রাজনৈতিক আশ্রয় পেতেই রাষ্ট্রদূতের এমন স্ট্যাটাস, মরক্কো থেকে পালিয়েছেন কানাডায়

১৫ মার্চ ২০২৫, ১১:০৯ AM , আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৫, ১১:২৯ AM
 মোহাম্মদ হারুন আল রশিদ

মোহাম্মদ হারুন আল রশিদ © ফাইল ফটো

মরক্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হারুন আল রশিদকে গত ১১ ডিসেম্বর দেশে ফিরে মন্ত্রণালয়ে যোগদানের আদেশ দিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নানা অজুহাতে দেশে না ফিরে হারুন গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব ত্যাগ করে চলে যান কানাডায়। রাজনৈতিক আশ্রয় পেতেই তিনি সেখানে অবস্থান করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। শুক্রবার ফেসবুকে এক পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেছেন তিনি।

নিজের ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘ড. ইউনূসের অধীনে নৈরাজ্যের পথে ধাবিত বাংলাদেশ—বিশ্বের নীরবতা বেদনাদায়ক’। ঢাকায় না এসে কানাডায় চলে যাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈধ সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।’

প্রায় তিন মাস আগে সরকারের দাপ্তরিক আদেশ অগ্রাহ্য করে অন্য দেশে চলে গিয়ে নিজেকে ‘নির্বাসিত’ দাবি করা এই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে সরকার। শুক্রবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কূটনীতিক এবং তার পরিবারের সদস্যদের পাসপোর্ট বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মরক্কোতে বাংলাদেশের সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হারুন আল রশিদ তার ফেসবুক প্রোফাইলে একটি লেখা পোস্ট করেছেন, যেখানে তিনি পূর্ববর্তী নিপীড়ক ফ্যাসিবাদী সরকারের গুণকীর্তনের পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে গত ৫ আগস্ট–পরবর্তী বাংলাদেশে পরিস্থিতি ক্রমে নৈরাজ্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে চিত্রিত করার অপচেষ্টা করেছেন। পোস্টে হারুন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রচেষ্টাসহ বাংলাদেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করেছেন।

এতে বলা হয় , প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে বর্তমান বাংলাদেশে বিরাজমান পরিস্থিতি এবং বাস্তবতাকে সম্পূর্ণরূপে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ফেসবুকে এ ধরনের লেখা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং এর বিষয়বস্তু গভীরভাবে উদ্বেগজনক। এরূপ রচনা লেখকের গোপন উদ্দেশ্য বা অসৎ অভিসন্ধির ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করে মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পরিবর্তে তিনি কানাডায় চলে যান এবং সেখান থেকে ফেসবুকে লেখালেখি শুরু করেন। তিনি তার ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিজেকে ‘নির্যাতিত কূটনীতিক’, ‘নির্বাসিত ঔপন্যাসিক’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা মূলত বিদেশে সহানুভূতি অর্জনের অভিপ্রায়ে করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে তার এবং তার পরিবারের পাসপোর্টগুলো বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। মন্ত্রণালয় মোহাম্মদ হারুন আল রশিদের এমন কর্মকাণ্ডের জন্য প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলেছে, মন্ত্রণালয় তার কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারীর এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবে প্রশ্রয় দেয় না এবং ভবিষ্যতেও যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ওদিকে দেশে ফেরার নোটিশ দেয়ার পরও এই কূটনীতিক দেশে না ফেরায় তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কেনো এই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

বাহরাইন বন্দরে মার্কিন পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা: রয়টার্স
  • ০২ মার্চ ২০২৬
মাইক্রোসফটের কার্যালয়ে হামলা করল ইরান
  • ০২ মার্চ ২০২৬
‘আপনি কার সঙ্গে কথা বলেন জানেন’ হুমকি পাওয়া সেই ডিসিকে বদলি
  • ০২ মার্চ ২০২৬
বাংলা উইকিপিডিয়ায় সার্চের শীর্ষে নির্বাচন-বিএনপি, জামায়াতের…
  • ০২ মার্চ ২০২৬
পি টু পি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল
  • ০২ মার্চ ২০২৬
মবের ভয়ে আত্মগোপনে—ভিডিও বার্তায় অভিনেতা যাহের আলভী
  • ০২ মার্চ ২০২৬