পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রদল কর্তৃক সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে সাংবাদিকরা। © টিডিসি ফটো
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রদল কর্তৃক সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে সাংবাদিকরা। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন হয়।
কর্মসূচি শেষে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। এশিয়ান পোস্টের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি তৌফিক আল মাহমুদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের নোবিপ্রবি প্রতিনিধি এবং ক্যাম্পাস সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা গতকাল (১৮ আগস্ট) ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দ্বারা দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি সাদমান রাকিন, দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম এবং দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি মেহেদী হাসানের ওপর হামলা ও হেনস্তার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন। তারা অনতিবিলম্বে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংগঠনের শৃঙ্খলা অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে ক্যাম্পাসে সক্রিয় ৩৩ জন সাংবাদিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর কাছে একযোগে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।
মানববন্ধনে দৈনিক আমার দেশের প্রতিনিধি ও নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টি অন্যতম কারণ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শুরুতেই তাৎক্ষণিক ও কঠোর ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি এতটা ঘোলাটে হতো না। এটি সংশ্লিষ্টদের প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক ব্যর্থতা। আমরা প্রশাসনকে স্পষ্ট বলতে চাই—সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত হতে হবে, ক্যাম্পাসে মুক্ত সাংবাদিকতার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি ও নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাদমান রাকিন বলেন, ‘সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। গত ১৭ বছরে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের যে অপসংস্কৃতি দেখেছি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর যদি সেই একই আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে তা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমাদের কাছে ঘটনার পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও ফুটেজ রয়েছে, যা আমরা প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছি। দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা না নিলে ক্যাম্পাসে আবারো অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির আশঙ্কা দেখা দেবে।’
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বার্তা বাজারের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি ফাহাদ হোসেন, নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাজিদ খান, ভোরের বাণীর প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নাঈমুর রহমান, চ্যানেল ২৪-এর প্রতিনিধি কাউসার আহমেদ এবং মুক্ত কলমের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক সমিতির সদস্য ফাইজা আফরোজ প্রমি।