি করা ৮ ইউএনওর বদলির প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হল।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২০ দিন আগে হঠাৎ করে আট উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) বদলি করা হয়। নির্বাচন কমিশনের সম্মতিতেই তাদের বদলি আদেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। ওই আদেশে আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছিল।
সেই আট ইউএনও হলেন— বরগুনার পাথরঘাটার ইউএনও ইশরাত জাহান, ভোলার চরফ্যাশনের লোকমান হোসেন, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের আল-আমীন, ফরিদপুরের নগরকান্দার মেহরাজ শারবীন, নেত্রকোণার কলমাকান্দার মাসুদুর রহমান, পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার রেহেনা আক্তার, বগুড়ার ধুনটের প্রীতিলতা বর্মন এবং হবিগঞ্জের বাহুবলের লিটন চন্দ্র দে।
এর মধ্যে অন্তত ৩ ইউএনওর ব্যাপারে বিভিন্ন অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। আবার এই তিনজনের অন্তত দুইজনের বিরুদ্ধে আপত্তি ছিল মূলত বিএনপির। ফলে বদলিতে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিও সামনে এসেছিল।
আট ইউএনওর মধ্যে নেত্রকোণার কলমাকান্দার ইউএনও মাসুদুর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় লেঙ্গুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে আলোচনায় আসেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার আগে অবগত না করায় তাকে শাসান ইউপি চেয়ারম্যান। ওই ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এই ঘটনায় ১৮ জানুয়ারি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে শোকজ নোটিশ দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এর দুদিন পরই বদলি আদেশ পেয়েছিলেন এই ইউএনও।
পাথরঘাটার ইউএনও ইশরাত জাহানের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে অপসারণের দাবি জানায় বিএনপি। বরগুনা-২ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউএনও ইশরাত ইচ্ছাকৃতভাবে কালক্ষেপণ করেন বলে অভিযোগ তোলে দলটি। পরে ইউএনওর অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলনও হয়। অপরদিকে ভাণ্ডারিয়ার ইউএনও রেহেনা আক্তার গণভোটে ‘না’ ভোট দিতে ভোটারদের উৎসাহিত করছেন বলে গত ১৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করা হয়।