© সংগৃহীত
চাকরি দেওয়ার নামে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) এক কর্মকর্তার স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে দিয়েছে স্থানীয় কয়েকজন। বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে আড়ংঘাটা থানাধীন তেলিগাতী ফকিরবাড়ি এলাকায় দিলারা জাহান পায়েল নামে ওই কর্মকর্তার স্ত্রীকে (৩০) আটকে রাখে ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনার খবর পেয়ে আড়ংঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং তাকে হেফাজতে নেয়।
জানা গেছে, দিলারা জাহানের স্বামী এস এম সাইফুল্লাহ কুয়েট উপাচার্যের দপ্তরের ফাইন্যান্স কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি উপাচার্যের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তবে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে পিএস পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর একজন মো. হোসেন শেখ জানান, রেলিগেট মহেশ্বরপাশা এলাকার বাসিন্দা দিলারা জাহান পায়েল তার স্বামীর মাধ্যমে কুয়েটে চাকরির কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে তিনি টালবাহানা শুরু করেন।
তেলিগাতী মধ্যপাড়ায় যে বাড়িতে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল, সেটি কুয়েটের চাকরিচ্যুত মাস্টাররোল কর্মচারী হোসনে আরার বাড়ি। হোসনে আরা অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী জালাল ফকির নিজের চাকরির জন্য ১৬ লাখ টাকা দিয়েছেন। পাওনা টাকা পেলেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে আর্থিক লেনদেন–সম্পর্কিত কোনো কাগজ হোসনে আরা দেখাতে পারেননি।
তবে কুয়েট কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ পলাশ দাবি করেন, তার স্ত্রী দিলারা জাহান পায়েল মানসিকভাবে অসুস্থ। আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি জানার পর তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ তৈরি হয়েছে।
কুয়েট জনসংযোগ দফতরের সহকারী পরিচালক মনোজ কুমার মজুমদার জানান, এ ধরনের কোনও অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রেজাউল করিম জানান, তেলিগাতীতে লোকজন পায়েল নামে একজন মহিলাকে আটক রেখেছে জানতে পেরে পুলিশ সেখানে যায় এবং তাকে উদ্ধার করে। এলাকাবাসী মৌখিকভাবে জানায় ওই নারী চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়েছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে কেউ কোনও অভিযোগ করেননি। আমরা ওই নারীকে থানায় এনেছি। কেউ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।