কোলাজ ছবি © সংগৃহীত
বিশ্বকাপের শেষ লড়াই যত ঘনিয়ে আসছে, ততই পরিষ্কার হচ্ছে কারা নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে টুর্নামেন্টে আলাদা ছাপ ফেলেছেন। গোল, অ্যাসিস্ট, নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের জন্য অবদান—সবকিছু বিবেচনায় ফুটবল বিশ্বের সেরা তারকাদের নিয়ে তৈরি হয়েছে সেরা খেলোয়াড়ের তালিকা। আর সেই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
বিশ্বকাপে এখন আর বাকি সর্বোচ্চ তিনটি ম্যাচ—কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। এই পর্যায়ে এসে অনেক বড় তারকা বিদায় নিলেও নিজেদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে তারা সেরা খেলোয়াড়দের তালিকায় জায়গা ধরে রেখেছেন। আবার কেউ কেউ শেষ মুহূর্তের পারফরম্যান্সে উঠে এসেছেন র্যাঙ্কিংয়ের উপরের দিকে।
এখন পর্যন্ত সেরা খেলোয়াড়ের তালিকায় মেসির পরেই রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে ও নরওয়ের এরলিং হালান্ড। গোল এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অবদান রেখে তারা নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন।
১. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকা মেসি এখন পর্যন্ত আট গোল করেছেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে তার মোট গোলসংখ্যা ২১, যা একটি রেকর্ড। পাশাপাশি তিনি দুটি অ্যাসিস্টও করেছেন, যদিও একটি অ্যাসিস্ট হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে।
গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন মেসি। চার ম্যাচে তিনি ছয় গোল করেন। এরপর কেপ ভার্দের বিপক্ষে আরও একটি গোল করেন। মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় ম্যাচে পেনাল্টি মিস করলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজের জাত চেনান তিনি। একটি অ্যাসিস্ট ও একটি গোল করে দলকে সমতায় ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ফুটবল বিশ্বের কিংবদন্তিরাও এখনো মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্সের প্রশংসা করছেন।
২. এরলিং হালান্ড (নরওয়ে)
নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই ইতিহাস তৈরি করছেন হালান্ড। চার ম্যাচে সাত গোল করে নরওয়ের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এই স্ট্রাইকার।
শক্তি, গতি ও নিখুঁত ফিনিশিং দিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে বারবার সমস্যায় ফেলেছেন। ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা ছিল তার। ম্যাচ শেষে সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপনের সময় তার ঢাক বাজানোর দৃশ্যও আলোচনায় এসেছে।
৩. কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স)
মেসির মতোই আট গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট নিয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম প্রভাবশালী খেলোয়াড় এমবাপে। গতি, দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণে নিজের সেরা ছন্দে আছেন ফরাসি এই তারকা।
বিভিন্ন ধরনের গোল করেছেন তিনি। কখনো দ্রুতগতির আক্রমণে, কখনো শক্তিশালী শটে আবার কখনো রক্ষণভাগ ভেঙে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি থেকে গোল করেন। মরক্কোর বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করলেও পরে দুর্দান্ত গোল করে নিজের সামর্থ্য দেখান।
৪. হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড)
ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন প্রত্যাশা অনুযায়ীই পারফর্ম করছেন। ছয় গোল করে দলের আক্রমণভাগের মূল ভরসা হয়ে উঠেছেন তিনি।
ইংল্যান্ড যখন কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে, তখন সামনে এসেছেন কেইন। কঙ্গোর বিপক্ষে তার দুই গোলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। এরপর মেক্সিকোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালেও পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে রাখেন।
৫. মাইকেল ওলিসে (ফ্রান্স)
গোল না করেও বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা পারফর্মার হয়ে উঠেছেন ওলিসে। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি পাঁচটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়ে ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করেছেন। ডান প্রান্তের খেলোয়াড় হলেও এবার তাকে আরও কেন্দ্রীয় ও সৃজনশীল ভূমিকায় দেখা গেছে।
৬. জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড)
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্নের অন্যতম বড় কারিগর বেলিংহ্যাম। হ্যারি কেইনের পাশাপাশি তিনিও দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
মেক্সিকোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ম্যাচে দুটি গোল করেন তিনি। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দলকে রক্ষা করেন। আক্রমণাত্মক পজিশনে ফিরে তার পারফরম্যান্স আরও উজ্জ্বল হয়েছে।
৭. হুলিয়ান কুইনিয়োনেস (মেক্সিকো)
মেক্সিকোর সেরা খেলোয়াড় ছিলেন কুইনিয়োনেস। প্রতিপক্ষের বক্সের কাছে বল পেলেই তিনি তৈরি করেছেন গোলের সুযোগ।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন, যদিও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি। চার গোল করে বিশ্বকাপ শেষ করেছেন তিনি।
৮. উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স)
গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন দেম্বেলে। পাঁচ গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট নিয়ে ফ্রান্সের আক্রমণে বড় অবদান রেখেছেন তিনি।
দলের প্রয়োজনে নিজের স্বাভাবিক ভূমিকার পরিবর্তন করে ডান দিক থেকে খেলেছেন এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে তুলতেও তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
৯. আশরাফ হাকিমি (মরক্কো)
মরক্কোর অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন আশরাফ হাকিমি। পিএসজির এই ডান উইং-ব্যাক পুরো বিশ্বকাপে ধারাবাহিক ও নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।
রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তবে ফ্রান্সের কাছে হেরে তার বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে যায়।
১০. রদ্রি (স্পেন)
স্পেনের খেলার গতি ও নিয়ন্ত্রণের অন্যতম প্রধান কারিগর রদ্রি। টুর্নামেন্ট যত এগিয়েছে, তিনি ততই নিজের সেরা রূপে ফিরেছেন।
শেষ কয়েকটি ম্যাচে তাকে সেই ফর্মে দেখা গেছে, যে ফর্মে তিনি ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। স্পেনের উন্নতির পেছনে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।