বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতি মানে শুধু পড়াশোনা নয়

১৯ আগস্ট ২০২০, ০১:০৬ PM

এ পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই স্বাপ্নিক। মানুষের সফলতার যাত্রা হয় স্বপ্ন দেখা থেকেই। আমরা প্রায় প্রত্যেকেই স্বপ্ন দেখি কোন ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা ভালো সাব্জেক্ট নিয়ে পড়ালেখা করার। কেউ বা মেডিকেলে কেউ বুয়েটে। কিন্ত স্বাপ্নিকদের অধিকাংশের স্বপ্নই যে অধরা রয়ে যায়! শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে একদল যোদ্ধা। যারা সকল প্রতিকূলতা পেরিয়ে মানজিলে মাকসুদে পৌছাতে পারে।

ভর্তি-পরীক্ষায় আপনার বিগত জীবনের সকল অর্জন দিয়েই আপনাকে বিবেচনা করা হবে আপনি যোগ্য কি না? এইচএসসি পরীক্ষার পর থেকে ভর্তি পরীক্ষার আগ পর্যন্ত সময়টুকুকে ভর্তি-পরীক্ষার সময় হিসাবে পরিগণিত করা হয়। এই সময়ে পেরোতে হয় অনেক বাধা- বিপত্তি।

ভর্তি পরীক্ষা যেহেতু গতানুগতিক কোন পরীক্ষা নয় তাই এর প্রস্তুতিও আপনাকে নিতে হবে গতানুগতিকতার বাহিরে গিয়ে। এখানে প্রস্তুতি বলতে যদি আপনি শুধু লেখাপড়ার কথাই ভেবে থাকেন তবে এখনো ভুলের মধ্যেই আছেন। এ সময়ের কিছু করণীয়:

১. আত্মবিশ্বাসী হতে হবে:
এই পর্বের সর্বপ্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আপনাকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হবে। প্রায় সময়ই আপনার মন বলবে ‘আমি টিকে থাকতে পারবো না। ‘এত এত মেধাবীর ভীড়ে আমি কীভাবে টিকে থাকবো?’ এই সকল নেতিবাচক ভাবনা ও প্রশ্নের প্রতি উত্তর হতে হবে ‘আমি পারবই’, ‘আমাকে পারতেই হবে’, ‘যারা পারবে তারা আমার মতই ছাত্র কেউ অতিমানব নয়’।

তবে প্রবল আত্মবিশ্বাসের কারণে যদি মনে করে থাকেন, ‘আমি তো ভালো ছাত্র, আমার চান্স শিওর’ বা মনে করেন ‘এ আর তেমন কী?, একটি পরীক্ষাই তো মাত্র’। তবে আপনি আরো বড় ভুলের মধ্যে আছেন। কনফিডেন্স ভালো তবে ওভারকনফিডেন্স নয়। খোঁজ নিয়ে দেখুন আপনার চেয়ে অনেক ভালো ভালো ছাত্র এই চিন্তায় রাতে না ঘুমিয়ে বই নিয়ে বসে থাকে। পাশের বাসার আন্টি টাইপ মানুষদের কথা বার্তা একদম কানে নেওয়া যাবে না। এরা আপনার মন মানসিকতা নষ্ট করার জন্য কটুকথা বলে। সর্বোপরি সৃষ্টিকর্তার নিকট বেশী বেশী প্রার্থনা করুন। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলুন। এতে আপনার মনোবল বৃদ্ধি পাবে।

২. হীনম্মন্যতায় ভোগা যাবে না:
মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী ও গ্রামের বা পিছিয়ে পড়া এলাকার শিক্ষার্থীরা সাধারণ হীনম্মন্যতার শিকার হয়। তাদের মাঝে এমন কিছু ধারণা কাজ করে- ‘ আমি মাদ্রাসার ছাত্র হয়ে কিভাবে এত ভালো ভালো কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে টেক্কা দেব? পারবো কি? আমি তো এমন এক কলেজের শিক্ষার্থী যার নাম স্থানীয় মানুষজন ছাড়া তেমন কেউ-ই জানে না। আমি কিভাবে নটরডেম, হলিক্রস বা তামিরুল মিল্লাতের ছাত্রদের সাথে লড়বো? এমন চিন্তা-ভাবনা মনে স্থান দেয়া যাবে না।

