‘দ্য কেরালা স্টোরি’ দেখে মুখ খুললেন তসলিমা © সংগৃহীত
গত সপ্তাহ থেকেই 'দ্য কেরালা স্টোরি' নিয়ে উত্তাল গোটা দেশ। সুদীপ্ত সেন পরিচালিত সিনেমাটি ৫ মে ভারতের ২ হাজার পর্দায় মুক্তি পেয়েছে। এই ছবি নিয়ে ইতোমধ্যেই দ্বিধাবিভক্ত রাজনৈতিক মহল। তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এই ছবি। সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়াতে পারে এই ছবি, সেই কারণেই ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার এই ছবি দেখে মুখ খুললেন বাংলাদেশের লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
বুধবার (১০ মে) সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাসে সিনেমাটির নানা দিক নিয়ে কথা বলেন তিনি।
ছবিটি নিয়ে নিজের ফেসবুকে তসলিমা লিখেছেন, ‘দ্য কেরালা স্টোরি দেখা হলো। দ্য কাশ্মীর ফাইলস দেখার সময় যেরকম অনুভূতি, এই সিনেমা দেখার সময় প্রায় একইরকম অনুভূতি আমার।’
এরপর তসলিমা লিখেছেন, ‘দ্য কেরালা স্টোরি' কোনোভাবেই উন্নতমানের ফিচার ফিল্ম নয়। এতে আছে কিছু সত্য তথ্য, আছে অতিরঞ্জন। কোরান, হাদিসের মানবতাবিরোধী আর নারীবিরোধী শ্লোকগুলো বিভিন্ন কথোপকথনের মধ্যে এত বেশি গুঁজে দেওয়া হয়েছে, যে, কারও সংলাপকে স্বাভাবিক এবং স্বতস্ফূর্ত মনে হয়নি। আইসিসদের বর্বরতা আর বীভৎসতা নিয়ে এ পর্যন্ত বেশকিছু সিনেমা বানানো হয়েছে, সিনেমাগুলো দ্য কেরালা স্টোরির চেয়ে কিন্তু বেটার।’

তিনি আরও লেখেন, ‘কেরালা লিটফেস্টে অংশ নিতে রাজ্যের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা কোঝিকড় বা কালিকটে বেশ কয়েকবার গেছি আমি। কালিকটে, আমি অবাক হয়েছি, অনেক মুসলমান নারী পুরুষ আমার স্পিচ শুনতে এসেছে, এমনকী আমার অটোগ্রাফ নিয়ে গেছে। আমার নাম ঘোষণা করা সত্ত্বেও মুসলমানরা তসলিমা বিরোধী মিছিল করেনি, মিছিল বরং সেক্যুলার কলকাতায় করেছিল কট্টর মুসলমানেরা।
কেরালার ৩২০০০ মেয়ে আইসিসে যোগ দিয়েছে, এই তথ্য সম্পর্কে আমার যথেষ্ট সন্দেহ। পাকিস্তান আর বাংলাদেশ থেকে বরং মুসলমানেরা বেশি যোগ দিয়েছে আইসিসে। এই দুটি দেশে আইসিসের আক্রমণও নেহাত কম হয়নি। দ্য কেরালা স্টোরির চেয়ে জরুরি দ্য পাকিস্তান স্টোরি বা দ্য বাংলাদেশ স্টোরি বানানো।’
তবে তসলিমা চান না ছবিটি নিষিদ্ধ করা হোক। তিনি লিখেছেন, ‘দ্য কেরালা স্টোরি আমার পছন্দের সিনেমা নয়। তাই বলে আমি কিন্তু চাই না এই সিনেমা কোথাও নিষিদ্ধ হোক, কোথাও এর প্রদর্শনী কোনও কারণে বন্ধ থাকুক। এই সিনেমা হয়তো কিছু মানুষকে মুসলিমবিরোধী হতে উদবুদ্ধ করবে।
অনেক শিল্প সাহিত্যেই কোনও দর্শনের বিপক্ষে, কোনও জাতি বা সম্প্রদায় বা ব্যক্তির কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সমালোচনা থাকে, তাই বলে সেসব শিল্প সাহিত্যকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে হবে কেন! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ওপর তৈরি সিনেমাগুলো দেখে জার্মান জাতির ওপর দর্শকরা ক্ষুব্ধ হতে পারে, তাই বলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ওপর সিনেমা বানানো বন্ধ করতে হবে নাকি! দ্য কেরালা স্টোরি যারা নিষিদ্ধ করতে চাইছে, তাদের ক্ষোভের বারুদে আগুন নিক্ষেপ না করে বরং 'দ্য ইউপি স্টোরি' নামে সিনেমা বানান! কেউ তো বাধা দেয়নি।’
সুদীপ্ত সেনের এই ছবিতে অভিনয় করেছেন আদা শর্মা, যোগিতা বিহানি, সিদ্ধি ইদনানি এবং সোনিয়া বালানির মতো অভিনেতারা। তবে বিরোধিতা বা বিতর্ক যেন শাপে বর হয়েছে ছবিটির জন্য। কেননা চলচ্চিত্রটি নিয়ে আগ্রহীরা ভিড় করছেন প্রেক্ষাগৃহে।