© টিডিসি ফটো
করোনার এই পরিস্থিতিতে খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে পুরো দেশজুড়ে। সরকারি ত্রাণ কেউ পাচ্ছে আবার কেউ পাচ্ছেন না। একইসঙ্গে বিত্তবানরা এগিয়ে আসলেও মাসের পর মাস লকডাউন থাকাতে নিম্নমধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষগুলোর কপালে সময়মতো জুটছেন না খাবার। তাই এই দীর্ঘসময় জুড়ে লকডাউনের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) শাখা ছাত্রলীগের ভিন্নধর্মী কার্যক্রম।
বুটেক্স শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ২০০ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে সবজি বীজ। বুটেক্স ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম মিরানের উদ্যোগে কুষ্টিয়া জেলার হরিনারায়নপুর ইউনিয়নে এই সবজি বীজ বিতরণ করা হয়।
এ সম্পর্কে মিরান জানান, করোনার এই পরিস্থিতিতে মাসের পরে মাস কাটাতে হচ্ছে লকডাউনে। কখন দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা বলা দুষ্কর। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সমাজের খেটে খাওয়া মানুষগুলো। এদের সাহায্যার্থে সরকার এবং বিত্তবানরা এগিয়ে আসলেও দীর্ঘ সময়ে এ সাহায্য দেওয়া সম্ভব হয়ে উঠছে না। তাই করোনার এ স্থায়িত্বের কথা মাথায় রেখে আমরা এমন একটা পদক্ষেপ নিয়েছি, যাতে অন্তত নিত্যপ্রয়োজনীয় ফল-মূল, শাক-সবজি নিজেরা উৎপাদন করতে পারে।
তিনি বলেন, তাছাড়া চলমান করোনা পরিস্থিতিতে যেকোনো মুহূর্তে দেখা দিতে পারে খাদ্য সংকট। আর এই সংকট মোকাবেলায় কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। অধিক পরিমাণে খাদ্য উৎপাদন করতে পারলেই কেবল এই সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন বাড়ির আশপাশে যাদের আবাদি জমি রয়েছে এসব জমি যেন খালি না থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা বুটেক্স ছাত্রলীগ গ্রামের প্রায় ২০০ পরিবারকে দ্রুত ফলনশীল সবজি বীজ বিতরণ করেছি। যাতে তারা এই লকডাউনে কিছুটা খাবার হলেও নিজেরা উৎপাদন করতে পারে।
গ্রামবাসীর অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তারা প্রাণভরে দোয়া করেছেন আমাদের জন্য। আর অনুরোধ করেছেন যাতে আমরা এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখি।
ভবিষ্যতে কি কি করতে ইচ্ছুক এমন প্রশ্নের জবাবে মিরান বলেন, আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উদ্যোগে গরীবের দোকান (যেকোনো পণ্যের দাম ১০ টাকা) এবং ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আগামীতে আমরা এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখবো।
এর আগে বুটেক্স শিক্ষার্থী মিরানসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গরীবের দোকান নামের একটি দোকান চালু করা হয়। যেখানে যেকোনো নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য মাত্র ১০ টাকা। এই দশ টাকা নেন কারণ গ্রামের অনেক নিম্নমধ্যবিত্ত ও গরিব মানুষ আছেন যারা এসব দান ভেবে নিতে লজ্জাবোধ করেন। তাদের জন্য মূলত এই নামমাত্র মূল্য নেওয়া হয়, যাতে তারা প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিনা সংকোচে কিনে নেন।