কারণ হিসাব করলে দেখা যাবে যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশই গ্রাম থেকে আসা। এমন অনেক ছাত্র পাবেন যারা এই ভর্তি পরীক্ষা দিতেই সর্বপ্রথম নিজ জেলা থেকে বের হয়েছে। আপনি হয়তো এসএসসি/দাখিল বা এইচএসসি/ আলিমে এপ্লাস পাননি। এ নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগা যাবে না। কারণ প্রতিবছরই যেখানে হাজার ডাবল এপ্লাসধারী পাশ করতে পারছে না। সেখানে এসএসসি ও এইচএসসি একটাতেও এপ্লাস না পাওয়া অনেক ছাত্র সফলদের নামের তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে।

৩. অর্থনৈতিক সমস্যা:
আমরা নিম্নমধ্যবিত্ত আয়ের দেশে বসবাস করছি। আমাদের অর্থনৈতিক সমস্যা থাকবেই এটাই স্বাভাবিক। আপনি হয়তো অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে কোচিং করতে পারছেন না বা মেটারিয়েলস কিনতে পারছেন না। তাই হাল ছেড়ে দিয়ে বসে আছেন। আপনি কিন্ত ভুল করছেন।

কারণ কোচিং ভর্তি-পরীক্ষায় তেমন প্রভাব ফেলে না। শুধু কোচিং করেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করা আর আদা ব্যাপারীর জাহাজের খবর নেয়া অনেকটা একই ধরনের কাজ। এটা মনে রাখবেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন কোন কোচিং সেন্টারের শিট থেকে করা হয় না। অপ্রতিরোধ্য মনোবলের কাছে অর্থনৈতিক সমস্যা বড় কিছু নয়। যদি এমন কোন আহামরি সমস্যা হয়েই থাকে যে আপনি পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারছেন না। তবে সেই সমস্যাটি গোপন না রেখে বিশ্বস্ত কাউকে জানান। ইনশাআল্লাহ কোন না কোন পথ পেয়ে যাবেনই।

৪.এইচএসসি প্রস্তুতি:
এ বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে এইচএসসি পরীক্ষা এখনো হয়নি। তাই এই অংশটি লিখা। এইচএসসি পরীক্ষার ভালো প্রস্তুতি ও ভালো রেজাল্ট আপনাকে ভর্তিযুদ্ধে অনেকটুকু এগিয়ে নিয়ে যাবে। ভর্তি পরীক্ষায় এইচএসসির রেজাল্টের ওপর বড় অংকের মার্কস থাকে তাই এইচএসসি পরীক্ষাকে কোন মতেই অবহেলা করা চলবে না।

★ পড়ালেখা:
ভর্তি যুদ্ধের প্রস্তুতির পুরো সময়টাতে আপনাকে নিয়মিত পড়ালেখার মাঝে থাকতে হবে। কোন গ্যাপ রাখা যাবে না। কোন বিষয়ে কনফিউশান থাকলে তা অবশ্যই দূর করতে হবে। পারা জিনিসগুলোকে বারবার রিভাইস করতে হবে। যা শিখবেন তা সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা রাখবেন। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নগুলো আনকমন হয় না বরং কনফিউজিং হয়। তাই কোন মতেই কোন তথ্যের ব্যাপারে কনফিউশান রাখা যাবে না। প্রয়োজনে কম শিখুন কিন্ত ভালোভাবে শিখুন। প্রতিদিন যে কোন একটি জাতীয় খবরের কাগজ পড়ুন এবং গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো ভালোভাবে পড়ুন।

প্রতিদিন আগেরদিনের চেয়ে একটু বেশী পড়ার চেষ্টা করুন। শুধু কোচিং-নির্ভর পড়ালেখা করবেন না। যে কোন একটি প্রশ্ন-ব্যাংক কিনুন এবং বারবার সম্ভব হলে প্রতিদিন কিছু অংশ পর্যালোচনা করুন। এতে আপনে প্রশ্নের প্যাটার্ন বুঝতে পারবেন এবং প্রশ্নপত্রের ট্রিকি-পয়েন্টগুলা ধরতে পারবেন।

বিষয়ভিত্তিক আলোচনা:
একেক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন প্যাটার্ন একেক রকম। তবে বেশীরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্রের কমন কিছু অংশ থাকে। যেমন- বাংলা, ইংরেজি এবং সাধারণ জ্ঞান।

