রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রিয়াঙ্কা © সংগৃহীত
জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু যেন কেউই মানতে পারছেন না। রবিবার ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে না ফেরার চলে যান ৪৩ বছরের তরুণ এই অভিনেতা।
জানা যায়,পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা সীমান্তের তালসারি সমুদ্রসৈকতে শুটিং করতে গিয়েছিলেন রাহুল। শুটিং শেষে শুটিং ইউনিটের লোকজনের সামনেই সমুদ্রে তলিয়ে যান টলিপাড়ার জনপ্রিয় অভিনেতা। মৃত্যুর নিশ্চিত হয় হাসপাতালের নেওয়ার পর।
এদিকের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার যাতে শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি পায়, আপাতত সেটাই চাইছেন রাহুলের ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মীরা। আর এমন দুঃসময়ে একা থাকতে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন সেপারেশনে থাকা রাহুলের সহধর্মিণী অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার।
প্রিয়াঙ্কা তার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তটা তাঁদের জন্য গভীর শোক ও হতাশার।’ এমন পরিস্থিতিতে তিনি সকলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসর ও গোপনীয়তাকে সম্মান করা হয়। প্রিয়াঙ্কা আরও লেখেন. 'এই কঠিন সময়ে শুধু একজন স্বামীকে হারানোর যন্ত্রণা নয়, একটি সন্তানের পিতৃহারা হওয়ার বেদনা, এক মায়ের অসহায়তা এবং গোটা পরিবারের শোকের কথাও ভাবা উচিত।' এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাঁদের সময় প্রয়োজন বলেই জানিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা।
বিশেষ করে সংবাদমাধ্যম এবং পরিচিতদের উদ্দেশে তিনি আবেদন জানিয়েছেন, যেন কেউ তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ না করেন এবং এই শোকের সময়ে তাঁদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, এই মুহূর্তে সহানুভূতি ও সমর্থনই সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে। প্রিয়াঙ্কার এই বার্তা ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা যায়, ২০১০ সালে অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে বিয়ে করেছিলেন রাহুল; যদিও ২০১৭ সাল থেকে তারা আলাদাভাবে থাকা শুরু করেন। যদিও পরবর্তীতে তাদের দূরত্ব কমে যায়; তবে তা পুরোপুরি ঠিক হয়নি বলে মিডিয়াপাড়ায় চাউর রয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
জানা যায়, সকাল থেকে শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন রাহুল এবং তাঁর সহকর্মীরা। বিকেলের দিকে শুটিং শেষ হয়। শুটিং ইউনিটের একটি সূত্রে খবর, তার পর একাই পানিতে নামেন রাহুল। সংশ্লিষ্টরা জানান, পানিতে নামার পর রাহুলের পা আটকে গিয়েছিল বলে ধারনা করা হচ্ছে। তখনই ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে। রাহুল সেই ঢেউ সামলাতে না পেরে ডুবে যেতে থাকেন। বিপদ বুঝতে পেরে শ্বেতা ‘রাহুলদা ডুবে যাচ্ছে’ বলে চিৎকার করে সকলকে একজোট করার চেষ্টা করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তথা অভিনেতা দিগন্ত বাগচী বলেন, “হয় ও সাঁতার জানত না, বা কোনও ভাবে আটকে পড়েছিল। হঠাৎ টেকনিশিয়নরা চিৎকার করতে করতে বলেন, ‘রাহুলদা ডুবে যাচ্ছে’। যখন উদ্ধার করা হয়, তখনও বেঁচে ছিলেন রাহুল।’’ অন্য দিকে, রাহুলের গাড়িচালক বলেন, ‘‘রাহুলদা সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি বার বার বারণ করছিলাম। শোনেনি আমার কথা।’’
সতীর্থরা জানান, পানি থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য দ্রুত গাড়িতে তোলা হয় রাহুলকে। তালসারির সৈকত থেকে ১০-১২ কিলোমিটার দূরে দিঘা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সন্ধে ৬টা ১০ মিনিটে চিকিৎসকেরা জানান, আগেই মারা গিয়েছেন রাহুল।
ধারাবাহিকের প্রোডাকশন ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তী বলেন, ‘তখন শুটিং প্যাকআপ হয়ে গিয়েছিল। ৫টা-সাড়ে ৫টা বাজে (সন্ধ্যা) তখন। ঘড়ি দেখার সময় ছিল না তখন আর। শিল্পীদের ছেড়ে দিচ্ছিলাম এক এক করে। অম্বরীশদা (ভট্টাচার্য), ভাস্করদার (চক্রবর্তী) গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে। তখনই ফোন আসে আমার কাছে। সঙ্গে সঙ্গে সৈকতে পৌঁছোই আমি।’
চন্দ্রশেখর আরও বলেন, ‘ওকে গাড়িতে তোলার পর আমি সামনে উঠলাম। লাল কাপড় নাড়াতে নাড়াতে হাসপাতাল পৌঁছোই। শহরে ঢোকার পর থেকেই যানজটের জন্য দেরি হয়ে যায়। রাস্তায় যেতে যেতে রাহুলের বুকে হাত বোলাচ্ছিল আমাদেরই টেকনিশিয়ানরা। যদি বাঁচানো যায়, সেই আশায়। প্রচণ্ড হাঁপাচ্ছিল রাহুল।’
তিনি জানান, হাসপাতালে যাওয়ার পথেই সম্ভবত হার্ট অ্যাটাক হয় রাহুলের। ওই ২০-২২ মিনিটের মধ্যেই মারা যান তিনি। চন্দ্রশেখর জানান, সোমবার কাঁথি হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হবে। আপাতত রাহুলের গাড়িরচালক হাসপাতালেই আছেন। রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে ফোন করে সব ঘটনা জানানো হয়েছে।