প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। © টিডিসি ফটো
চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগ ও পদায়ন না পাওয়া বিক্ষুব্ধ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকরিপ্রত্যাশীরা এবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে নতুন কর্মসূচি শুরু করেছেন। আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর মিরপুর-২ এর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, এদিন বেলা ১২টার পর থেকেই নিয়োগ প্রার্থীরা বিভিন্ন ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানে প্রাথমিকে শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় তাদের ‘দাবি মোদের একটাই, নিয়োগপত্র হাতে চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
আন্দোলনকারীরা জানান, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো নোটিশ বা স্পষ্ট ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। এ সময় তারা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে দুই দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি) স্মারকলিপি দিয়েছেন।
মাহবুব হোসেন নামের এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এ চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দ্রুত নিয়োগের দাবিতে আজ আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি। আমরা সব প্রক্রিয়া শেষ করেছি। মেডিকেল, কাগজপত্র জমাসহ সব। তারপরও মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এখন আর আশ্বাসে ভরসা নেই, লিখিত সিদ্ধান্ত চাই।’
এর আগে, গতকাল সকাল থেকে শাহবাগে অবস্থান নিয়েছিলেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা। দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে দেখা করেন সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল। এ সময় যোগদান প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা শেষে এ তথ্য জানিয়েছে আন্দোলনরত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের প্রতিনিধিদল।
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (তিন পার্বত্য জেলা বাদে) এক হাজার ৪০৮টি পরীক্ষাকেন্দ্রে একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৯৫টি আবেদন জমা পড়ে এবং ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
এরপর গত ২১ জানুয়ারি রাতে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়। গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্ব স্ব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।