লিওনেল মেসি © সংগৃহীত
আলজেরিয়ার বিপক্ষে জাদুকরী হ্যাটট্রিকে দলকে ৩-০ ব্যবধানে জেতানোর পর যেখানে উল্লাসে মাতার কথা ছিল, সেখানে প্রথম গোলটি করার পরই মাঠের মধ্যে চোখ ফেটে জল এসেছিল লিওনেল মেসির। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে যখন তাকে এই কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করা হয়, মেসি শুধু এটুকুই বলেছিলেন, "এর পেছনে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই, কারণটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত।"
মেসির সেই রহস্যময় কান্নার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, ঠিক কী হয়েছিল এলএমটেনের সঙ্গে? অবশেষে সব ধোঁয়াশা কাটিয়ে খোদ মেসি পরিবারের পক্ষ থেকে এলো একটি জরুরি ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি, যা স্তব্ধ করে দিয়েছে ফুটবল বিশ্বকে।
মেসি পরিবারের দেওয়া সেই আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানা গেছে, লিওনেল মেসির জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা, তার বাবা হোর্হে মেসি বর্তমানে একটি অত্যন্ত জটিল শারীরিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "হোর্হে মেসি বর্তমানে একটি গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এই মুহূর্তে তিনি সম্পূর্ণ চিকিৎসকদের কড়া তত্ত্বাবধানে আছেন এবং তার চিকিৎসার প্রক্রিয়া চলছে।"
এদিকে এই নিয়ে একের পর এক ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছিল। যদিও এ নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ মেসি পরিবার। ম্যাচ শেষের পর থেকে মেসির এই ব্যক্তিগত সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে একের পর এক মনগড়া গুজব ও জল্পনা ছড়ানো হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তার পরিবার।
সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পারিবারিক বিষয়কে যেভাবে কিছু মানুষ কোনো ধরনের সংবেদনশীলতা বা সম্মান না দেখিয়ে সস্তা প্রচারণার হাতিয়ার বানিয়েছেন, তা আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, হোর্হে মেসির শারীরিক অবস্থার সঠিক তথ্য কেবল তার নিকটবর্তী পরিবারের কাছেই আছে। এর বাইরে ছড়ানো যেকোনো তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।"
বাবার এই কঠিন সময়ে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেসি পরিবার আরও বলেছে, একজন মানুষের স্বাস্থ্য এবং তার পরিবারের মানসিক শান্তি নিয়ে যেন কোনো ধরনের নোংরা জল্পনা না করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় হোর্হে মেসি এবং তাদের পুরো পরিবারের গোপনীয়তাকে সম্মান জানানোর জন্য বিশ্ববাসীর কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।