ছাত্রদলের সংঘর্ষের জেরে বন্ধ নোবিপ্রবির পকেট গেট, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা © টিডিসি
ছাত্রদলের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বহিরাগতদের হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অন্যতম ব্যস্ত ‘পকেট গেট’ টানা চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ক্যাম্পাসের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ছাত্রদলের সংঘর্ষে বহিরাগতদের প্রবেশ ও সংঘর্ষের ঘটনার পর সার্বিক নিরাপত্তা বিচারে পকেট গেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হল এবং হযরত বিবি খাদিজা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
দৈনন্দিন খাওয়া-দাওয়া, প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা ও দ্রুত চলাচলের জন্য শিক্ষার্থীরা মূলত এই গেটটির ওপরই নির্ভরশীল। কিন্তু তিন দিন ধরে গেটটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় সামান্য কাজের জন্যও দীর্ঘ পথ ঘুরে প্রধান ফটক দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা পড়াশোনার পাশাপাশি সাধারণ জীবনযাত্রায় তীব্র ভোগান্তি তৈরি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ ও রসিকতা প্রকাশ করে লিখছেন, মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হলে যেমন বিশ্বজুড়ে সংকট তৈরি হয়, তেমনি নোবিপ্রবির পকেট গেট বন্ধ থাকায় অবরুদ্ধ ও স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবন।
প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আল মাহমুদ লেখেন, “পকেট গেট এভাবে বন্ধ রাখার যৌক্তিক কোনো কারণ দেখছি না। বন্ধ থাকা অবস্থায়ও শিক্ষার্থীরা গেট টপকে যাতায়াত করছে, অথচ সেখানে কোনো আনসারও নেই। বহিরাগত ঠেকাতে যদি এটি করা হয়ে থাকে, তবে তারা কি টপকে আসতে পারবে না? আনসার না থাকায় তো কারও আইডি কার্ডও দেখা হচ্ছে না। কয়েকজন মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের খেসারত দিতে হাজারও শিক্ষার্থীকে হয়রানির মুখে ফেলা হচ্ছে।”
একই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষা বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুজতবা ফয়সাল নাঈম লেখেন, “একদল শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী ক্যাম্পাসে মারামারি করবে আর তার জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হবে কেন? প্রশাসন কি দায়ীদের বিরুদ্ধে বহিষ্কার বা অন্য কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেবে না? শুধু শুধু গেট বন্ধ রেখে সবাইকে কষ্ট দেওয়ার কোনো মানে হয় না।”
শিক্ষার্থীদের এই অসন্তোষ ও সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে নোবিপ্রবি প্রক্টর অধ্যাপক এএফএম আরিফুর রহমান বলেন, “ক্যাম্পাস ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সাময়িকভাবে পকেট গেটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”