১. বাংলা:
প্রশ্নপত্রের একটি অংশ বাংলা। বাংলায় দুটি অংশ বাংলা সাহিত্য ও বাংলা ব্যাকরণ। বাংলা সাহিত্যের প্রায় অর্ধেকেরও বেশী প্রশ্ন আসে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য থেকেই। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্য অংশের অধিকাংশ বলতে গেলে প্রায় প্রশ্নই পাঠ্য বই থেকে করা হয়। আর বাংলা ব্যাকরণের জন্য নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বইটি ভালোভাবে বুঝে পড়লে বাংলা ব্যাকরণের অনেকটুকু কাভার হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

২. ইংরেজি:
ইংরেজির অধিকাংশ প্রশ্নই হয় গ্রামার-নির্ভর। বানান, বিপরীত শব্দ ও প্রতিশব্দ প্রতিবছরই আসে। প্রশ্ন রিপিট হয়। তাই বানান প্রতিশব্দ ও বিপরীত শব্দের ক্ষেত্রে বিগত বছরগুলোতে আসা প্রশ্নগুলোকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। আর গ্রামারের বেসিক জিনিসগুলো একদম গোড়া থেকে ভালোভাবে শিখতে হবে। এজন্য একটি বই সাজেস্ট করা যেতে পারে CLIFFS TOEFL। এটা শেষ করা সম্ভব হলে BARRONS TOEFL পড়া যেতে পারে। ইংরেজি সাহিত্য থেকে দু-একটি প্রশ্ন করা হয়। এ ক্ষেত্রে বিগত সালের প্রশ্নগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর ইংরেজি টেক্সট বইয়ের কবিতাগুলোকেও গুরুত্ব সাহকারে পড়তে হবে এবং কবিদের বিখ্যাত রচনা ও তাদের সম্পর্কে জানতে হবে।

৩. সাধারণ জ্ঞান:
এই অংশটি অনেক বিস্তৃত। সর্বপ্রথম আপনাকে মানচিত্র সম্পর্কে জানতে হবে। পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ, বিখ্যাত, সবচেয়ে ছোট, সবচেয়ে বড় জিনিসগুলো নখদর্পনে রাখতে হবে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ সকল ঘটনা জানতে হবে। এজন্য প্রতিদিন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা পড়া অত্যাবশ্যক। প্রতিমাসে মাসিক কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়া যেতে পারে। এটি অত্যন্ত ফলপ্রসু।

সাধারণ জ্ঞানের বাংলাদেশ অংশে আপনাকে অবশ্যই যা জানতে হবে তা হল, বঙ্গভঙ্গ, বঙ্গভঙ্গ রদ, লহোর প্রস্তাব, সাতচল্লিশের দেশভাগ, আওয়ামী মুসলিম লীগের সূচনা, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, পয়ষট্টির পাক-ভারত যুদ্ধ, ছেষট্টির ছয়দফা, সাতষট্টির ন্যাপ, আটষট্টির আগরতলা ষড়যন্ত্র, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং বিজয়ের একাত্তর সম্পর্কে বিস্তারিত ও খুটিনাটি সবকিছু জানতে হবে। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেবেন সেই বিশ্ববিদ্যালয় /ইনস্টিটিউট সম্পর্কে সকল তথ্য ভালোভাবে জেনে নেবেন।

পুরো সময়টাতেই নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখবেন। এসময় অসুস্থ হওয়া চলবে না। যদি অসুস্থ হয়েও যান তবে মনোবল ঠিক রাখবেন এবং পড়ালেখার সাথে যতটুকু সম্ভব সংশ্লিষ্টতা বজায় রাখার চেষ্টা করবেন। সৃষ্টিকর্তার কাছে বেশী বেশী চান যাতে তিনি ভাগ্যকে সুপ্রসন্ন করে দেন। আপনাদের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল। দেখা হবে বিজয়ে কোন এক স্বপ্নের প্রাঙ্গণে।

লেখক: শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ১৪তম ব্যাচ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

জবির শূন্য আসনে ৫ম পর্যায়ের ভর্তি কার্যক্রম শুরু
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়ার অভিযোগ নিষিদ্ধ ঘোষি…
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকার বাতাস আজ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করল আমিরাত, বাংলাদেশে কবে?
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
মালয়েশিয়ার দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শাবিপ্রবির সমঝোতা স্মা…
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
মোজতবা খামেনি কোথায় আছেন, জানালেন রুশ রাষ্ট্রদূত
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence