ইরাক ফুটবল দল © সংগৃহীত
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ইরাক। ৪০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপে জায়গা করে নিল যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি। বুধবার মেক্সিকোর মন্তেরেইতে অনুষ্ঠিত আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে তারা বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে এবারের বিশ্বকাপে শেষ দল হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেছে দেশটি।
ম্যাচের দশম মিনিটে আলি আল-মাহাদির গোলে এগিয়ে যায় ইরাক। প্রথমার্ধেই বলিভিয়া সমতায় ফেরে। ৫৩তম মিনিটে আয়মেন হুসেইনের গোল ইরাককে আবার এগিয়ে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত দলকে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে।
ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড ম্যাচের পর বলেন, 'ফুটবলারদের অবশ্যই অভিনন্দন জানাই, তারা সত্যিকারের ইরাকি মানসিকতা নিয়ে খেলেছে, লড়াই করেছে এবং জীবন বাজি রেখেছে। এ কারণেই আমরা ম্যাচটি জিতেছি। বলিভিয়াকে পুরো কৃতিত্ব দিতেই হবে, কারণ তারা ভালো খেলেছে। আমাদের জয় সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র দুর্দান্ত রক্ষণভাগের কারণে, যারা নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিল, যেমনটা আমি আগেই বলেছি এবং আমরা ক্রসগুলোও খুব ভালোভাবে প্রতিহত করেছি। আমি খুশি যে আমরা ৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষকে আনন্দ দিতে পেরেছি, বিশেষ করে এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটছে তার পরিপ্রেক্ষিতে...'
ইরাকের জয় দিয়ে চূড়ান্ত হলো এবারের বিশ্বকাপের ৪৮ দলের তালিকা, যেখানে এশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে আছে ৯টি দল। বিশ্বকাপে 'আই' গ্রুপে ইরাকের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স, সেনেগাল ও নরওয়ে।
ম্যাচে ইরাক খুব চোখে পড়ার মতো ফুটবল খেলতে পারেনি, তবে তাদের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মানসিকতা, বলের জন্য লড়াই এবং কার্যকারিতা ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি বলকে শেষ সুযোগের মতো ব্যবহার করায় দলকে ফলাফল এনে দেয়।
বলিভিয়া লাতিন আমেরিকার শেষ ম্যাচে ব্রাজিলকে হারিয়ে প্লে-অফে এসেছিল। তারা সেমি-ফাইনালে সুরিনামকে হারিয়ে চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছালেও মূল ম্যাচে বড় হুমকি তৈরি করতে পারেনি এবং সুযোগ তৈরি করলেও কাজে লাগাতে পারেনি।
শেষ বাঁশি বাজতেই ইরাকের খেলোয়াড়রা আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন। কেউ দৌড়ে বেড়িয়ে যান, কেউ সতীর্থকে আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরেন, কেউ সিজদায় কৃতজ্ঞতা জানালেন। কেউ হাসি দেখালেন, কারও চোখে পানি—স্বপ্নের ঠিকানা পাওয়া আনন্দে ফুটবলারেরা আবেগে ভাসছিলেন।