‘আমাদের গলা কাটা পর্যায়ে চলে এসেছে টেলিটক’

১২ আগস্ট ২০২৫, ০১:০৭ AM , আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৫, ০২:২৭ PM
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব © সংগৃহীত

‘বিগত সরকার টেলিটককে চূড়ান্ত পর্যায়ে অকার্যকর রেখে গিয়েছে, এটা এখন আমাদের গলা কাঁটা পর্যায়ে চলে এসেছে।’ সোমবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য তার ওই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র মোবাইল অপারেটর হিসেবে টেলিটক দেশজুড়ে প্রতিযোগী অপারেটরদের তুলনায় কম স্পেকট্রাম বরাদ্দ পেয়ে নেটওয়ার্ক সেবা প্রদান করছে। প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু থেকে বিভিন্ন সময়ে তার চাহিদা অনুসারে স্পেকট্রাম চেয়েছে। তবে দেশের সার্বিক গ্রাহক সংখ্যা ও নেটওয়ার্ক পরিকাঠামোর পরিসর বিবেচনায় প্রতিটি স্পেকট্রাম ব্যান্ডেই টেলিটক অন্যান্য অপারেটরের তুলনায় সামঞ্জস্যপূর্ণ বরাদ্দ পায়নি, বরং স্বল্পতর এবং নগণ্য স্পেকট্রাম বরাদ্দ পেয়েছে। 

শুরুর দিকে টেলিটক সিমে নাগরিকদের ব্যাপক চাহিদা থাকার পরেও এক-দেড় দশকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহক একুইজেশন করতে পারেনি বলে টেলিটকের দুর্বল ম্যানেজমেন্ট নিজেও এর জন্য দায়ী বলে মনে করি। বিগত সরকার টেলিটককে চূড়ান্ত পর্যায়ে অকার্যকর রেখে গিয়েছে, এটা এখন আমাদের গলার কাঁটা পর্যায়ে চলে এসেছে। 

দেশের প্রধানতম মোবাইল কোম্পানিগুলোর তুলনায় টেলিটকের বেজ স্টেশন বা মোবাইল টাওয়ার সংখ্যা টুজিতে প্রায় পাঁচ ভাগের একভাগ, ফোরজিতে দশভাগের একভাগ মাত্র। এরকম নগণ্য টাওয়ার দিয়ে মানসম্পন্ন ভয়েস ও ইন্টারনেট সেবাদান প্রায় অসম্ভব। এক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা, গ্রামীণ এলাকার যেখানে টেলিটকের বিনিয়োগ নেই যেখানে তরঙ্গ নষ্ট হচ্ছে। 

আমরা দায়িত্ব নেয়ার পরে টেলিটকের ক্ষেত্রে দেখছি যে, মানসম্পন্ন ফোরজি সেবা দেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটির লো-ব্যান্ড তরঙ্গ একেবারেই নেই, মিড-ব্যান্ডে সামান্য তরঙ্গ রয়েছে, অন্যদিকে আপার মিড-ব্যান্ডে প্রাপ্ত তরঙ্গ ব্যবহারের জন্য কোন বিনিয়োগ ছিল না। আওয়ামী লীগ জি-টু-জি চুক্তিতে কিছু ফান্ড এনেছিল তবে সেটা দুর্নীতির মাধ্যমে অপখরচ ও লুটপাট করেছে, কিছুই অবশিষ্ট নেই। সবমিলে বিগত সরকারের আমলে দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাবে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান বিটিএস সাইট সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় বরাদ্দকৃত স্পেকট্রামের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে সুন্দরবন, হাওর ও পার্বত্য অঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকায় টেলিটকের নেটওয়ার্ক কভারেজ তুলনামূলকভাবে ভালো থাকায় এবং গ্রাহকসেবার চাহিদা পূরণে বরাদ্দকৃত তরঙ্গের ভাল ব্যবহার হচ্ছে, এসব এলাকায় তরঙ্গের স্বল্পতাও আছে।  

