গেজেটে আটকে গেল ১৩ সুপারিশপ্রাপ্ত বিজেএস ক্যাডারের বিচারক হওয়ার স্বপ্ন—কারণ অজানা

২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:০৮ PM , আপডেট: ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:০৮ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © এআই সম্পাদিত

১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়ারি সার্ভিস কমিশন (বিজেএস) পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও গেজেটভুক্ত করা হয়নি ১৩ বিজেএস ক্যাডারকে। দীর্ঘ প্রস্তুতি, কঠিন প্রতিযোগিতা ও কমিশনের সুপারিশে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও গেজেট প্রকাশে তাদের নাম বাদ পড়ায় হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে এসব হবু বিচারক ও তাদের পরিবারের মধ্যে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ১ হাজার নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন মোট ১০২ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করে। 

প্রায় ১০ মাস অপেক্ষার পর গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) আইন মন্ত্রণালয় যে নিয়োগ-গেজেট প্রকাশ করে, সেখানে মাত্র ৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং বাকি ১৩ জনকে কোনো কারণ উল্লেখ না করেই বাদ দেওয়া হয়। এতে তাদের বিচারক হওয়ার স্বপ্ন গেজেটে আটকে গেল।

সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেটভুক্ত না হওয়া ১৩ জন হচ্ছেন— রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তানসেনা হোসেন মনীষা, অনিক আহমেদ, মাহমুদুল ইসলাম মুন্না ও গগন পাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিশাত মনি, নাহিম হাসান, মো. রেজাউল ইসলাম ও সাজ্জাদুল হক। এছাড়াও রয়েছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদিকুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইমন সৈয়দ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মামুন হোসেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুব্রত পোদ্দার এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হুমায়রা মেহনাজ।

আরও পড়ুন : হতাশ সুপারিশপ্রাপ্ত ১০২ বিজেএস ক্যাডার, ছয় মাসেও হয়নি গেজেট

গেজেটভুক্ত না হওয়া এসব প্রার্থীরা জানান, তাদের কারও বিরুদ্ধেই কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক বা ফৌজদারি মামলা নেই। তারা সম্পূর্ণরূপে মেধা, যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই বিচারক হওয়ার সুপারিশ লাভ করেছেন। তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত পরিচয় নয়, বরং আত্মীয়স্বজনের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে, যা তাদের ভাষায় সংবিধান, ন্যায়সংগত প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও সুশাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তানসেনা হোসেন মনীষা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমি ১৭শ বিজেএস পরীক্ষায় ২৫তম মেধাক্রমে সুপারিশপ্রাপ্ত হই। মেডিকেল পরীক্ষা ও ভেরিফিকেশনসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া যথাসময়ে এবং যথাযথভাবে সম্পন্ন করি। আমার নামে কোনো প্রকার দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা নেই। আমার ক্যাম্পাস বা ক্যাম্পাসের বাইরে কোথাও কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। তারপরও প্রকাশিত গেজেটে আমাকে গেজেটভুক্ত করা হয়নি। আমি জানি না কেন বা কী কারণে আমাকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত করার পরেও বাদ দেওয়া হলো। আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে খুবই ভেঙে পড়েছি। 

আরেক ভুক্তভোগী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইমন সৈয়দ বলেন, আমার নামে কোনো দেওয়ানী বা ফৌজদারি মামলা নেই। আমার ক্যাম্পাস বা ক্যাম্পাসের বাইরে বা এলাকায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক মিছিল-মিটিং-সভা কোনো কিছুতেই অংশগ্রহণ করিনি। কিন্তু গতকাল প্রকাশিত গ্যাজেটে নিজের নাম না দেখে আমার মন ভেঙে যায়। কোন ইস্যুতে আইন মন্ত্রণালয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদৌ জানি না। রিকমন্ডেড হওয়ার দীর্ঘ সময় ধরে গেজেটের অপেক্ষায় ছিল আমার পুরো পরিবার। আমার বৃদ্ধ মা যার বয়স ৮৬ বছর যিনি তাকিয়ে আছেন আমার দিকে। আমার মা অসুস্থ হয়ে গেছেন। গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার কারণে আমার পরিবার হেনস্তার শিকার হবেন। এর দায় কে নেবেন? আমি রিভ্যারিফিকেশন চাই না। আমি বাকিদের সাথে ১ তারিখ জয়েন করতে চাই।

