আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচ © সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচ ঘিরে রেফারিং নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ম্যাচে রেফারির একাধিক সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতদুষ্ট ও ভুল হিসেবে উল্লেখ করে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে আলজেরিয়া। শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
‘জে’ গ্রুপের ওই ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসি আলজেরিয়ার অধিনায়ক আইসা মান্দির ওপর বিপজ্জনক ট্যাকল করেন বলে অভিযোগ ওঠে। গ্যালারিতে থাকা আলজেরিয়ান সমর্থকরা ওই ফাউলের জন্য মেসিকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানোর দাবি জানালেও কোনো শাস্তি দেননি পোলিশ রেফারি সাইমন মারচিনিয়াক। পরবর্তীতে ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে বড় জয় এনে দেন মেসি।
তবে আলজেরিয়ার অভিযোগ কেবল ওই ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ নয়। দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার আলজেরিয়ার তরুণ ইব্রাহিম মাজাকে কনুই দিয়ে আঘাত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের খুব কাছেই অবস্থান করলেও রেফারি মারচিনিয়াক কোনো ব্যবস্থা নেননি এবং ভিএআর থেকেও কোনো হস্তক্ষেপ আসেনি বলে দাবি আলজেরিয়ার।
এদিকে, ম্যাচে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুসও। একইসঙ্গে আলাদা ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার থেম্বা জোয়ানের নিষেধাজ্ঞা তিন ম্যাচে উন্নীত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
তারই প্রতিক্রিয়ায় ব্রুস বলেন, ‘মেসির ক্ষেত্রে যা ঘটেছে তা দেখার পর আমি আমার খেলোয়াড়ের শাস্তি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। মেক্সিকান খেলোয়াড় জোয়ানকে ব্লক করার পর সে কেবল কাঁধের ওপর হাত দিয়েছিল, আর তাতেই লাল কার্ড এবং তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা? এটি অনেক বেশি কঠোর সিদ্ধান্ত। আমি বলছি না মেসি লাল কার্ড পাক, কারণ তাঁর মতো খেলোয়াড় মাঠে থাকা দরকার। কিন্তু মেসির ওই বিপজ্জনক ফাউল আর জোয়ানের সাধারণ কন্টাক্টের মধ্যে পার্থক্যটা কোথায়?’
উল্লেখ্য, সোমবার (২২ জুন) ডালাসে গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। পরদিন সকালে সান ফ্রান্সিসকোতে জর্ডানের বিপক্ষে মাঠে নামবে আলজেরিয়া।