টেলিটকের স্পেকট্রাম বরাদ্দের বিপরীতে বিটিআরসির বকেয়া অর্থ ইক্যুইটি খাতে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে বিগত সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ কর্তৃক অর্থ মন্ত্রণালয়ে ইক্যুইটিতে রূপান্তরের একটি প্রস্তাব প্রেরণ করেছে। বিষয়টি নিরসন হলে বকেয়া অর্থ সরকারের এক খাত থেকে অর্থ অন্য খাতে স্থানান্তর করা যাবে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে টেলিটকের স্পেকট্রাম সংক্রান্ত বকেয়া দায় নিষ্পত্তি করা সম্ভব হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের ন্যায় নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটকের অনুকূলে তরঙ্গ বরাদ্দ দেয়া যায় কিনা সেটাও বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে, সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এরূপ জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।

টেলিটক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি হওয়ায় তরঙ্গ ক্রয়ের মুলধন কার্যত সরকারের বরাদ্দকৃত ফান্ডের  উপর বর্তায়। বিভিন্ন মন্ত্রণাল সহ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংস্থা সমূহের মধ্য বকেয়া এবং পাওয়ার দীর্ঘদিন ধরেই চলমান ইস্যু রয়েছে। মন্ত্রণালয় মন্ত্রণালয়ের কাছে এবং একই মন্ত্রণালয়ের দপ্তর সংস্থাগুলোর নিজেদের মধ্যে বকেয়া ও লেনদেনের ইস্যু বিদ্যমান। 

সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পাওনার এসব বিষয় একটি স্বাভাবিক চিত্র। তাই এটাকে ইস্যু করে কৌশলগত খাতের সেবাদানকারী হিসেবে টেলিটকের তরঙ্গ প্রাপ্তি বন্ধ বা এ জাতীয় চিন্তাকে মন্ত্রণালয় এন্টারটেইন করে না। বরং দুর্যোগ প্রবণ অঞ্চলে কভারেজ ক্যাপাসিটি সম্প্রসারণের গুরুদায়িত্ব পালন (যেখানে বাণিজ্যিক প্লেয়াররা যেতে চায় না), বাজার প্রতিযোগিতা ও সিগনিফিক্যান্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএমপি) ঠিক রাখা, গ্রাহক অনুকূলে মোবাইল কল ও ইন্টারনেট মূল্য মান সুরক্ষা এবং তরঙ্গ বরাদ্দ প্রক্রিয়াকে প্রতিযোগিতামূলক রাখার জন্য ভারত ও পাকিস্তান সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি মালিকানাধীন কৌশলগত টেলিযোগাযোগ কোম্পানিকে প্রিমিয়াম স্পেক্ট্রাম বরাদ্দের চর্চা আছে।
১। দুর্যোগ প্রবণ অঞ্চলে ভয়েস, ডেটা এবং ডিজিটাল সেবার কভারেজ ও  ক্যাপাসিটি সম্প্রসারণ (যেখানে বাণিজ্যিক প্লেয়াররা যেতে চায় না, কিংবা তাদের বিনিয়োগ আনুপাতিক হারে কম), 
২। বাজার প্রতিযোগিতা সমন্নুত রাখা, সিগনিফিক্যান্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএমপি) ব্যালান্স ঠিক রাখা, 
৩। গ্রাহক অনুকূলে মোবাইল কল ও ইন্টারনেট মূল্য মান সুরক্ষা এবং 
৪। তরঙ্গ বরাদ্দ প্রক্রিয়াকে প্রতিযোগিতামূলক রাখা।  

এই চারটি বিষয় আমলে নিয়ে সরকারি মালিকানাধীন সেলুলার মোবাইল  সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে তরঙ্গ বরাদ্দ প্রশ্নে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পলিসি  ঠিক কী হওয়া দরকার- সে বিষয়ে আমরা এই খাতে দেশে বিদেশে কর্মরত বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং বিশেষভাবে  নাগরিক প্রত্যাশাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। 

‘জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পথ অনুসরণ করে বিএনপি দেশকে এ…
  • ২০ জানুয়ারি ২০২৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ফ্রি ডেন্টাল চেকআপ 
  • ২০ জানুয়ারি ২০২৬
শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদ ও দেকসুর দাবিতে মানিকগঞ্জে…
  • ২০ জানুয়ারি ২০২৬
‘বিএনপির বলা ভুয়া ডাক্তার’ খালিদুজ্জামানের পক্ষে রোগীর আবেগ…
  • ২০ জানুয়ারি ২০২৬
আগামী ১ জুলাই পুরো মাত্রায় কার্যকর হবে নবম পে স্কেল
  • ২০ জানুয়ারি ২০২৬
রাজশাহী কলেজকে নোটিশ না দিয়েই আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিত…
  • ২০ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9