১৯তম বিজেএস
প্রশ্ন মাত্রাতিরিক্ত কঠিন, ফল পুনর্মূল্যায়ন দাবি
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন © লোগো
১৯তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় নির্ধারিত ২৫০টি পদের বিপরীতে পাস করেছেন মাত্র ৩৪৩ প্রার্থী। ফলে লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন গড়ে ১ দশমিক ৩৭ জন প্রার্থী। গত ৩১ অক্টোবর (শনিবার) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকার তিনটি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন রবিবার (১ নভেম্বর) ফল প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জুডিশিয়াল সার্ভিস প্রাথমিক পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়ার জন্য ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ১৯তম বিজেএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মধ্যে ৩৪৩ জন প্রার্থী নির্ধারিত এই ন্যূনতম উত্তীর্ণ নম্বর অর্জনে সক্ষম হয়েছেন।
জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের ১৫০তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ন্যূনতম নম্বর পাওয়া এই ৩৪৩ জন প্রার্থীকেই লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, প্রকাশিত প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফলে কোনো অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা সংশোধনের অধিকার কমিশন সংরক্ষণ করে।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এই ৩৪৩ জন প্রার্থীর জন্য পরবর্তী ধাপে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরবর্তী সময়ে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) মুখোমুখি হতে হবে। লিখিত পরীক্ষার বিস্তারিত তারিখ, সময় ও স্থানসংক্রান্ত সময়সূচি শিগগিরই জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (www.bjsc.gov.bd) ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
প্রশ্ন মাত্রাতিরিক্ত কঠিন, ফল পুনর্মূল্যায়ন দাবি
প্রকাশিত এই প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল আমাদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে দাবি করে ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে অনুত্তীর্ণরা আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। আজ সোমবার (২ নভেম্বর) দেওয়া স্মারকলিপিতে তারা দুটি বিষয় উপস্থাপন করছেন।
১) ফলাফলের বাস্তব চিত্র
১৯তম বিজেএস পরীক্ষায় সিভিল জজ পদে রেকর্ড ২৫০টি শূন্য পদের বিপরীতে ৮৪৭২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৩৪৩ জন; অর্থাৎ সামগ্রিক পাসের হার মাত্র ৪.০৬ শতাংশ। বিগত দুটি পরীক্ষার সঙ্গে তুলনা করলে এর অস্বাভাবিকতা স্পষ্ট হয়।

১৭তম বিজেএস পরীক্ষায় ১০০ পদের বিপরীতে প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ ৬০৩ জন। পদের বিপরীতে অনুপাত প্রায় ১: ৬.০৩। ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় ১০০ পদের বিপরীতে প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ ১,০৫০ জন। পদের বিপরীতে অনুপাত প্রায় প্রায় ১: ১০.৫। ১৯তম বিজেএস পরীক্ষায় নির্ধারিত ২৫০টি পদের বিপরীতে পাস করেছেন মাত্র ৩৪৩ প্রার্থী। ফলে লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন গড়ে ১ দশমিক ৩৭ জন প্রার্থী।
সাধারণত জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন প্রিলিমিনারিতে মোট পদের ৬ থেকে ১০ গুণ প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষার সুযোগ দিয়ে থাকে। এবার সেই অনুপাত নেমে এসেছে প্রায় ১: ১.৩৭-এ। বিগত পরীক্ষাগুলোতে যেখানে ১০০টি পদের বিপরীতে ছয় শতাধিক থেকে এক হাজারেরও বেশি প্রার্থী উত্তীর্ণ হতেন, সেখানে ২৫০টি পদের বিপরীতে মাত্র ৩৪৩ জনের উত্তীর্ণ হওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।
আমাদের বিবেচনায়, মাত্র এক ঘণ্টার এই স্ক্রিনিং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মাত্রাতিরিক্ত কঠিন ও অতিবিশ্লেষণধর্মী হওয়া এবং কঠোর নেগেটিভ মার্কিংয়ের কারণে বিপুলসংখ্যক মেধাবী পরীক্ষার্থী নির্ধারিত কাট-অফ মার্কস স্পর্শ করতে পারেননি। যাঁরা উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাঁরা অযোগ্য নন।
২) ফলাফলের সম্ভাব্য প্রভাব
এই ফলাফল বহাল থাকলে বিচার বিভাগ দুটি সংকটের মুখে পড়তে পারে।
ক) শূন্য পদ পূরণে ব্যর্থতা
বিজেএসের নিয়ম অনুযায়ী ১০০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় সামগ্রিকভাবে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হয় এবং যেকোনো একটি আবশ্যিক বিষয়ে ৩০ নম্বরের কম পেলে প্রার্থী অনুত্তীর্ণ হন। মাত্র ৩৪৩ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ধাপ পেরিয়ে ২৫০টি পদ সম্পূর্ণ পূরণ হওয়া অত্যন্ত দুরূহ; ফলে বেশিরভাগ পদ শূন্য থেকে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। এজন্য ৩৪৩ জন প্রার্থীর জন্য লিখিত পরীক্ষায় ১:৪ বা ১:৮ জন করে ন্যূনতম ১২৫০ জনকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া জরুরি।
খ) প্রিলিমিনারির মূল চরিত্র ক্ষুণ্ন হওয়া
প্রিলিমিনারির উদ্দেশ্য বিশালসংখ্যক আবেদনকারীর মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাই করা; এটি চূড়ান্ত মেধা যাচাইয়ের স্থান নয়। প্রশ্নপত্রকে লিখিত বা ভাইভার মতো জটিল করা হলে অনেক সম্ভাবনাময় আইন গ্র্যাজুয়েট, যারা লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করতে পারতেন, শুরুতেই প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়েন। এতে পরীক্ষার্থীদের মূল্যবান সময়, শ্রম, অর্থ ও মেধার অপচয় ঘটে।