বান্দরবান-থানচি সড়কে জীবননগর এলাকায় একটি মিনিবাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি গভীর পাহাড়ি খাদে পড়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তিনজন কর্মচারী নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ওই মিনিবাসে থাকা সাতজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার সবাই বুয়েটের কর্মচারী বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন, মঞ্জুরুল ইসলাম (ঠিকানা জানা যায়নি), ঢাকার লালবাগের হামিদুল ইসলাম ও মো. রাজিব (ঠিকানা জানা যায়নি)।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, সকালে বুয়েটের গাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়টির ৯ জন কর্মচারী বান্দরবান জেলা শহর থেকে থানচিতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। জেলা শহর থেকে ৫১ কিলোমিটার দূরে থানচি উপজেলার জীবননগরের পাহাড়ের উঁচু ও আঁকাবাঁকা সড়কে নামার সময় তাঁদের বহনকারী মিনিবাসটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। মিনিবাসটি সড়ক থেকে ছিটকে খাড়া পাহাড় গড়িয়ে প্রায় আড়াই হাজার ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে যাত্রীরা পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে পড়ে মারাত্মক আহত হন।
জীবননগর পাহাড়ের পাদদেশের ভরতপাড়ার কারবারি (পাড়াপ্রধান) কিনাচান চাকমা বলেন, গাড়িটি গড়িয়ে পড়ার সময় তারা দেখেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে পাশের বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে জানানো হয়। মিনিবাসটি বান্দরবানের বাইরের হওয়ায় এবং চালক উঁচু পাহাড়ি সড়কে অভ্যস্ত না হওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।
থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুদীপ রায় বলেন, গভীর খাদে পড়া একজন ঘটনাস্থলে মারা গেছেন। তার নাম জানা যায়নি। তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন, বিজিবি, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আহত অন্য আটজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বিজিবির হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। তার কাছে পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। তিনি বুয়েটের সিনিয়র সিকিউরিটি গার্ড হামিদুল ইসলাম।
আহত ছয়জনকে পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন, অহিদুজ্জামান, ফয়সাল আহমেদ, আব্দুল মালেক, মো. ফারুক, মো. মিলন ও মো. রাজিব মিয়া।
বান্দরবানের সিভিল সার্জন নীহার রঞ্জন নন্দী বলেন, সদর হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই হামিদুল ইসলাম মারা গেছেন। আহত আরও একজনের অবস্থা গুরুতর। তবে তাদের নাম জানা যায়নি।