মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে লাল কার্ড © সংগৃহীত
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি উঠে গেল ইতিহাসের পাতায়। এস্তাদিও আসতেকাতে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার প্রথম ম্যাচটি শেষ হওয়ার আগেই রেফারিকে পকেট থেকে তিন-তিনবার বের করতে হয়েছে লাল কার্ড। এই ম্যাচে তিনটি লাল কার্ডের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এনেছে খেলার নিয়ম-কানুনকে। বিশেষ করে হলুদ কার্ড, লাল কার্ড, অফসাইড, পেনাল্টি, ভিএআর এবং নতুন সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বেড়েছে। এবারের বিশ্বকাপে শুধু আগের নিয়মগুলোই নয়, যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু নতুন বিধানও। ফলে খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি এবং দর্শকদের জন্য এবারের বিশ্বকাপ হয়ে উঠেছে ভিন্ন অভিজ্ঞতার একটি আসর।
বিশ্বকাপে একটি হলুদ বা লাল কার্ড শুধু একটি ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলে না; অনেক সময় তা পরবর্তী ম্যাচ, নকআউট পর্বে অংশগ্রহণ এবং এমনকি গ্রুপ পর্বের চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণেও ভূমিকা রাখে। একটি ভুল ট্যাকল বা অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণও কোনো খেলোয়াড়কে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থেকে ছিটকে দিতে পারে।
ফুটবলে হলুদ কার্ড কী?
হলুদ কার্ড মূলত সতর্কবার্তা। কোনো খেলোয়াড়ের আচরণ, ফাউল বা কর্মকাণ্ডকে রেফারি অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করেছে বলে মনে করলে তাকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। হলুদ কার্ড পাওয়ার পরও খেলোয়াড় মাঠে খেলা চালিয়ে যেতে পারেন। তবে একই ম্যাচে দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড দেখলে সেটি সরাসরি লাল কার্ডে পরিণত হয়। তখন সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়তে হয় এবং তার পরিবর্তে অন্য কোনো খেলোয়াড়কে নামানো যায় না।
বেপরোয়া ট্যাকল, রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ, খেলা পুনরায় শুরু করতে বিলম্ব করা, বারবার ফাউল করা, অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ, প্রতিপক্ষের সংস্পর্শ ছাড়াই ফাউলের অভিনয় করা, সময় নষ্ট করা, অতিরিক্ত গোল উদযাপন হিসেবে জার্সি খুলে ফেলা, অনুমতি ছাড়া মাঠে প্রবেশ বা মাঠ ত্যাগ করা এবং ফ্রি-কিক, কর্নার কিংবা থ্রো-ইনের সময় নির্ধারিত দূরত্ব বজায় না রাখার মতো ঘটনায় হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
তবে সব ধরনের ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেওয়া হয় না। অনেক ক্ষেত্রে শুধু ফ্রি-কিক দিয়েই খেলা চালু করা হয়। রেফারি যখন মনে করেন কোনো কাজ বেপরোয়া, অসৌজন্যমূলক, অসম্মানজনক কিংবা খেলোয়াড়সুলভ আচরণের পরিপন্থী, তখনই সাধারণত হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
লাল কার্ড কী?
লাল কার্ড ফুটবলের সবচেয়ে কঠোর শাস্তিগুলোর একটি। কোনো খেলোয়াড় লাল কার্ড পেলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ছাড়তে হয় এবং ম্যাচের বাকি সময় দলকে একজন কম নিয়ে খেলতে হয়।
ফুটবলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, বহিষ্কৃত খেলোয়াড়ের পরিবর্তে নতুন কাউকে নামানো যায় না। ফলে ১১ জনের দল ১০ জনে পরিণত হয়। পরবর্তীতে আরেকজন খেলোয়াড় লাল কার্ড পেলে দলকে ৯ জন নিয়ে খেলতে হয়। লাল কার্ড দুইভাবে হতে পারে। প্রথমত, গুরুতর অপরাধের জন্য সরাসরি লাল কার্ড। দ্বিতীয়ত, একই ম্যাচে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পাওয়ার পর লাল কার্ড।
সহিংস আচরণ, গুরুতর ফাউল, থুতু নিক্ষেপ, কামড় দেওয়া, আপত্তিকর বা অশালীন ভাষা ব্যবহার, প্রতিপক্ষের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করা কিংবা অন্য গুরুতর অপরাধের কারণে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। অন্যদিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া লাল কার্ডের অর্থ হলো খেলোয়াড় একই ম্যাচে দুটি পৃথক সতর্কতামূলক অপরাধ করেছেন। দুই ক্ষেত্রেই খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়তে হয় এবং তার পরিবর্তে অন্য কাউকে নামানোর সুযোগ থাকে না।
লাল কার্ডের পর কী হয়?
