নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। © টিডিসি ছবি
‘জিপিএ-৫ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এটিই চূড়ান্ত সাফল্য নয়। প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে তোমরা কতটা মানবিক, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করছ তার ওপর।’ ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নোয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর উদ্যোগে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। ‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশের ৬৪টি জেলায় আয়োজিত সংবর্ধনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে নোয়াখালীতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আজকের এই সংবর্ধনা তোমাদের মেধার স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতে বড় স্বপ্ন দেখার এক অনন্য অনুপ্রেরণা। জিপিএ-৫ পেয়ে তোমরা মেধার যে স্বাক্ষর রেখেছ, সেজন্য নোবিপ্রবি পরিবার ও আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন। এই অর্জনের পেছনে রয়েছে তোমাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগ। সন্তানদের সফল করতে অভিভাবকদের এই ত্যাগকে আমি স্বাগত জানাই।’
জিপিএ-৫ অর্জনকে শিক্ষার একমাত্র মাপকাঠি না ভাবার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মনে রাখবে, জিপিএ-৫ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এটিই চূড়ান্ত সাফল্য নয়। প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে তোমরা কতটা মানবিক, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করছ তার ওপর। উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে সফল হতে হলে এখন থেকেই গভীর অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’
ভবিষ্যৎ পথচলার গুরুত্ব তুলে ধরে নোবিপ্রবি উপাচার্য বলেন, ‘এখনই জীবনের সঠিক পথ বেছে নেওয়ার সময়। যেকোনো পরিস্থিতিতেই পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। সময়কে যে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাবে, সাফল্য তারই আসবে। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল চাকরি বা ব্যবসা নয়, বরং মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করা এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য অনুধাবন করা। আসুন, আমরা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যকে ধারণ করে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্য অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন নোবিপ্রবির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ, প্রথম আলোর জেলা নিজস্ব প্রতিবেদক মাহবুবুর রহমান, প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার টিপু সুলতান এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নোয়াখালীর সাবেক দ্রুততম মানব রকিবুল্লাহ আক্তার মিলন।