আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ দল © সংগৃহীত
বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। এখন তাদের সামনে একটাই লক্ষ্য—টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা। তবে সেই পথ মোটেও সহজ নয়। মিসরকে হারাতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনাল, এরপর সেমিফাইনাল এবং সবশেষে ফাইনাল—প্রতিটি ধাপেই অপেক্ষা করছে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে কলম্বিয়া, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেনের মতো দল।
মিয়ামিতে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৪৮ দলের বিশ্বকাপ থেকে এখন টিকে আছে মাত্র ১৬টি দল। ইতোমধ্যে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ক্রোয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী দল বিদায় নিয়েছে। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী মঙ্গলবার, ৭ জুলাই বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় আটলান্টায় মিসরের মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল।
বিশ্বকাপে এই প্রথম মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও মিসর। তবে দুই দল এর আগে একবার প্রীতি ম্যাচে খেলেছিল। ২০০৮ সালে কায়রোতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে সার্জিও আগুয়েরোর জোড়া গোল ও নিকোলাস বুরদিসোর এক গোলে ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
মিসরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারলে আর্জেন্টিনাকে আবার ফিরতে হবে কানসাস সিটিতে। আগামী ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ১০০তম ম্যাচ, যেখানে প্রতিপক্ষ হতে পারে কলম্বিয়া অথবা সুইজারল্যান্ড।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া। তাদের সম্ভাবনা ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের সম্ভাবনা ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে দুইবার খেলেছে আর্জেন্টিনা। ১৯৬৬ সালের গ্রুপ পর্বে ২-০ এবং ২০১৪ সালের শেষ ষোলোয় অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ড এখনো আর্জেন্টিনার জালে কোনো গোল করতে পারেনি।
অন্যদিকে বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার সঙ্গে আর্জেন্টিনার কখনো দেখা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলেছে। গত বছরের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দুই দলের ম্যাচ ড্র হয়েছিল। আর ২০২৪ কোপা আমেরিকার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে লাউতারো মার্তিনেসের গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
কোয়ার্টার ফাইনাল পেরোতে পারলে সেমিফাইনালে অপেক্ষা করতে পারে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ। সম্ভাব্য চার দল হলো ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, মেক্সিকো ও নরওয়ে।
সম্ভাবনার হিসাব বলছে, সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হওয়ার দৌড়ে যৌথভাবে এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড ও ব্রাজিল। দুই দলেরই সম্ভাবনা ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ। এরপর রয়েছে মেক্সিকো (২১ দশমিক ৬ শতাংশ) এবং নরওয়ে (৭ দশমিক ৬ শতাংশ)।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে চারবার খেলেছে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে একমাত্র জয়টি আসে ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয়। এছাড়া ১৯৭৪ ও ১৯৮২ সালে জিতেছিল ব্রাজিল, আর ১৯৭৮ সালে দুই দলের ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছিল।
মেক্সিকোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে চারবারই জিতেছে আর্জেন্টিনা। ১৯৩০, ২০০৬, ২০১০ ও ২০২২—চারটি আসরেই জয় পেয়েছে তারা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। নির্ধারিত সময়ে পাঁচ ম্যাচে আর্জেন্টিনার একমাত্র জয়টি এসেছিল ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে, যেখানে দিয়েগো ম্যারাডোনা করেছিলেন ইতিহাসের দুটি বিখ্যাত গোল। ১৯৯৮ সালে টাইব্রেকারে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। তবে ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ২০০২ সালে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। যদি এবার দুই দল মুখোমুখি হয়, তাহলে সেটি হবে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিওনেল মেসির প্রথম ম্যাচ।
ফাইনালে উঠতে পারলে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। সম্ভাবনা ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্পেন, তাদের সম্ভাবনা ২৭ দশমিক ২ শতাংশ। এরপর রয়েছে পর্তুগাল (১৪ দশমিক ২ শতাংশ), বেলজিয়াম (১১ দশমিক ৬ শতাংশ), মরক্কো (৮ দশমিক ১ শতাংশ), কানাডা (৩ দশমিক ৮ শতাংশ), যুক্তরাষ্ট্র (২ দশমিক ৯ শতাংশ) এবং প্যারাগুয়ে (১ দশমিক ৭ শতাংশ)।
ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনাল হলে সেটি হবে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে দুই দলের লড়াই। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এছাড়া ২০১৮ সালের শেষ ষোলোয় জিতেছিল ফ্রান্স, আর ১৯৩০ ও ১৯৭৮ সালের গ্রুপ পর্বে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা মাত্র একবার খেলেছে। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে সেই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা।
পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সবচেয়ে সম্ভাব্য বিশ্বকাপ ফাইনাল হতে পারে আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্স, যার সম্ভাবনা ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন, যার সম্ভাবনা ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। এরপর রয়েছে ফ্রান্স বনাম ইংল্যান্ড (৬ দশমিক ২৮ শতাংশ), ফ্রান্স বনাম ব্রাজিল (৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ), স্পেন বনাম ইংল্যান্ড (৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ), স্পেন বনাম ব্রাজিল (৫ দশমিক ১৪ শতাংশ), ফ্রান্স বনাম কলম্বিয়া (৪ দশমিক ২৪ শতাংশ) এবং স্পেন বনাম কলম্বিয়া (৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ)।
ইনস্টিটিউট অব ক্যালকুলেশন (কনিসেট-ইউবিএ) এবং লা নাসিওন-এর পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী এই সম্ভাবনাগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। মডেলটি ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করে বাকি ম্যাচগুলোর সম্ভাব্য ফলাফল সিমুলেশনের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার ফাইনাল পর্যন্ত সম্ভাব্য পথ তুলে ধরেছে।