শহীদ আব্দুল হামিদ হল © সংগৃহীত
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) আবাসিক হল শহীদ আব্দুল হামিদ হলের একটি কক্ষে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। পরে শিক্ষার্থীরা হলে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। রবিবার (২৬ এপ্রিল) ভোর পাঁচটার দিকে হলের ৩১৬ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ভোরে ওই কক্ষটির ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে পাশের কক্ষের শিক্ষার্থীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল এবং ভেতরে কেউ অবস্থান করছিলেন না। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে হলের শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে হলে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাইয়াজ অমি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ল্যাপটপের কীবোর্ডে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে কক্ষের কিছু বই পুড়ে গেলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
শিক্ষার্থীরা জানান, হলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র প্রস্তুত থাকায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।
কক্ষটির বাসিন্দা ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল ইমরান বলেন, ‘ঘটনার সময় আমরা রুমে ছিলাম না। পরে এসে জানতে পারি আগুন লেগেছে। ফ্যান এবং ল্যাপটপের লাইনের সংযোগে শর্টসার্কিটের কারণে আগুন লাগতে পারে। ল্যাপটপের অতিরিক্ত কিবোর্ড আর কিছু বই পুড়ে গেছে। এছাড়া আর বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।’
এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে শহিদ আব্দুল হামিদ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু শুনিনি, হলের কর্তব্যরত অফিসার আমাকে অবহিত করেনি। পরে তিনি কল করে জানান, হলে কর্তব্যরত অফিসার আমাকে জানাতে ভুলে গিয়েছিলো। এটা অনেক পুরাতন হল, দেওয়ালে সংযুক্ত ইলেক্ট্রিক মাল্টিপ্লাগ থেকে আগুন লাগতে পারে। হলে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আমরা মাঝেমাঝে এসব চেকআপ করি, ছাত্রদের সাথে প্রতি মাসে মিটিং করি। হলের সমস্যা সমাধানে আমরা তৎপর।’
প্রসঙ্গত, গত রবিবার (৮ মার্চ) শহীদ শহীদুল ইসলাম হলের ১০৪ নম্বর কক্ষে কেমিক্যালজাতীয়/ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল। ঘন ঘন আবাসিক হলে আগুন লাগার ঘটনায় শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।