লিওনেল মেসি © সংগৃহীত
মিশরের বিপক্ষে লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিসের ক্ষত কিছুতেই কাটিয়ে উঠতে পারছে না আর্জেন্টিনা। ২১ মিনিটের সেই পেনাল্টিটি এতটাই দুর্বল ছিল যে, ধারাভাষ্যকার ও ফুটবল বিশ্লেষকরা একে এককথায় ‘ভয়ানক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপে নেওয়া আটটি পেনাল্টির মধ্যে চারটিতেই ব্যর্থ হয়েছেন মেসি, যা বিশ্বমঞ্চে তাঁর ৫০ শতাংশ পেনাল্টি মিসের এক হতাশাজনক চিত্র ফুটিয়ে তোলে।
মজার বিষয় হলো, গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগার যেভাবে মেসির শট আটকে দিয়েছিলেন, আজ মিশরের মোস্তফা শোবেরের বিপক্ষেও মেসি ঠিক একই দিকে শট নেওয়ার পুনরাবৃত্তি করেন। ফলাফলও হয়েছে একেবারে এক—একই গোলপোস্টে একই রকম ব্যর্থতা। পেনাল্টি শটটি নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে প্রেস বক্সের স্ক্রিনে মেসির আগের পেনাল্টিগুলোর একটি গ্রাফিক চিত্র ভেসে ওঠে, যেখানে লাল ডটের (মিস) আধিক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। এমনকি তাঁর সফল পেনাল্টিগুলোর (সবুজ ডট) অনেকগুলোই ছিল গোলপোস্টের একেবারে মাঝ বরাবর, যা একজন বিশ্বমানের তারকার স্পট-কিকের দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে দেয়।
টানা এমন ব্যর্থতার পর আর্জেন্টিনার ডাগআউটে পেনাল্টি শ্যুটার বদলের দাবি এখন বেশ জোরালো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ফুটবল বোদ্ধাদের অনেকেই কোচ লিওনেল স্কালোনিকে অনুরোধ জানাচ্ছেন, দলের পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব যেন এখন থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার কিংবা এনজো ফার্নান্দেজের মতো নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডারদের কাঁধে তুলে দেওয়া হয়।
এদিকে ম্যাচের আধঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পেনাল্টি ছাড়া মাঠে আর্জেন্টিনার তেমন কোনো চাক্ষুষ আক্রমণ লক্ষ্য করা যায়নি। মিশরের রক্ষণভাগকে ভাঙার কোনো সৃজনশীল উপায় খুঁজে পাচ্ছে না আলবিসেলেস্তেরা। মাঝমাঠ থেকে রদ্রিগো ডি পল বাম প্রান্ত থেকে ডান প্রান্তে একটি আক্রমণাত্মক ডায়াগোনাল পাস দেওয়ার চেষ্টা করলেও মিশরের ডিফেন্ডাররা তা সহজেই রুখে দেয়। প্রথমার্ধের ৩০ মিনিট শেষে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটি ক্রমেই এক কঠিন মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে রূপ নিচ্ছে।