কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের অনিশ্চিত ভবিষ্যত, ভিন্ন পেশায় শিক্ষকরা

করোনার কারণে চাকরি ছাড়ছেন কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকরা
করোনার কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত  © ফাইল ফটো

করোনাকালে দেশের প্রায় ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পড়াশোনা বন্ধ প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থীর। এরমধ্যে নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়া প্রায় পুরোপুরি বন্ধ। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও তাদের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেই। ফলে এসব স্কুলের শিশুদের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এমনটি অনেক কিন্ডার গার্টেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশুরা কোথায় পড়বে তাও তাদের জানা নেই।

করোনার কারণে ইতোমধ্যে চলতি বছরের জেএসসি, পিইসি ও এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষাও নেওয়া হবে না। এতে কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর সমস্যা বেড়েছে। অবশ্য আগামী বছরের শুরুতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সর্বশেষ আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছুটি আরও বাড়তে পারে।

কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, কেরোনার কারণে দেশে অন্তত এক হাজার কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়ে গেছে। ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুললে আরো ২০ হাজার কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এরমধ্যে অনেকে স্কুল বিক্রির নোটিশ দিয়েছে, তবে অধিকাংশই সাড়া পাননি। এসব প্রতিষ্ঠানের অন্তত ১০ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী পেশা পরিবর্তন করেছেন। অনেকে নানা ধরনের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। আবার অনেকে গ্রামে ফিরে গেছেন।

রাজধানীর ইব্রাহীমপুরের ফুলকুঁড়ি কিন্ডারগার্টেনের দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাবা মো. আসাদ বলেন, ‘আমি তেমন পড়ালেখা জানি না, স্ত্রীও জানে না। সেজন্যই ছেলেকে কিন্ডারগার্টেনে দিয়েছি, যাতে ভালো পড়ালেখা শিখতে পারে। কিন্তু স্কুল বন্ধের পর ছেলের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে।’

রাজধানীর জুরাইনের স্কলার্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে স্কুলের পরিচালক ইমন আহমেদ বলেন, ‘মার্চের পর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আর টিউশন ফি পাইনি। বার্ষিক পরীক্ষার মাধ্যমে স্কুল চাঙ্গা হবে আশা ছিল। এ বছর স্কুল না খুললে চালিয়ে রাখাই কষ্টকর হয়ে পড়বে।’

বাংলাদেশে কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান এম ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, ‘আমরা টিউশন ফি পাই না, শিক্ষকদের বেতনও দিতে পারছি না। শিক্ষার্থীদেরও খোঁজখবর রাখতে পারছি না। শিক্ষার্থীরা টিভিতে ক্লাস দেখছে না, পড়ালেখাও করছে না। বর্তমানে সর্বত্র লোক সমাগম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। কওমি মাদরাসা খুলেছে, ইংলিশ মিডিয়ামে পরীক্ষা হচ্ছে। তাহলে কিন্ডারগার্টেন খুলতে সমস্যা কোথায়?’ বিষয়টি নিয়ে আদালতে রিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যেসব কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়ে গেছে বা যেসব অভিভাবক গ্রামে চলে গেছেন, তাঁদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে টিসি ছাড়াই ভর্তি করাতে পারবেন। এ ব্যাপারে সার্কুলার জারি করা হয়েছে। আমরা চাই, সব শিক্ষার্থীই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসুক, সেই ক্যাপাসিটি আমাদের আছে।’

আকরাম-আল হোসেন আরো বলেন, ‘কোনো স্কুলের জন্য আলাদা ভাবার সুযোগ নেই। সব একসঙ্গে খুলবে। সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিচ্ছেন। স্কুল খোলার পর শিক্ষকরা অভিভাবকদের বুঝিয়ে স্কুলে আনবেন শিশুদের। আগামী বছর থেকে উপবৃত্তি ১০০ টাকার বদলে ১৫০ টাকা করার পাশাপাশি এক হাজার টাকা অ্যালাউন্স দেব। সব স্কুলেই মিড ডে মিল চালু করব।’ এতে কোনো শিক্ষার্থীই স্কুলের বাইরে থাকবে না বলে জানান তিনি।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