কোলাজ ছবি © সংগৃহীত
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ রাতে মাঠে নামছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল স্পেন ও বেলজিয়াম। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে কোয়ার্টার ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচটি। ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের সামনে এবার চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছে টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়ানো বেলজিয়াম।
যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে বেলজিয়াম। টুর্নামেন্টে তাদের পথচলা ছিল নানা নাটকীয়তায় ভরা। অন্যদিকে স্পেন শুরুতে কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। পর্তুগালকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পাশাপাশি তারা গড়েছে বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে গোল না খাওয়ার অনন্য রেকর্ড।
গ্রুপ পর্বে সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারানোর পাশাপাশি কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এইচ’-এর শীর্ষে ছিল স্পেন। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা। শেষ ষোলোতে ইবেরিয়ান ডার্বিতে পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
অন্যদিকে, বেলজিয়াম গ্রুপ ‘জি’-তে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে এবং ইরান ও মিশরের সঙ্গে ড্র করে ৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে নকআউট পর্বে ওঠে। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ অতিরিক্ত সময়ে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারায় তারা। শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে এখন স্পেনের সামনে দাঁড়িয়েছে বেলজিয়াম।
ফিফা র্যাংকিংয়ে স্পেনের অবস্থান তৃতীয়, আর বেলজিয়াম রয়েছে অষ্টম স্থানে। তবে র্যাংকিংয়ের ব্যবধানের চেয়েও বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে। স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে। বল দখল, পাসিং ও রক্ষণে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে দলটি এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তবে বেলজিয়ামও আত্মবিশ্বাসী। গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া মনে করেন, স্পেনকে হারানোর মতো সামর্থ্য তাদের রয়েছে। বুধবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের সবাই বিশ্বাস করে যে এটা সম্ভব। আমি মনে করি আমাদের এমন একটি শক্তিশালী দল আছে যার গুণাবলী স্পেনকে মাথায় রাখতে হবে।’
কোর্তোয়া আরও বলেন, ‘ফুটবলে সবসময়ই চমক থাকে এবং আমি মনে করি আমরাও একটা চমক দিতে পারি। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করাটা হবে একটা মস্ত বড় অঘটন। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে। মানুষ আমাদের ওপর কিছুটা হতাশ ছিল, কিন্তু আমরা সেটা শুধরে নিয়েছি। আমরা দিন দিন আরও ভালো খেলছি।’
বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রোমেলু লুকাকুর জন্যও এই বিশ্বকাপ বড় সুযোগ। এবারের আসরে তিন গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। এছাড়া লিয়েন্দ্রো ট্রোসার্ড দুই গোল ও দুই অ্যাসিস্ট করে নজর কেড়েছেন। চার্লস ডি কেটেলিয়ারে ও ইউরি টিলেমানসও করেছেন দুইটি করে গোল।
অন্যদিকে, নিজের প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে আসা লামিন ইয়ামাল এখনো পুরোপুরি নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে পারেননি। তবে বার্সেলোনার এই তরুণ তারকার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট স্পেনের মিডফিল্ডার দানি ওলমো।
ইয়ামালকে নিয়ে ওলমো বলেন, ‘সে তার ড্রিবলিং এবং উপস্থিতি দিয়ে দলে দারুণ অবদান রাখছে। সে যখন বল পায়, প্রতিপক্ষের দুই-তিনজন খেলোয়াড় তাকে আটকাতে আসে, যার ফলে মাঠে আমাদের অন্য খেলোয়াড়দের জন্য জায়গা তৈরি হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘লামিন গোল করে এবং অ্যাসিস্ট করে। সে তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই এটা করে আসছে। আর সে যদি গোল নাও পায়, তাও মাঠের কঠোর পরিশ্রম দিয়ে সে আমাদের সাহায্য করে যাবে।’
অপ্টা সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস বলছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৫৯.৩ শতাংশ। বেলজিয়ামের জয়ের সম্ভাবনা ১৮.৩ শতাংশ। আর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে ২২.৪ শতাংশ।
এই ম্যাচে জয়ী দল সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্সের। আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল।
বিশ্বকাপে এর আগে দুইবার মুখোমুখি হয়েছে স্পেন ও বেলজিয়াম। দুদলই একটি করে ম্যাচে জয় পেয়েছে। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে ৫-৪ গোলে স্পেনকে হারিয়েছিল বেলজিয়াম। এরপর ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে স্পেন ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।
স্পেনের সম্ভাব্য একাদশ (৪-২-৩-১)
উনাই সিমন (গোলরক্ষক); পেড্রো পোরো, পাউ কুবারসি, আইমেরিক লাপোর্তে, মার্ক কুকুরেয়া; রদ্রি, পেদ্রি; লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো, আলেক্স বায়েনা; মিকেল ওয়ারজাবাল।
বেলজিয়ামের সম্ভাব্য একাদশ (৪-৩-৩)
থিবো কোর্তোয়া (গোলরক্ষক); টিমোথি কাস্তাগনে, ব্র্যান্ডন মেচেলে, নোয়াহ এনগয়, মাক্সিম ডি কুইপার; ইউরি টিলেমানস, নিকোলাস রাসকিন, হ্যান্স ভানাকেন; ডোডি লুকেবাকিও, চার্লস ডি কেটেলিয়ারে, লিয়েন্দ্রো ট্রোসার্ড।
বেলজিয়ামের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে মিডফিল্ডার আমাদু ওনানার ইনজুরি। ডান হাঁটুর এসিএল চোটের কারণে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে আর খেলতে পারবেন না তিনি। তবে স্পেন দলে এখন পর্যন্ত কোনো ইনজুরির সমস্যা নেই।