বিএফএসএর মনিটরিং

মাভাবিপ্রবির ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যাম্পাসসংলগ্ন খাবারের দোকানগুলোয় তেলে অতিমাত্রার টোটাল পোলার কম্পাউন্ড

২৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৮ PM , আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৩ PM
টিডিসি সম্পাদিত

টিডিসি সম্পাদিত © টিডিসি

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার ব্যবহৃত ভোজ্যতেলে স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ মাত্রার টোটাল পোলার কম্পাউন্ড (টিপিসি) শনাক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) মোবাইল ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় তেলের মান অতি বিপজ্জনক সীমায় পাওয়া যাওয়ার পাশাপাশি ক্যাম্পাসসংলগ্ন কয়েকটি খাবারের দোকানেও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের নানা অনিয়ম ধরা পড়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) মাভাবিপ্রবির ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স (এফটিএনএস) বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত খাদ্য নিরাপত্তা-বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে প্রথমে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে একটি সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। পরে শিক্ষার্থীদের কাছে বিএফএসএর মোবাইল ল্যাবরেটরিতে খাদ্য পরীক্ষার বিভিন্ন পদ্ধতি প্রদর্শনী শেষে  ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যাম্পাসের আশপাশের খাবারের দোকানগুলোতে মনিটরিং পরিচালনা করা হয়। মনিটরিংকালে শহীদ জিয়া হলের পেছনে অবস্থিত খাবারের দোকানে ফ্রিজে সংরক্ষিত কাঁচা মাংস থেকে রক্ত গড়িয়ে খোলা অবস্থায় রাখা রান্না করা খাবারের ওপর পড়তে দেখা যায়। এছাড়া কাঁচা ও রান্না করা খাবার একই স্থানে সংরক্ষণ, নন-ফুড-গ্রেড পাত্রের ব্যবহার, অনুমোদনহীন খাদ্যপাত্র, বাসি খাবার, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ময়লা কাপড় ও আবর্জনার উপস্থিতিসহ খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক বিভিন্ন অনিয়ম চিহ্নিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একই অবস্থা লক্ষ করা গেছে পাশের জুয়েলের দোকানসহ আরো কয়েকটি দোকানে।

কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার ভোজ্যতেলের পরীক্ষার ফলাফল প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার মতো একটি ফুড এস্টাবলিশমেন্টের খাবার সরাসরি শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, তারা বাজার থেকে কী ধরনের তেল কিনে ব্যবহার করছেন। সবার আগে বাজার সরবরাহ ব্যবস্থায় থাকা অস্বাস্থ্যকর তেলগুলো চিহ্নিত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিয়ে বাজার থেকে অপসারণ করতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি বাজারে কোন ব্র্যান্ডের তেল ভালো মানের এবং কোনগুলো নিম্নমানের—সে বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে এমন তেলের ব্যবহার কমবে এবং ভোক্তারা সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।’

সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আয়োজিত এই অনুষ্ঠান বিষয়ে এফটিএনএস বিভাগের চেয়ারম্যান বলেন, ‘মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণা পরিচালনা করে আসছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষ জনবল তৈরি করাও বিভাগের অন্যতম লক্ষ্য। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আমরা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম, যাতে তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের খাদ্য বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে। আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করেছে। এ বিষয়ে আমরা তাদের সার্বিক সহযোগিতা করেছি এবং এ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।’

এ বিষয়ে লাইফ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী আবিদ ইসলাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ক্যাফেটেরিয়ার তেলের পরীক্ষার ফলাফল দেখে আমরা সত্যিই উদ্বিগ্ন। প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী এখান থেকে খাবার খায়। নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা, সামনেই সেমিস্টার ফাইনাল। টিউশান করিয়ে এসে নিজে রান্না করে খাওয়ার মতো সময় থাকে না। তাই খাবারের মান ও ব্যবহৃত তেলের গুণগত মান নিয়মিত পরীক্ষা করা শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য বিবেচনায় অত্যন্ত জরুরি।’

ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুব হোসেন বলেন, ‘কিছু খাবারের দোকানে কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে রাখা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে হতাশ হয়েছি।মাঝে মাঝে তো খাবারে পোকাও পাওয়া যায় বাইরের দোকানগুলোয়। খাদ্য নিরাপত্তার মৌলিক নিয়মগুলোই অনেক জায়গায় মানা হচ্ছে না।’

অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘শুধু এক দিন অভিযান চালিয়ে থেমে গেলে হবে না। নিয়মিত মনিটরিং এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে দোকানিরাও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বাধ্য হবেন।’

বেগম ফজিলতুন্নেছা জোহা হলের শিক্ষার্থী রিয়া চক্রবর্তী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ প্রতিদিন ক্যাম্পাস ও আশপাশের এসব দোকানের খাবারের ওপর নির্ভরশীল। তাই নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।’

শহীদ আবরার ফাহাদ হলের শিক্ষার্থী মোশতাক ইব্রাহিম বলেন, ‘অসচেতনতার কারণে অনেক সময় আমরা কী ধরনের তেল বা কী পরিবেশে তৈরি খাবার খাচ্ছি, সেটিই জানি না। এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াবে।’

জননেতা আব্দুল মান্নান হলের শিক্ষার্থী রহিমাতুল্লাহ আকাশ বলেন, ‘বিএফএসএর এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে শুধু পরামর্শ নয়, যেসব প্রতিষ্ঠানে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিয়মিত ফলোআপ করা প্রয়োজন।’

মিয়ানমারে পাচারকালে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ, আটক ১
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
সারারাত এপাশ-ওপাশ? গভীর রাতে আরামদায়ক ঘুমের জন্য মেনে চলুন …
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
চবিতে ছাত্রদল নেতা মুছাকে স্মরণ, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার…
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
গভীর রাতে গুনাহ মাফ ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ আমল 
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে…
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে জামায়াতকর্মী নিহত
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950