রোনালদো © সংগৃহীত
স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের মহারণের আগে যেন উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর গভীর রাতে হোটেলের বারান্দায় উঠে হাজির হন পর্তুগাল অধিনায়ক। বাইরে অপেক্ষায় থাকা শত শত সমর্থকের সঙ্গে হাত নেড়ে, উল্লাসে মেতে এবং তাদের আরও উৎসাহিত করে রাতটিকে স্মরণীয় করে তোলেন তিনি। টরন্টোর হোটেলের সামনে তখন তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
টরন্টোকে উত্তর আমেরিকার 'ছোট লিসবন' বলা হয়। শহরটিতে দুই লাখেরও বেশি পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস। ফলে পর্তুগাল জাতীয় দল কানাডার এই শহরে পৌঁছানোর পর থেকেই রোনালদোকে ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনার কমতি নেই।
ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর সেই উন্মাদনা আরও বেড়ে যায়। ম্যাচ শেষে দলীয় হোটেলের বারান্দায় এসে দাঁড়ান রোনালদো। নিচে অপেক্ষা করা সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়েন, তাদের অভিনন্দনের জবাব দেন এবং নিজের উচ্ছ্বাস দিয়ে পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন।
রোনালদোকে এক ঝলক দেখার জন্য হোটেলের সামনে শত শত সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন। তার উপস্থিতিতে চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে স্লোগান ও করতালিতে। বিজয়ের আনন্দে রোনালদোও সমর্থকদের সঙ্গে উচ্ছ্বাস ভাগাভাগি করেন।
তবে সেই উৎসবমুখর রাতের পর শুক্রবার ছিল তুলনামূলক শান্ত। রবার্তো মার্তিনেজের দল টরন্টোতেই বিশ্রামের দিন কাটিয়েছে। শনিবার সকালে সেখানেই শেষ অনুশীলন করবে পর্তুগাল। এরপর বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের উদ্দেশে রওনা হবে দলটি। আগামী সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্পেনের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল।
শুক্রবার সকালেও পর্তুগাল দলের আবাসস্থল ডেল্টা হোটেলের বাইরে সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন প্রিয় তারকাদের একনজর দেখার আশায়। কেউ কেউ হোটেলের ভেতরেও প্রবেশ করেছিলেন। যদিও পর্তুগালের বেশির ভাগ ফুটবলার প্রকাশ্যে আসেননি। তবে গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তাকে কিছু সময়ের জন্য বাইরে হাঁটতে দেখা গেছে।
পর্তুগাল দল টরন্টোর কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করছে। তাদের হোটেলটি বিখ্যাত সিএন টাওয়ারের পাশেই। একই সঙ্গে এটি স্কশিয়াব্যাংক অ্যারেনা ও রজার্স সেন্টারের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত। স্কশিয়াব্যাংক অ্যারেনা এনবিএর টরন্টো র্যাপ্টরস এবং এনএইচএলের টরন্টো ম্যাপল লিফসের মাঠ। অন্যদিকে রজার্স সেন্টার মেজর লিগ বেসবলের টরন্টো ব্লু জেজের হোম ভেন্যু।
আগের দুই রাতের অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয়দের ধারণা, শুক্রবার রাতেও হাজারো সমর্থক আবার হোটেলের সামনে জড়ো হতে পারেন। তাদের আশা, রোনালদো টানা তৃতীয় রাতের মতো আবারও বারান্দায় এসে শুভেচ্ছা জানাবেন। ছুটির রাত, অনুকূল আবহাওয়া এবং উষ্ণ তাপমাত্রাও বড় সমাগমের সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শনিবার দুপুরের দিকে টরন্টোর পশ্চিম উপকণ্ঠের ইটোবিকোক এলাকায় অবস্থিত সেন্টেনিয়াল পার্কে শেষ অনুশীলন করবে পর্তুগাল। এরপরই দলটি ডালাসের উদ্দেশে যাত্রা করবে।
যদিও অনুশীলনের মাঠটি শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে শান্ত পরিবেশে অবস্থিত, তবু পর্তুগিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে অনুশীলনের স্থান ও সময় ইতোমধ্যেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে সেখানে বিপুলসংখ্যক সমর্থকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর সমর্থকদের উৎসাহ আরও বেড়েছে। ছুটির দিন হওয়ায় অনেকেই অনুশীলন মাঠে গিয়ে রোনালদো ও তার সতীর্থদের উৎসাহ দিতে চান। স্পেনের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে তাই সমর্থকদের ভালোবাসা ও আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করেই ডালাসের পথে যাত্রা করবে রবার্তো মার্তিনেজের পর্তুগাল।