ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচ © সংগৃহীত
প্রথমার্ধে দাপট দেখিয়েও গোলের দেখা পায়নি ফ্রান্স। ম্যাচের বড় অংশজুড়েই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল ফরাসিদের হাতে, প্রায় ৮০ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল তারা। তবে সেই আধিপত্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্য গোলের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ দলটি।
একের পর এক আক্রমণ ও চাপ তৈরি করলেও প্যারাগুয়ের সুসংগঠিত রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি ফ্রান্স। অন্যদিকে, রক্ষণাত্মক কৌশলে সফল প্যারাগুয়ে প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষকে আটকে রেখে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে বিরতিতে গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়ে দুই দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় ফ্রান্স। অন্যদিকে সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। প্রথম ১৫ মিনিটে ফ্রান্স বল দখলে রাখলেও গোলমুখে তেমন কোনো হুমকি তৈরি করতে পারেনি, বরং রক্ষণ সামলাতেই বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের।
১৫ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলার ক্রস সহজেই তালুবন্দি করেন গোলরক্ষক গিল। ১৭ মিনিট পর্যন্ত ফ্রান্স কোনো শটই নিতে পারেনি। অবশেষে ২২তম মিনিটে মানু কোনের দূরপাল্লার শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নার হলে ম্যাচে প্রথম শটের দেখা পায় লা ব্লুসরা। তবে সেই কর্নার থেকেও কোনো বিপদ তৈরি হয়নি।
২৮ মিনিটে মিগেল আলমিরনের দারুণ দৌড়ে প্রথমবার ফরাসি রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে প্যারাগুয়ে। যদিও সেই আক্রমণ থেকে কার্যকর কোনো শট তারা নিতে পারেনি।
৩১ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগটি পায় ফ্রান্স। রক্ষণভাগের নজর এড়িয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে হেডের সুযোগ পেলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তিনি।
৩৬ মিনিটে প্যারাগুয়ের বক্সের ঠিক বাইরে ফাউলের শিকার হন এমবাপ্পে। সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান এবং আন্দ্রেস কুবাসকে হালকা ধাক্কা দেন। এতে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা মুখোমুখি অবস্থানে চলে যান। তবে রেফারি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং কোনো কার্ড না দেখিয়েই পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এরপরই জুল কুন্দের দূরপাল্লার শট সহজেই ধরে ফেলেন গিল। দুই মিনিট পর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ফ্রান্স আরেকটি সুযোগ তৈরি করলেও ডিফেন্ডারের বাধায় তা কর্নারে পরিণত হয়। যোগ করা সময়ে আদ্রিয়েন রাবিওর দূরপাল্লার শটও সহজেই তালুবন্দি করেন গিল। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল, যদিও ম্যাচজুড়ে দাপট ছিল ফ্রান্সের দিকেই।