ইসমাইল এলফাত © টিডিসি ফটো
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্তের কারণে আলোচনায় এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রেফারি ইসমাইল এলফাত। সেই রেফারিকেই এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে ফিফা। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচে প্রধান রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ৪৪ বছর বয়সী এলফাত।
চলতি বিশ্বকাপে এটি হবে তার চতুর্থ ম্যাচ। যদিও এই বিশ্বকাপেই তার কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তবে আর্জেন্টিনার জন্য তিনি একেবারে অপরিচিত নন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালেও তিনি চতুর্থ রেফারি ছিলেন।
চলতি বিশ্বকাপে এলফাত প্রথমে গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস ও জাপানের ২-২ গোলের ড্র ম্যাচ পরিচালনা করেন। এরপর স্পেনের ১-০ গোলে উরুগুয়েকে হারানোর ম্যাচেও দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ব্রাজিল ও নরওয়ের শেষ ষোলোর ম্যাচে রেফারির দায়িত্বে ছিলেন। সেই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে নরওয়ে।
এই তিন ম্যাচে তিনি মোট আটটি হলুদ কার্ড এবং একটি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। লাল কার্ডটি দেখানো হয় উরুগুয়ের আগুস্তিন কানোব্বিওকে। ম্যাচের শেষ দিকে স্পেনের পাউ কুবার্সির ওপর বিপজ্জনক ট্যাকল করায় তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। সেই ম্যাচেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় উরুগুয়ে।
বিশেষ করে স্পেন-উরুগুয়ে ম্যাচে এলফাতের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা করে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম। তাদের অভিযোগ ছিল, ম্যাচে একাধিক কঠোর ট্যাকল হলেও তিনি যথেষ্ট কঠোর অবস্থান নেননি। সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় উরুগুয়ের রদ্রিগো বেন্তানকুরের একটি ট্যাকল নিয়ে। ওই ট্যাকলে স্পেনের ইনিয়াকি উইলিয়ামস চোট পেয়ে কয়েকটি ম্যাচের জন্য মাঠের বাইরে চলে যান। কিন্তু এলফাত সেই ঘটনায় শুধু হলুদ কার্ড দেখান।
ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচেও একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন এই মার্কিন রেফারি। নরওয়ের ডিফেন্ডার ক্রিস্টোফার আইয়ার ব্রাজিলের মাতেউস কুনিয়াকে ফাউল করলেও শুরুতে তিনি পেনাল্টি দেননি। পরে ভিএআরের হস্তক্ষেপে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পেনাল্টি দেন। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ব্রুনো গিমারায়েস।
একই ম্যাচে ব্রাজিল আরও একটি পেনাল্টি পায়। সেই পেনাল্টি থেকে নেইমার গোল করলেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি কার্লো আনচেলত্তির দল। ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের হতাশা ও ক্ষোভও স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
ইসমাইল এলফাত মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৮ বছর বয়সে যন্ত্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে যান। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। পরে খেলোয়াড়ি জীবন ছেড়ে রেফারিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেন এবং ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা রেফারিতে পরিণত হন।
২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রোগ্রামের মাধ্যমে তিনি দেশটির নাগরিকত্ব পান। বর্তমানে সেই কর্মসূচি স্থগিত রয়েছে।
২০১৬ সাল থেকে তিনি ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারিদের তালিকায় আছেন। তার ক্যারিয়ারের বড় একটি অংশ কেটেছে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস)। সেই সূত্রে লিওনেল মেসির ম্যাচও পরিচালনা করেছেন তিনি। ২০২৩ সালের লিগস কাপের ফাইনালে ইন্টার মায়ামি ও ন্যাশভিলের ম্যাচে তিনিই রেফারির দায়িত্বে ছিলেন। ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে জিতে শিরোপা জেতে মেসির ইন্টার মায়ামি।
এলফাত এরই মধ্যে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, গোল্ড কাপ, অলিম্পিক, অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপের মতো বড় বড় টুর্নামেন্টে ম্যাচ পরিচালনা করেছেন।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ম্যাচও পরিচালনা করেছেন তিনি। টোকিও অলিম্পিকে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ১-১ গোলের ড্র ম্যাচে রেফারির দায়িত্বে ছিলেন এলফাত। সেই ম্যাচে জয় না পাওয়ায় অলিম্পিক থেকে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। বর্তমান দলের ফাকুন্দো মেদিনা ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ওই ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন।
এটি এলফাতের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তিনি পর্তুগাল-ঘানা, ক্যামেরুন-ব্রাজিল এবং জাপান-ক্রোয়েশিয়ার শেষ ষোলোর ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন। এবার আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে তাকে সহায়তা করবেন তার স্বদেশি সহকারী রেফারি কোরি পার্কার ও কাইল অ্যাটকিনস। আর চতুর্থ রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন ইতালির মাউরিজিও মারিয়ানি।