একান্ত আলাপে খালেদা জিয়া ও ড. ইউনূস

২১ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:১২ PM , আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:১২ PM
সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে একান্ত আলাপে খালেদা জিয়া ও ড. ইউনূস

সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে একান্ত আলাপে খালেদা জিয়া ও ড. ইউনূস © সংগৃহীত

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। আজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে  এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তিনি গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে রওনা দেন। সাড়ে ৪টার কিছু আগে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

সেখানে তাকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন অভ্যর্থনা জানান। এরপর অনুষ্ঠানস্থলে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পাশের আসনে বসে বিএনপি চেয়ারপার্সন উপভোগ করেন সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।

গাড়ি থেকে নেমে হুইল চেয়ারে করে তাকে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার পরনে ছিল ল্যাভেন্ডার রঙের শিফন শাড়ি। হাত তুলে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর অবিভাধনের জবাব দেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৌঁছান বিকাল ৪টার দিকে। এরপর জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। তারপর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানান এবং মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

এর কিছুক্ষণ পর সেনাকুঞ্জে পৌঁছান খালেদা জিয়া। শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একান্তে কয়েক মিনিট কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টা এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ নেন এবং তার সুস্থতা কামনা করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের খালেদা জিয়া প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রধান উপদেষ্টার সহধর্মিণী আফরোজী ইউনূসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং শুভকামনা জানান।

পরে তারা যান মূল অনুষ্ঠানস্থলে। সেখানে পাশাপাশি আসনে বসে সরকারপ্রধান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা যায়। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

অসুস্থ খালেদা জিয়ার সঙ্গে একই গাড়িতে ছিলেন তার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথি, খালেদা জিয়ার প্রয়াত ভাই সাঈদ ইসকান্দারের স্ত্রী নাসরিন ইসকান্দার।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের গাড়িবহরের সঙ্গে ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, সালাহ উদ্দিন আহমদ সেনাকুঞ্চের অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, এডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরদাদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান হাসনাত কাইয়ুম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও সেনাকুঞ্চের অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

ছয় বছর পর গতবছর এই সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানেই প্রকাশ্যে দেখা দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। নানা ধরনের অসুস্থতার কারণে এখন তিনি রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেন না। গত এক বছরের মধ্যে কেবল একবারই তাকে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল। গত ৮ অক্টোবর রাতে তিনি তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে শেরেবাংলা নগরে গিয়েছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণের সূচনা করে। দিনব‌্যাপী অনুষ্ঠানে প্রতিবছর দিনটি ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস’ হিসেবে পালন করে বাংলাদেশ।

দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবেই সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যাতে রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, কূটনীতিক ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এক সময় সেনাকুঞ্জের এ অনুষ্ঠান আলোচনায় থাকত অন্য রাজনৈতিক কারণে। দেশের দুই বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া দুজনেই এ অনুষ্ঠানে যেতেন। চির বৈরী এ দুই নেতার সারা বছর দেখা না হলেও সেনাকুঞ্জে তাদের সাক্ষৎ হওয়ার সম্ভাবনা থাকত।

সর্বশেষ ২০১২ সালে নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যেও সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন দুই নেত্রী। তবে সেদিন তাদের কথা হয়নি।

খালেদা জিয়া তখন বিরোধী দলীয় নেতা। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আর কখনো তাকে সেনাকুঞ্জের এ আয়োজনে দেখা যায়নি।

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট পালিয়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে এখন তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের আসামি।

হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের  মৃত্যু 
  • ১৫ মে ২০২৬
ধর্ষণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান ছাত্রমঞ্চের
  • ১৫ মে ২০২৬
স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস ব্যবসায়ীর, অতঃপর...
  • ১৫ মে ২০২৬
আওয়ামী সরকারের কারণে জনগণ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত:…
  • ১৫ মে ২০২৬
হোস্টেলে সমকামিতা: পদ হারালেন সেই দুই ছাত্রদল নেতা
  • ১৫ মে ২০২৬
সিরাজগঞ্জের এতিম রায়হান-রোহানের পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
  • ১৫ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081