মেডিকেল ছেড়ে ঢাবির আইনে ভর্তি, প্রথমবারেই বিচারক হলেন শাওলিন

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৪ PM
সৈয়দা শাওলিন আকতার আলো

সৈয়দা শাওলিন আকতার আলো © টিডিসি সম্পাদিত

১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে সারাদেশে মেধাতালিকায় পঞ্চম স্থান অর্জন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দা শাওলিন আকতার আলো। সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ ছেড়ে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করা শাওলিন এখনও তার স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেননি। অ্যাপিয়ার্ড সনদ দিয়েই বাজিমাত করেছেন তিনি।

১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় প্রথমবার অংশ নিয়েই সারাদেশে ৫ম স্থান অর্জন করেছেন। এই বিশাল অর্জনে তার পরিবারের অনুভূতি কেমন প্রশ্নে তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, আমার সফলতায় সবার অনুভূতিই আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো। বিশেষ করে আমার বাবা রেজাল্ট শোনার পর অনেক বেশি আবেগ আপলুত হয়ে পড়েছিলেন।

শাওলিনের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায়। তার বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ আলী একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তারা দুই ভাই বোন। তার স্কুল এবং কলেজ জীবন কেটেছে গাইবান্ধাতেই। তিনি ২০১৮ সালে এসএসসি এবং ২০২০ সালে এইচএসসি পাস করেন। বর্তমানে তিনি ঢাবিতেই মাস্টার্স করছেন।

রেজাল্ট প্রকাশের মুহূর্তে আপনার অনুভূতি কী সেই প্রশ্নে তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, সেদিন বিকেল বেলা যখন দেখলাম রেজাল্ট দিচ্ছে দিচ্ছে—এমন একটা অবস্থা, তখন ভয়ে পেয়ে নামাজের জন্য অজু করে আসি। ভেবেছিলাম অজু করে এসে রেজাল্ট খুলে দেখব। তালিকা দেখার সময় ১, ২, ৩, ৪ এবং ৫ নাম্বারে গিয়ে যখন নিজের রোলটা দেখলাম, আবেগে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি, কান্নাই করে দিয়েছিলাম। সাথে সাথেই মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছি।

শাওলিনের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায়। তার বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ আলী একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তারা দুই ভাই বোন। ছোট ভাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ৩য় বর্ষে অধ্যয়নরত রয়েছে। তার স্কুল এবং কলেজ জীবন কেটেছে গাইবান্ধাতেই। তিনি ২০১৮ সালে এসএসসি এবং ২০২০ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ২০২০-২১ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি ঢাবিতেই মাস্টার্স করছেন। 

আপনি মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েও কেন সেখানে পড়েননি সেই প্রশ্নে তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, হ্যাঁ, আমি প্রথমে পাবনা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম এবং সেখানে চান্স পেয়েছিলাম। কিন্তু আমার ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল আমি বিচারক হব। তাই পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় 'ডি' ইউনিট থেকে ১৬তম পজিশন নিয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হই।

মেডিকেল ছেড়ে আসার পর থেকে সবাই আমাকে অনেক ভয় দেখাত—"তুমি ডাক্তার হইলা না, এই ক্যারিয়ার তো অনিশ্চিত" কিংবা "তুমি কখনো জুডিশিয়ারি ক্র্যাক করতে পারবে কিনা" এরকম নানা সন্দেহ ছিল অনেকের। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি রানিং স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় প্রথমবারের চেষ্টাতেই রেকমেন্ডেড হয়েছি।

ঢাবির একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিজেএসের প্রস্তুতি নেওয়াটা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল প্রশ্নে তিনি জানান, একাডেমিক পড়ালেখা অনেক বেশি এবং অনেক ভার্সেটাইল। আমাদের প্রতিদিন ক্লাস করতে হয়, ক্লাসের পড়া পড়তে হয়। তার পাশাপাশি বিজিএসের বা চাকরির পড়া পড়াটা আমাদের জন্য একটু টাফ ছিল। এজন্য বলা চলে আমাদের 'ওভারটাইম' করতে হয়েছে। ইউনিভার্সিটির পড়া, ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট সবকিছু গুছিয়ে তারপরে চাকরির প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। এর আগে আমি কখনো বিজিএস বা জুডিশিয়ারি দেইনি, এটাই ছিল আমার প্রথম পরীক্ষা এবং আমি অ্যাপিয়ার্ড সার্টিফিকেট দিয়েই পরীক্ষাটি দিয়েছিলাম।

ক্যারিয়ার ভাবনায় যারা বিভ্রান্তিতে ভোগে, তাদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী প্রশ্নে তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, আমি সবাইকে বলতে চাই যে, ক্যারিয়ারকে আসলে শুধু ‘ডাক্তার’ বা ‘ইঞ্জিনিয়ার’ দিয়ে সীমাবদ্ধ করে ফেলা উচিত না। এর বাইরেও অনেক প্রফেশন আছে এবং সেখানে মানুষ অনেক ভালো করছে। আমাদের মন যেখানে চায়, আমাদের আবেগ-অনুভূতি যে পেশাকে চায়, সেটা যদি আমরা মন থেকে চাই এবং পরিশ্রমের প্রতি সততা ধরে রাখি, তবে যেকোনো ফিল্ডেই ভালো করা সম্ভব—যদি সেখানে আমাদের নিজস্ব প্যাশন থাকে।

এইচএসসি: জীবন গড়ার টার্নিং পয়েন্ট
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডুমস্ক্রোলিং: অন্তহীন স্ক্রলে হারিয়ে যাওয়া মন
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাবির সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ড. ইব্রাহিম আর নেই
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেডিকেল ছেড়ে ঢাবির আইনে ভর্তি, প্রথমবারেই বিচারক হলেন শাওলিন
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘে তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপত…
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে জাইমা রহমানের লি…
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