© সংগৃহীত
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রহস্যজনকভাবে মারা যাওয়া প্রকৌশলী সুব্রত সাহার মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও সত্য উদঘাটন চেয়ে মানববন্ধন করেছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (৩ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ১৮তম ব্যাচ এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
মানববন্ধনে সুব্রত সাহার স্ত্রী নুপুর সাহা বলেন, আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের সংসার সুখের ছিল। কোনো দিন মনোমালিন্য হয়নি। আমার স্বামী আত্মহত্যা করতে পারেন না বলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি তার স্বামী হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান।
প্রকৌশলী নাসিম হাসান বলেন, সুব্রত সাহার লাশ উদ্ধারের ছয় ঘণ্টা পরও হোটেল কর্তৃপক্ষ পরিবারকে কিছু জানায়নি। পরে বলা হয়, ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ছাদ থেকে পড়লে তার মুখমণ্ডল ছিন্নভিন্ন হয়ে যেত। মাথা থেঁতলে যেত। অথচ মুখমণ্ডলে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। হোটেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, সুব্রত মানসিক রোগী ছিলেন। অথচ তিনি কখনোই মানসিক রোগী ছিলেন না।
মৃতের বন্ধু সবুজ বলেন, মৃত্যুর আগেরদিন সন্ধ্যায় আমরা একসঙ্গে ইন্টারকন্টিনেন্টালের ক্যান্টিনে চা খেয়েছি, গল্প করেছি। কিন্তু তাকে হতাশ মনে হয়নি। কী এমন হলো যে তিনি ছাদে গিয়ে আত্মহত্যা করবেন?
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অবিলম্বে যদি আসামীদের গ্রেফতার না করা হয় তাহলে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে যাব, প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেব।
মানববন্ধনে সুব্রত সাহার পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী রিয়াসাত সুমন, মাকসুদুর রহমান ভূইয়া লিটন, সামসুদ্দিন শামস, মিল্টন দত্ত, বিশ্বনাথ সাহা, সাইফুর রহমান, আব্দুল লতিফ, সৌমিত্র, নিমাই গাংগুলি, আজিজ মিশির সেলিম, আব্দুল হক এবং ফারুক আহমেদ প্রমুখ।
সুব্রত সাহা স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে রাজধানীর সেন্ট্রাল রোডে থাকতেন। তার বাড়ি চাঁদপুরে। তিনি চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। গত ২৫ মে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ভবনের বর্ধিতাংশের দোতলার ছাদে সুব্রত সাহার রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়।