স্কটল্যান্ড ফুটবল দল © সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে স্কটল্যান্ড। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দলটি। তবে এই ম্যাচে পরাজিত হলেও নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে না স্টিভ ক্লার্কের শিষ্যদের।
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গা করে নিতে হলে স্কটল্যান্ডকে সেরা তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলোর একটি হতে হবে। সে ক্ষেত্রে নিজেদের ম্যাচের পাশাপাশি অন্য কয়েকটি গ্রুপের ফলও তাদের পক্ষে যেতে হবে।
স্কটল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক পরিস্থিতিগুলোর একটি হলো ‘এ’ গ্রুপে মেক্সিকোর কাছে চেক প্রজাতন্ত্রের পরাজয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়। এমনটি হলে ওই গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা দল মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করবে, যা স্কটল্যান্ডের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করবে।
একইসঙ্গে ‘বি’ গ্রুপে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং কাতারের মধ্যকার ম্যাচ ড্র হলে স্কটল্যান্ড নকআউটের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। কারণ ওই ফলাফল তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলোর পয়েন্ট সংগ্রহকে সীমিত রাখবে।
অন্যদিকে ‘জি’ গ্রুপে মিসর যদি ইরানকে হারাতে পারে, তাহলে ওই গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা দলও স্কটল্যান্ডের সম্ভাব্য তিন পয়েন্টের চেয়ে কম পয়েন্টে থাকতে পারে।
‘এইচ’ গ্রুপেও স্কটল্যান্ডের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এখন পর্যন্ত কোনো জয় না পাওয়া উরুগুয়ে যদি স্পেনের কাছে হেরে যায়, তাহলে তারা মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করবে। ফলে সেরা তৃতীয় স্থান অর্জনের লড়াই থেকে কার্যত ছিটকে পড়বে দলটি।
তবে এখনও বেশ কয়েকটি গ্রুপে দুটি করে ম্যাচ বাকি থাকায় ঠিক কত পয়েন্টে নকআউট নিশ্চিত হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তারপরও হিসাব বলছে, স্কটল্যান্ডকে রাউন্ড অব ৩২-এ উঠতে হলে অন্তত চারটি দলের চেয়ে এগিয়ে থাকতে হবে। আর যদি সমান পয়েন্টও হয়, তাহলে গোল ব্যবধানে তাদের চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকতে হবে।
সব মিলিয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার আগে স্কটল্যান্ডের সমর্থকদের নজর থাকবে শুধু নিজেদের দলের ম্যাচেই নয়, বরং বিশ্বকাপের বিভিন্ন গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ম্যাচের ফলাফলের দিকেও। কারণ হারলেও ইতিহাস গড়ে নকআউটে ওঠার স্বপ্ন এখনও জীবন্ত রয়েছে স্কটিশদের সামনে।