লাল কার্ড দেখার পর খেলোয়াড়কে মাঠ এবং টেকনিক্যাল এরিয়া ত্যাগ করতে হয়। তিনি বেঞ্চে বসতে পারেন না, ম্যাচে ফিরতে পারেন না এবং তাকে বদলিও করা যায় না। এর ফলে দলকে পুরো ম্যাচ একজন কম নিয়ে খেলতে হয়, যা ম্যাচের কৌশল ও ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক দল তখন আরও রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহণ করে, জরুরি ভিত্তিতে খেলোয়াড় বদল করে অথবা ফরমেশন পরিবর্তন করে।
২০২৬ বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, সরাসরি লাল কার্ড কিংবা দ্বিতীয় হলুদ থেকে পাওয়া লাল কার্ড উভয় ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় বা দলীয় কর্মকর্তা পরবর্তী ম্যাচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ থাকবেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ফিফা অতিরিক্ত শাস্তিও দিতে পারে।
কতটি হলুদ কার্ডে নিষেধাজ্ঞা?
এবারের বিশ্বকাপে কোনো খেলোয়াড় বা দলীয় কর্মকর্তা ভিন্ন দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ হবেন।
কোনো খেলোয়াড় যদি গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে একটি এবং দ্বিতীয় ম্যাচে আরেকটি হলুদ কার্ড পান, তাহলে তিনি তৃতীয় গ্রুপ ম্যাচে খেলতে পারবেন না।
একইভাবে রাউন্ড অব ৩২ এবং রাউন্ড অব ১৬-তে একটি করে হলুদ কার্ড পেলে তিনি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে পারবেন না। আবার রাউন্ড অব ১৬ এবং কোয়ার্টার ফাইনালে একটি করে হলুদ কার্ড পেলে সেমিফাইনাল মিস করবেন। এ কারণে নকআউট পর্বে কোচদের অনেক সময় শৃঙ্খলা ও কার্ড ঝুঁকি মাথায় রেখে কৌশল নির্ধারণ করতে হয়।
কখন হলুদ কার্ডের হিসাব মুছে যায়?
বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব শেষে এবং কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে একক হলুদ কার্ডের হিসাব মুছে ফেলা হবে। কোনো খেলোয়াড় গ্রুপ পর্বে একটি মাত্র হলুদ কার্ড পেলে সেটি রাউন্ড অব ৩২-এ বহাল থাকবে না। একইভাবে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পাওয়া একটি হলুদ কার্ড সেমিফাইনালে বহন হবে না। এই নিয়মের ফলে আগের নকআউট ম্যাচে পাওয়া একটি হলুদ কার্ডের কারণে বিশ্বকাপ ফাইনাল মিস করার সম্ভাবনা কমে যায়।
তবে যদি কোনো খেলোয়াড়ের দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত হয়ে যায়, তাহলে সেই শাস্তি বহাল থাকবে। উদাহরণ হিসেবে, কোয়ার্টার ফাইনালে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেলে তিনি সেমিফাইনালে খেলতে পারবেন না।
কোচরাও কি হলুদ ও লাল কার্ড দেখতে পারেন?
হ্যাঁ। শুধু মাঠের খেলোয়াড় নয়, বদলি খেলোয়াড়, বদলি হয়ে যাওয়া খেলোয়াড় এবং কোচসহ দলীয় কর্মকর্তারাও হলুদ কিংবা লাল কার্ড দেখতে পারেন। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ, খেলা বিলম্বিত করা, ভিডিও রিভিউ এলাকার নিয়ম ভঙ্গ করা কিংবা উসকানিমূলক আচরণের জন্য কোচকে হলুদ কার্ড দেখানো হতে পারে।
অন্যদিকে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার, আক্রমণাত্মক আচরণ, ইচ্ছাকৃতভাবে খেলায় হস্তক্ষেপ করা কিংবা দ্বিতীয় সতর্কবার্তা পাওয়ার ঘটনায় কোচকে লাল কার্ড দেখানো হতে পারে। বিশ্বকাপে দলীয় কর্মকর্তারাও কার্ড জমার কারণে বা বহিষ্কারের ঘটনায় নিষিদ্ধ হতে পারেন।
গ্রুপ পর্বে কার্ড কি টাইব্রেকারে প্রভাব ফেলে?
বিশ্বকাপে দলগুলোর অবস্থান প্রথমে পয়েন্ট, এরপর গোল ব্যবধান এবং গোলসংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়। তবে এসব সূচকেও সমতা থাকলে শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়।
ফিফার ফেয়ার-প্লে ব্যবস্থায় একটি হলুদ কার্ডের জন্য ১ পয়েন্ট, দুটি হলুদ থেকে পাওয়া লাল কার্ডের জন্য ৩ পয়েন্ট, সরাসরি লাল কার্ডের জন্য ৪ পয়েন্ট এবং হলুদ কার্ডের পর সরাসরি লাল কার্ডের জন্য ৫ পয়েন্ট কাটা হয়। যে দলের শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ড ভালো থাকে, প্রয়োজন হলে তারাই টাইব্রেকারে এগিয়ে থাকে। ফলে একটি অপ্রয়োজনীয় হলুদ কার্ডও শেষ পর্যন্ত দলের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
অফসাইড কী?
ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত নিয়মগুলোর একটি হলো অফসাইড। অনেক গুরুত্বপূর্ণ গোল বাতিল হওয়ার পেছনে এই নিয়ম কাজ করে।
ফিফার বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সতীর্থ খেলোয়াড় বল পাস বা স্পর্শ করার মুহূর্তে আক্রমণকারী খেলোয়াড়ের শরীরের যে অংশ দিয়ে বৈধভাবে গোল করা সম্ভব, সেটি যদি প্রতিপক্ষের দ্বিতীয় শেষ ডিফেন্ডারের চেয়ে এগিয়ে থাকে, তাহলে অফসাইড ধরা হবে।
তবে অফসাইড অবস্থানে থাকলেই অপরাধ হয় না। খেলোয়াড় তখনই শাস্তির মুখে পড়বেন, যখন ওই অবস্থান থেকে খেলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। অফসাইডের শাস্তি হিসেবে প্রতিপক্ষ দলকে পরোক্ষ ফ্রি-কিক দেওয়া হয়।
পেনাল্টি কিক কী?
কোনো খেলোয়াড় নিজের দলের পেনাল্টি বক্সের ভেতরে ফাউল করলে প্রতিপক্ষ দল পেনাল্টি কিক পায়। এ সময় ১২ গজ দূরত্ব থেকে একজন খেলোয়াড় সরাসরি গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়ে শট নেওয়ার সুযোগ পান। হ্যান্ডবল, লাথি মারা, পা আটকে ফেলা, ধাক্কা দেওয়া কিংবা জার্সি টেনে ধরার মতো ঘটনায় পেনাল্টি দেওয়া হতে পারে।
নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে নকআউট ম্যাচ ড্র হলে টাইব্রেকারেও পেনাল্টির মাধ্যমে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করা হয়।
ফ্রি-কিক ও কর্নার কিকের নিয়ম
ফ্রি-কিক দুই ধরনের সরাসরি এবং পরোক্ষ। সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোল করা সম্ভব হলেও পরোক্ষ ফ্রি-কিকের ক্ষেত্রে বল গোল হওয়ার আগে অন্য একজন খেলোয়াড়কে স্পর্শ করতে হয়। অন্যদিকে কোনো ডিফেন্ডারের স্পর্শে বল গোললাইন অতিক্রম করলেও যদি গোল না হয়, তাহলে আক্রমণকারী দল কর্নার কিক পায়। কর্নার থেকে সরাসরি গোলও করা সম্ভব।
এবারের বিশ্বকাপে নতুন যেসব নিয়ম কার্যকর
সময় অপচয় কমাতে ২০২৬ বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গোলরক্ষক সর্বোচ্চ আট সেকেন্ড বল হাতে রাখতে পারবেন। তিন সেকেন্ড পার হওয়ার পর রেফারি বাকি পাঁচ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন শুরু করবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বল খেলায় না আনলে প্রতিপক্ষ দল কর্নার কিক পাবে।
একই ধরনের সময়সীমা থ্রো-ইনের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থ্রো-ইন না নিলে বলের দখল প্রতিপক্ষ দলের কাছে চলে যাবে।
কোনো খেলোয়াড় বদলি হওয়ার পর তাকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ ছাড়তে হবে। বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া এই নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাঠ না ছাড়লে তার পরিবর্তে নামা খেলোয়াড়কে এক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে এবং ওই সময় দলকে একজন কম নিয়ে খেলতে হবে।
চিকিৎসার জন্য মাঠের বাইরে যাওয়া খেলোয়াড়দেরও সাধারণভাবে এক মিনিট অপেক্ষা করে মাঠে ফিরতে হবে। তবে গোলরক্ষকের মাথায় আঘাত কিংবা পেনাল্টি গ্রহণকারী খেলোয়াড়ের আঘাতের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
এবার ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থার আওতাও আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। স্পষ্ট ও গুরুতর ভুল কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা পর্যালোচনায় ভিএআর ব্যবহার করা হবে। ভুলভাবে দেওয়া কর্নার কিকের সিদ্ধান্তও এখন ভিএআরের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা যাবে।
এ ছাড়া মাঠে তর্ক-বিতর্ক বা সংঘর্ষের সময় কোনো খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখলে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হবে। একইভাবে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে কোনো খেলোয়াড় বা কোচ মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গেলে তাকেও লাল কার্ড দেখানো হবে।
ফিফা ও আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) লক্ষ্য হলো নতুন এসব নিয়মের মাধ্যমে সময় অপচয় কমানো, খেলার গতি বাড়ানো এবং রেফারিং প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করা। ফলে এবারের বিশ্বকাপে মাঠের খেলার পাশাপাশি নিয়ম প্রয়োগেও দেখা যাবে নতুন মাত্রা। তথ্যসূত্র: ফিফা