আশরাফ হাকিমি © টিডিসি ফটো
১২০ মিনিটের লড়াই, তারপর শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকার। রোমাঞ্চে ভরা এই ম্যাচ শেষে শেষ হাসি হেসেছে মরক্কো। নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মরক্কোর তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমি।
মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গ্যালারির বড় অংশজুড়ে ছিল মরক্কোর সমর্থকদের উপস্থিতি। শুধু মরক্কোর সমর্থকরাই নন, স্থানীয় অনেক মেক্সিকানও আফ্রিকার দলটির পক্ষেই গলা মিলিয়েছিলেন। অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত ১-১ গোলে সমতায় থাকা ম্যাচটি গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে দুই দলই একাধিক শট মিস করলেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় মরক্কো।
ম্যাচ শেষে হাকিমি বলেন, ‘আমাদের এমন ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। কাদের সঙ্গে খেলছি, তা আমরা জানি। মনোযোগ ধরে রাখার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী থাকতে হয়েছে। সমর্থনের জন্য মেক্সিকোকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। মরোক্কানদেরও ধন্যবাদ জানাই।’
ম্যাচের ৭২ মিনিটে কোডি গাকপোর গোলে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। সেই লিড নিয়েই ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এগোচ্ছিল ডাচরা। তবে যোগ করা সময়ে ইসা দিওপের হেডে সমতা ফেরায় মরক্কো। গোলটি হওয়ার সময় ডাচ অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইককে টপকে হেড করেন দিওপ।
ম্যাচ শেষে ফন ডাইক বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ীই সব চলছিল, কিন্তু শেষ দিকে, অতিরিক্ত সময়ে আমাদের ওপর চাপ বাড়ে। এরপর ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায় এবং দুর্ভাগ্যবশত আমরা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই সব সময়ই কিছু না কিছু উন্নতির জায়গা থাকে, কিন্তু এ মুহূর্তে তা আর কাজে আসবে না।’
মরক্কোর প্রধান কোচ মোহাম্মদ উয়াহবি মনে করেন, তার দল শেষ ষোলোয় ওঠার যোগ্য ছিল। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমাদের শান্ত থাকা এবং নিজেদের সামর্থ্যটা উপলব্ধি করা দরকার ছিল। পরের রাউন্ডে যাওয়ার যোগ্য দাবিদার আমরা। নকআউট ম্যাচে মাঝেমধ্যে এভাবে জয় তুলে নেওয়াটা মেনে নিতে হয়।’
অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে লিড ধরে রাখতে না পারার আক্ষেপ ঝরেছে নেদারল্যান্ডস কোচ রোনাল্ড কোমানের কণ্ঠে।
কোমান বলেন, ‘হয়তো ম্যাচের কিছু কিছু সময়ে মরক্কোই ভালো সুযোগ তৈরি করেছে, বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ম্যাচে লিড আমাদেরই ছিল এবং ওরা গোল শোধের পথই খুঁজে পাচ্ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এরপর একটা সৌভাগ্যসূচক অ্যাসিস্ট (গোল বানানো) থেকে ওরা গোল পেয়ে গেল। ম্যাচ যখন একেবারে ইনজুরি টাইমে, তখন গোল হজম করাটা নিশ্চিতভাবেই চরম তেতো অনুভূতির।’
এই হারের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে সবচেয়ে বেশি পরাজয়ের রেকর্ডে স্পেনের পাশে নাম লিখিয়েছে নেদারল্যান্ডস। এটি বিশ্বকাপে ডাচদের চতুর্থ টাইব্রেকার পরাজয়।
এর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল এবং ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরেছিল নেদারল্যান্ডস। এবার শেষ ৩২-এর লড়াইয়েও একই পরিণতি বরণ করতে হলো রোনাল্ড কোমানের দলকে। অন্যদিকে দুর্দান্ত লড়াই ও মানসিক দৃঢ়তায় আরেকটি স্মরণীয় জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেছে মরক্কো।