ইউএনওর সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, সেই চেয়ারম্যান বরখাস্ত © সংগৃহীত
নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলায় অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে বাধা এবং নির্বাহী হাকিম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিরূপ মন্তব্য করায় ইউপি চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, আজ রবিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. মাতাছেম বিল্যাহ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে লেঙ্গুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়াকে বরখাস্ত করা হয়। সাইদুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ইউএনওর সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যানের বাগবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন ও ভাইরাল হওয়া ভিডিওর বরাতে জানা যায়, লেংগুড়া বাজারে খাস জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ ওঠে ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই মো. পারভেজসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার বিকালে ইউএনও মাসুদুর রহমান ওই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে মো. পারভেজকে আটক করা হয়।
তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূইয়া। এ সময় ইউএনওর সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যানের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান ইউএনওকে উদ্দেশ করে বলেন, “কার অনুমতিতে এসেছেন? আমার ইউনিয়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হলে আগে আমাকে জানাতে হবে।”
তখন ইউএনও বলেন, “এটা কোন আইনে আছে?” পাল্টা জবাবে সাইদুল বলেন, “চেয়ারম্যানের আইনে আছে।”
এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে সমালোচনা শুরু হয়। সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এর মধ্যেই রোববার ইউপি চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করা হয়। এর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সাইদুর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সহযোগিতা করার পরিবর্তে ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালীন নির্বাহী হাকিমের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি, আদালতের প্রতি বিরূপ মন্তব্য এবং আদালত অবমাননা করেছেন। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণ করেছেন।
এতে বলা হয়, এটি জনস্বার্থের পরিপন্থি বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪ (৪) এর (ঘ) ধারায় অপরাধ সংঘটিত করায় একই আইনের ৩৪ (১) ধারা অনুযায়ী তাকে পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হল।”
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কী হচ্ছে, তা জানার অধিকার আমার আছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাদের আগে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। আমাকে যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানি না।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, “ঘটনার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল।”