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান বলেন, আমার পুরো অ্যাকাডেমিক জীবনে আমি কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিটিং, মিছিল বা কোনো ধরনের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম না। আমার নামে কখনোই কোনো ফৌজদারি মামলাও নেই। আমার পরিবার কোন ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শের না। এমনকি কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত নেই। জুডিশিয়ারিতে টিকতে কত পরিশ্রম করতে হয় তা কাকে বোঝাব? আমাদের পরিশ্রমের কোনো মূল্য নেই? আমি বাকিদের সাথেই ১ ডিসেম্বর জয়েন করতে চাই।

আরেক ভুক্তভোগী মাহমুদুল হোসেন মুন্না বলেন, আমাদের জুডিশিয়ারির লিখিত পরীক্ষা পেছানোর সাথে সাথে ক্যাম্পাসে গেছি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে। বৈষম্য দূর হবে এমন আশা নিয়ে নতুন বাংলাদেশে আমিসহ ১৩ জন সুপারিশপ্রাপ্ত বিচারক গেজেট বঞ্চিত হয়ে এক বিশাল বৈষম্যের শিকার হলাম। খুবই কষ্ট পাচ্ছি। আমাদের একটাই দাবি আগামী কর্মদিবস, রবিবারে আমাদের সকলের গেজেটের ব্যবস্থা করা হোক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাহিম হাসান বলেন, আমি এবং আমার পরিবারের কেউ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই এবং আমি আমার ক্যাম্পাস লাইফে হলের অনাবাসিক ছাত্র ছিলাম। আমার নামে কোনো প্রকারের দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা নেই। তবুও গেজেট বঞ্চিত হলাম। এ দুঃখ কই রাখি? আমি চাই বৈষম্য না করে সবাই যেন একসাথে চাকরিতে জয়েন দিতে পারি সেই ব্যবস্থা করা হোক।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সরদার কাইসার আহমেদ ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, সুব্রত পোদ্দার (ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী) বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী—যাকে সংগ্রাম, অধ্যবসায়, সততা ও নৈতিকতার প্রতীক হিসেবে দেখা যায়। আমরা তার প্রতি কোনো ধরনের অবিচার আশা করি না, কিংবা তার সাথে কোনো অন্যায় হোক, তা মেনে নেওয়া যায় না।

জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবু নাসের মোহাম্মদ ওয়াহিদ বলেন, এ সমস্ত প্র্যাকটিস তো আগে ছিল এবং যেকারণে গণআন্দোলন হলো। বলা হলো যে, মেধাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, এ সমস্ত প্র্যাকটিস বন্ধ হবে, পরিবর্তন হবে দেশের। সে কারণে মানুষের একটা আকাঙ্ক্ষা ছিল; তবে সেই গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি একটি কাজ হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমার এর বেশি মন্তব্য করার কিছু নাই।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, এটা চরম অযৌক্তিক। আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত থাকলে তার চাকরি হবে না— এটা তো অসাংবিধানিক। সে যদি কোনো নিপীড়নের সাথে যুক্ত থাকে সেটা ভিন্ন বিষয়। বিগত সরকারের আমলে এগুলো হতো—তখনও আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি৷ পৃথিবীর কোথাও বাবার পরিচয়ে ছেলের চাকরি হয় না। বাবার জন্য ছেলে চাকরি পাবে না, এটা মোটেও ভালো কিছু না এবং আমি মনে করি কর্তৃপক্ষের এটা পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত।

টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন মহম্মদ শামি
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রতি আসনে হবে দুটি করে মডেল স্কুল, নিয়োগ পাচ্ছেন ২৭ হাজার …
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
শিক্ষা সফরের আনন্দ রূপ নিল বিভীষিকায়, প্রাণ হারালেন শিক্ষিক…
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশকে বড় সুখবর দিল ভারত
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
শিক্ষার ৬ প্রকল্পকে আমলা-কর্মকর্তা-কর্মচারী-শিক্ষকদের আর্থি…
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটে প্রভাষক …
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950