বাংলাদেশের কাছে হেরে একাধিক বিতর্কিত পোস্ট সান মারিনোর, অতঃপর...

০৬ জুন ২০২৬, ১২:১৬ PM
বাংলাদেশকে নিয়ে মিম পোস্ট

বাংলাদেশকে নিয়ে মিম পোস্ট © সংগৃহীত

ইউরোপের মাটিতে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ যখন ঐতিহাসিক জয়ের উল্লাসে মেতেছে, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক ‘বিতর্কিত’ ও বিস্ফোরক পোস্ট দিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে সান মারিনো ফুটবল দল। গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত এই প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের পর ‘San Marino Fútbol’ নামক ভেরিফাইড ফেসবুক ও এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে এবং ফিফা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে—এমন গুরুতর সব অভিযোগ তোলা হয়। 

তবে ম্যাচটি ঘিরে তৈরি হওয়া তীব্র উত্তেজনা আর বাংলাদেশি ফুটবল ভক্তদের ক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত সুর নরম করতে বাধ্য হয়েছে তারা। পরবর্তীতে আরেকটি পোস্টে পুরো বিষয়টিকে নিছক ‘রসালাপ’ ও ‘ব্যঙ্গাত্মক’ দাবি করে ঐতিহাসিক জয়ের জন্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়ে বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছে সান মারিনোর এই হ্যান্ডেলটি।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সান মারিনো ফুটবলের পেজ থেকে বেশ কয়েকটি আক্রমণাত্মক পোস্ট ও মিম শেয়ার করা হলে মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। একটি মিম পোস্টে লেখা হয়, ‘আমাদের গোল চুরি করার পর সান মারিনোর পরাজয় নিয়ে আমাদের উপহাস করতে এখানে আসছে ১৭ কোটি ৭০ লাখ বাংলাদেশি। এটা একদমই আমরা নিজেরাই।’ 

এখানেই শেষ নয়, আরেকটি বিতর্কিত পোস্টে সরাসরি এশিয়ান ফুটবলকে টেনে এনে তারা লেখে, ‘বাংলাদেশ আমাদের নিজেদের স্টেডিয়ামে একটি পুরোপুরি বৈধ গোল থেকে আমাদের বঞ্চিত করেছে। চোরেরা, সব এশিয়ান দলের মতোই।’ 

প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলে অন্য একটি টুইটে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলা হয়, ‘তারা শুধু একটি ক্যামেরা রেখেছে, আর তার উপর আবার VAR-এও গিয়ে সেটা দেখেনি। আমাদের নিজেদের স্টেডিয়ামেই আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে, কী চোরেরা! ফিফাকে বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার পর অবশ্য সান মারিনোর ওই অ্যাকাউন্ট থেকে আগের অবস্থান বদলে ফেলা হয়। তারা জানায়, আগের মিম পোস্টগুলো আসলে স্রেফ হাস্যরসের অংশ ছিল এবং ম্যাচে যা ঘটেছে, সেটাকে অতিরঞ্জিত ও নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে মাত্র। 

বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা শেয়ার করে পুরো বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে এক দীর্ঘ পোস্টে তারা লেখে, ‘বাংলাদেশের বন্ধুদের জন্য। নিশ্চয়ই তোমরা আমাকে চেনো না, কিন্তু আমি সান মারিনো ফুটবল এবং সাধারণ ফুটবলের একজন অনুসারী। আজ এতটা সাড়া পাবো—সত্যিই আশা করিনি। টুইটগুলো দেখে কেউ যেন কষ্ট না পায়, এগুলো আসলে এই অ্যাকাউন্টের হাস্যরসের অংশ। ম্যাচে যা ঘটে, সেটাকে অতিরঞ্জিত ও নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়। আমি যা লিখি সবই ব্যঙ্গ-রসাত্মক (সারকাজম); এখানে যা বলা হয়, তা বাস্তব অর্থে নেওয়ার কিছু নেই—এটা এই অ্যাকাউন্টের একটি চরিত্র মাত্র।' 

এতে আরও বলা হয়, ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে তোমাদের প্রথম জয় পাওয়ার জন্য আমি তোমাদের অভিনন্দন জানাই। এটা তোমাদের জন্য সত্যিই ঐতিহাসিক একটি অর্জন হওয়া উচিত। আমি এখন থেকে তাদের ম্যাচগুলো আরও নিয়মিতভাবে দেখব। সান মারিনো এবং বাংলাদেশ সবসময়ই বন্ধু থাকবে। সবাইকে আমার শুভেচ্ছা রইল।’

এদিকে মাঠের লড়াইয়ে ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ঐতিহাসিক জয়। একই সাথে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ হিসেবে টমাস ডুলিরও এটি প্রথম জয়। তবে এই রাজকীয় জয়ের পরও আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন না ডুলি। ম্যাচ–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দের পাশাপাশি দলের কিছু বড় দুর্বলতা ও ভুলও বেশ সততার সাথে তুলে ধরেন তিনি। 

বিশেষ করে ফিনিশিংয়ের চরম দুর্বলতায় প্রচুর সুযোগ নষ্ট করা, এর পাশাপাশি ফুটবলারদের ‘ফার্স্ট টাচ’, পাসিং ও রিসিভে পুরোপুরি নিখুঁত না থাকার বিষয়টি ডুলির চোখ এড়ায়নি। সেই সাথে রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণভাগের জন্য খেলা তৈরির সময়ও বাংলাদেশ দল সহজেই বল হারিয়ে ফেলেছে। 

মূলত এই তিনটি বিষয়ে বড় ধরনের ঘাটতি চোখে পড়েছে এই কোচের। সামগ্রিক পারফরম্যান্সে খুশি হলেও গোল করার ও সুযোগ হাতছাড়া করার পুরোনো অভ্যাসটি যে বাংলাদেশের এখনো রয়ে গেছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে ডুলি বলেন, ‘আমাদের প্রধান দুর্বলতা হলো গোল করার জন্য আমাদের এখনো প্রচুর সুযোগের প্রয়োজন হয়।’

বিশ্বরেকর্ড গড়লেন লিটন
  • ১৩ অক্টোবর ২০২৬
স্টাফ নার্স নিয়োগ দেবে ওয়ালটন ট্রাস্টি বোর্ড, আবেদন ২৪ অক্ট…
  • ১৩ অক্টোবর ২০২৬
এসএসসি-এইচএসসির সময় ৪০ লাখ বছর জাতির জীবন থেকে চলে যাচ্ছে
  • ১৩ অক্টোবর ২০২৬
বছরের পর বছর ‘প্রভাষক’ থাকার অভিযোগ শিক্ষকদের, নোট নিতে বলল…
  • ১৩ অক্টোবর ২০২৬
ড. ইউনূসকে হেনস্তা চেষ্টায় ব্যবস্থা নিবে সরকার: জাহেদ উর রহ…
  • ১৩ অক্টোবর ২০২৬
কর্মচারী নিয়োগ দেবে একশনএইড বাংলাদেশ
  • ১৩ অক্টোবর ২০২৬