শিক্ষার্থীরা হল ছাড়লেও থমথমে চুয়েট ক্যাম্পাস

চুয়েট
বৃষ্টি বিড়ম্বনা নিয়েই ক্যাম্পাস ছেড়েছেন অনেকেই  © সংগৃহীত

ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের জেরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) বন্ধ ঘোষণার পর হল ছেড়েছেন শিক্ষার্থীরা। আপাতত ক্যাম্পাসে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজমান করছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুসারে মঙ্গলবার (১৪ জুন) বিকেলে হল ছাড়েন ছাত্ররা আর আজ বুধবার (১৫ জুর) সকালে ছাড়েন ছাত্রীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধের সিদ্ধান্তে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সভায় আগামী ৫ জুলাই পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু একইদিন সন্ধ্যায় সিন্ডিকেটের আরেকটি জরুরি সভায় তা ২১ জুন পর্যন্ত কমিয়ে আনা হয়। এই সময়ে শ্রেণি কার্যক্রম, পরীক্ষা ও হল বন্ধ থাকবে। ২২ জুন থেকে রুটিন অনুযায়ী সব কার্যক্রম চলবে।

এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে গেলেও ছাত্রলীগের বিভক্ত নেতাকর্মীদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশেপাশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় নতুন করে যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।

আজ বুধবার বিকেলে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের চুয়েট প্রতিনিধি গোলাম রব্বানী শান্ত জানান, ক্যাম্পাস পুরোপুরি শান্ত, হলগুলোতে কোনো শিক্ষার্থী অবস্থান করছে না। মেয়েদের হল আজ সকাল দশটার মধ্যে ছাড়ার নির্দেশ থাকলেও গতকাল রাতে অনেক শিক্ষার্থীই হল ছেড়েছে,তবে বাকি যেসকল শিক্ষার্থী ছিলো তারাও সকাল ১০ টার মধ্যে হল ছেড়েছে। 

তবেছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের জেরে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজমান। খাবার  ক্যান্টিনগুলো চুয়েট প্রশাসনের নির্দেশনায় আগামী শনিবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। আবাসিক হলগুলো বন্ধ থাকার পাশাপাশি একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও আজও দাপ্তরিক কার্যক্রম পুরোদমে চলেছে।

চুয়েটের ছাত্র কল্যাণ উপ-পরিচালক ড. এটিএম শাহজাহান বলেন, ক্যাম্পাসে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চুয়েট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামুলকভাবে হল ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনার পর শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে গেছে।

এদিকে হঠাৎ করে হল ছাড়তে বলায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়ে যান। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বাইরের শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমেও ক্ষোভ ঝাড়েন অনেক শিক্ষার্থী।


x