কোলাজ ছবি © টিডিসি সম্পাদিত
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার লড়াইয়ে শনিবার রাতে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লেখার সুযোগ নিয়ে মাঠে নামবে নরওয়ে, আর টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে ওঠা ইংল্যান্ড চাইবে নিজেদের শিরোপা অভিযানে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে।
কোয়ার্টার ফাইনালের এই ম্যাচটি শুরু হবে শনিবার রাত ৩টায়। নরওয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে উঠেছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতে নিয়মিত শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে। তবে এবার দুই দলের সামনে লক্ষ্য একটাই—জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা।
নরওয়ের এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা এরই মধ্যে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ফিরে তারা বিদায় করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। সেই জয়ের পর নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাকেন এটিকে দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
সোলবাকেন বলেন, ‘এটি নরওয়েজিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন।’
ব্রাজিলকে হারানোর পর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে নরওয়ের। তবে কোচ সোলবাকেন মনে করেন, তাদের সাফল্যের মূল কারণ দলীয় শক্তি ও ঐক্য।
তিনি বলেন, ‘এটি একটি দুর্দান্ত দল। আমাদের একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি আছে এবং আমরা প্রত্যেককে তার মতো করে থাকার সুযোগ দিই।’
আর্লিং হালান্ডকে ঘিরে নরওয়ের আক্রমণভাগ সবচেয়ে বড় শক্তি। ব্রাজিলের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার। পাশাপাশি মার্টিন ওডেগার্ড ও স্যান্ডার বের্গের মতো খেলোয়াড়রা মাঝমাঠে নরওয়েকে শক্তিশালী করেছে।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডও আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে। মেক্সিকোর বিপক্ষে কঠিন ম্যাচ জিতে শেষ আট নিশ্চিত করেছে তারা। দলের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট না হলেও ফলের দিক থেকে সফল ইংলিশরা।
কোচ টমাস টুখেল সেই ম্যাচের গুরুত্ব বোঝাতে বলেন, ‘এটাকে কখনোই রাউন্ড অফ সিক্সটিনের ম্যাচ বলে মনে হয়নি। মনে হয়েছে যেন ফাইনাল।’
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ইংল্যান্ডের একাদশ নিয়েও কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে টুখেলকে। রিস জেমসকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে জ্যারেল কোয়ানসাহ নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারবেন না। ফলে রক্ষণভাগে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হলুদ কার্ডের ঝুঁকিতে থাকায় একাদশ নির্বাচনেও সতর্ক থাকতে হবে ইংল্যান্ড কোচকে।
ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হবে আর্লিং হালান্ড ও জুড বেলিংহ্যামের দ্বৈরথ। বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সেরা দুই ফুটবলার তারা। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে একসঙ্গে খেলার সময় থেকেই একে অপরকে ভালোভাবে চেনেন।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন দুজন। এবার একজন চাইবেন নরওয়েকে ইতিহাসের আরও কাছে নিয়ে যেতে, অন্যজন চাইবেন ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দিতে।
ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে নরওয়ে, আর বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য ধরে রাখতে ইংল্যান্ডের সামনে এখন বড় পরীক্ষা—ভাইকিংদের থামানো।