এমবাপে © সংগৃহীত
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল পরাজয়ের স্মৃতি আবারও সামনে আনলেন কিলিয়ান এমবাপে। ফরাসি এই তারকা বলেছেন, যদি তিনি ক্যারিয়ারের আরও একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতেন, তবে সেটি হতো আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই ফাইনাল, যে ম্যাচের আক্ষেপ এখনও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।
মঙ্গলবার সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এমবাপে সাম্প্রতিক বছরগুলোর নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, জীবনের কিছু মুহূর্তে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেলে তিনি ২০২২ সালের ফাইনালটিই বেছে নিতেন।
রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘এরকম অনেক মুহূর্তই আছে। বিশেষ করে পরাজয়গুলো, কারণ যদি আপনি সেগুলো পুনরায় অনুভব করেন, তাহলে হয়তো ভাগ্যের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ, আমি ২০২২ সালের আর্জেন্টিনার ফাইনালটি পরিবর্তন করতে চাইব। আমরা যে ফাইনালটি জিতেছিলাম তার চেয়ে ওই ফাইনালটির কথাই বেশি মনে পড়ে।’
ফাইনাল হারার বেদনা এখনও ভুলতে পারেননি জানিয়ে এমবাপে বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফাইনাল হারাটা খুব কঠিন। বিশেষ করে যেহেতু এটা প্রতি চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয়। ওই ম্যাচের অনেক খেলোয়াড় তো এই বিশ্বকাপে আর নেই।’
পরে তিনি আরও বলেন, ‘এর মধ্যে একটা নিষ্ঠুরতা আছে, অর্থাৎ আমরা এতকিছু করার পরেও পেনাল্টিতে হেরে গেলাম। আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি না; পেনাল্টি কোনো লটারি নয়। এটা একটা কৌশলগত দক্ষতা, কিন্তু তারপরেও বিশ্বকাপ ফাইনাল হারার এটাই সবচেয়ে নিষ্ঠুর উপায়।’
এমবাপে তার সাবেক ক্লাব প্যারিস সেন্ট-জার্মেইন (পিএসজি) ও ক্লাব সভাপতি নাসের আল-খেলাইফির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নাসের আমার জীবন বদলে দিয়েছেন। সবাই শুধু শেষের কথাই মনে রাখে, স্বাভাবিক কারণে পিএসজি ছেড়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। আমি জানতাম যে ক্লাব ছাড়লে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। আমি মিথ্যা বলতে পারি না, তিনি আমার এবং আমার পরিবারের জন্য অনেক কিছু করেছেন।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘যখন কারও সাথে আমার কোনো বিরোধ হয় এবং আমি বিশ্বাস করি যে আমার জেতা উচিত, তখন শেষ পর্যন্ত লড়তে আমার কোনো সমস্যা বা দ্বিধা থাকে না। কিন্তু সবকিছু গুলিয়ে ফেললে চলবে না: নাসের এমন একজন যাকে আমি সম্মান করি। কারণ যদিও আমি আজ রিয়াল মাদ্রিদে এবং ফরাসি জাতীয় দলের অধিনায়ক, প্যারিস সেন্ট-জার্মেইন এবং নাসের আল-খেলাইফি এখনও আমার জীবনে একটি কেন্দ্রীয় স্থান দখল করে আছেন।’
ব্যক্তিগত জীবন ও খ্যাতির প্রভাব নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন এমবাপে। তিনি বলেন, ‘আমার মতো মানুষদের জন্য, একটি স্বপ্নের দিন হলো সরলতায় ফিরে আসা: কেউ বিরক্ত না হওয়া, যা ইচ্ছা, যার সাথে ইচ্ছা, যেখানে ইচ্ছা তা করতে পারা। যদিও এগুলো খুব সাধারণ জিনিস, তবুও এগুলো আমার জন্য এক ধরনের বিলাসিতা হয়ে উঠেছে। কিন্তু মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা নিয়ে আপনার কখনোই অভিযোগ করা উচিত নয়।’
খ্যাতির চাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের অমানবিক করে তোলে, আমাদের কিছুটা সার্কাসের পশুর মতো করে তোলে। কিন্তু সবাই জানতে চায় আমি কী করছি, কোথায় আছি, এবং কার সাথে... আমি এটা বুঝতে শিখেছি এবং কমবেশি মেনে নিয়েছি যে এটা সবসময় আমার জীবনের একটি অংশ হয়ে থাকবে। এর জন্য কেউই প্রস্তুত থাকে না। স্পেনে, আমি নিরাপত্তা ছাড়াই বাইরে যেতে পারি। আমি ফ্রান্সের চেয়েও বেশি স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারি!’