নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে সময় বৃদ্ধি © সংগৃহীত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সাংবাদিক হেনস্তা ও বহিরাগতদের তাণ্ডবের ঘটনা তদন্তে আরও তিন দিন অতিরিক্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার স্বার্থেই এই সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ১৭ আগস্ট (সোমবার) গভীর রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের ৪১৩ নম্বর কক্ষের সিট পরিবর্তন নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে পরদিন ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) দুপুরে বহিরাগতদের সাথে নিয়ে পুনরায় দু’পক্ষের মধ্যে ক্যাম্পাসে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে ওই দিনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনকে আহ্বায়ক, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামানকে সদস্য এবং প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়। কমিটিকে প্রাথমিকভাবে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছিল।
কমিটি সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, আহত শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ ও বক্তব্য শোনার কাজ শুরু করেছে তদন্ত কমিটি। পাশাপাশি সংঘাতের প্রকৃত কারণ ও হামলাকারীদের শনাক্ত করতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার দিন বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের ভিডিও ফুটেজও প্রমাণ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এএফএম আরিফুর রহমান বলেন, তদন্তের কাজ চলমান রয়েছে, সব পক্ষের সাথে একে একে কথা বলছি আমরা। বিভিন্ন ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও নোবিপ্রবির ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, আমরা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে ডেকেছি। সিসিটিভি ফুটেজসহ অনলাইন মিডিয়ায় যেসব ফুটেজ এসেছে তা বিশ্লেষণ করছি। যেহেতু পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য প্রশাসন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, আমরা সেই কাজটিই করছি। আর এর জন্যই আমরা প্রশাসন বরাবর আরও তিন দিন অতিরিক্ত সময় চেয়েছি। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে পারবো।