ঈদ আনন্দ ভাগাভাগির উৎসব : বুটেক্স উপাচার্য

২০ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৪ PM , আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৯ AM
ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. জুলহাস উদ্দিন

ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. জুলহাস উদ্দিন © টিডিসি সম্পাদিত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. জুলহাস উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি সবার অনাবিল সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করেন। ঈদকে ঘিরে নিজের ভাবনা, শৈশবের স্মৃতি এবং বর্তমান সময়ের ঈদের পরিবর্তন তুলে ধরেন ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আলভী আহমেদ।

ঈদ এই শব্দটা শুনলে কোন দৃশ্যটা সর্বপ্রথম আপনার চোখে ভেসে ওঠে?

বুটেক্স উপাচার্য: ঈদ শব্দটি শুনলেই আমার মনে পড়ে ছোটোবেলার সেই আনন্দময় দিনগুলোর কথা। তখন বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই মিলে একসঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করতাম। সেই স্মৃতিগুলো আজও আমার কাছে খুব আনন্দের।

ঈদ অর্থ আনন্দ, সবার মাঝে খুশি ভাগাভাগি করে নেওয়া। রমজান থেকে আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের শিক্ষার পর আসা এই ঈদের মূল উদ্দেশ্য আসলে কতটা হাসিল হয়? আপনি কীভাবে দেখেন?*

বুটেক্স উপাচার্য: রমজান মাস মানুষের মধ্যে আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সংযম শুধু খাবারের ক্ষেত্রে নয় বরং চলাফেরা, কেনাকাটা ও জীবনযাপনের সব ক্ষেত্রেই অনুসরণ করা উচিত। রমজানের এই শিক্ষা শুধু একটি মাসে সীমাবদ্ধ না রেখে আমাদের উচিত বাকি ১১ মাসেও বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত করার চেষ্টা করা। সমাজে যারা সুবিধাবঞ্চিত আছে তাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। এটাও ঈদের অন্যতম একটি শিক্ষা। ইসলামে জাকাতের বিধান রয়েছে সচ্ছল মানুষদের উচিত তা যথাযথভাবে প্রদান করা এবং আশেপাশের প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের খোঁজখবর নেওয়া। যাতে ঈদের আনন্দ সবাই মিলে ভাগাভাগি করা যায়।

আপনার শৈশবের ঈদ নিয়ে জানতে চাই। কেমন ছিল ওই সময়গুলো? পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো এমন কোনো বিশেষ স্মৃতি আছে কিনা; যেটা বেশি মনে পড়ে।

বুটেক্স উপাচার্য: আমাদের সময় এখনকার মতো রেডিমেড পোশাক ছিল না। ঈদের আগে কাপড় কিনে দর্জির কাছে দিয়ে প্যান্ট-শার্ট বানাতে হতো। দর্জির কাছে গিয়ে সেই কাপড় বানানোর অপেক্ষা, নতুন জুতা কেনা এসবের মধ্যেই ছিল অন্যরকম আনন্দ।

আমাদের গ্রামের ছেলে-মেয়ে দের নিয়ে "ধলেশ্বরী ছাত্রসংঘ" নামে একটা ছাত্রসংঘ ছিল। ঈদের দিন সেখানে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। ঈদের দিন গ্রামের ছেলেমেয়েরা একত্র হয়ে দিনভর আনন্দ করতাম। ঈদের আগের রাতেও মাঠে বসে গল্প-আড্ডা হতো কার কোথায় চাকরি হয়েছে বা কে কী করছে, এসব নিয়েই আলোচনা চলত।

আগের ঈদ আর বর্তমানের ঈদ, পার্থক্য কী খুঁজে পান?

বুটেক্স উপাচার্য: আগের ঈদে আত্মীয়স্বজনদের বাসায় যাওয়া-আসা, খোঁজখবর নেওয়া এবং বন্ধুদের সঙ্গে গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর একটা আলাদা আনন্দ ছিল। এখন ঈদের আমেজটা অনেকটাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। মানুষের অফলাইনে যোগাযোগ কমে গিয়ে অনলাইনের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে গেছে।

ছোটোবেলায় ঈদ সালামি পেতেন, এখন নিশ্চয়ই দিতে হয়। কোনটি বেশি আনন্দের?

বুটেক্স উপাচার্য: সালামি দেওয়া এবং নেওয়া দুটিই আমার কাছে আনন্দের। তবে বর্তমানে আমি সালামি দিতে বেশি আনন্দ পাই। আমরা সাত-ভাইবোন এবং আমার অনেক ভাগনে-ভাগ্নী আছে। তাদের নতুন নোটের টাকা সালামি হিসেবে দিতে আমার খুব ভালো লাগে।

ঈদের কোন মুহূর্ত বা আয়োজন আপনার জন্য সবচেয়ে আনন্দের? এর সঙ্গে জানতে চাই, সাধারণত ঈদের দিন কী ধরনের আয়োজনে অংশ নেন? 

বুটেক্স উপাচার্য: সবাই মিলে ঈদগাহে গিয়ে নামাজ আদায় করার বিষয়টি আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের। আমার কাছে ঈদের দিন ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা ঈদের অন্যতম আনন্দের মুহূর্ত। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একত্র হওয়াও আমার কাছে বড় আনন্দের বিষয়।   

ঈদের দিন সাধারণত নতুন পোশাক পরে ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে যাই। পরে সময় পেলে কোথাও ঘুরতে যাই। বিশেষ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যপূর্ণ জায়গায় সময় কাটাতে আমি বেশি পছন্দ করি। ঈদের দিন বা তার পরের দিন বসুন্ধরা এলাকায় কিংবা উত্তরা অঞ্চলের লেক ও ফুলের বাগান দেখতে যাই।

ঈদ উপলক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো বার্তা দিতে চান?

বুটেক্স উপাচার্য: শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদে নিজ নিজ বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে আনন্দের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করে। বিশেষ করে যারা ঢাকায় থাকে এবং পরিবার থেকে দূরে থাকে, তারা যেন এই কয়েকটি দিন আনন্দের সঙ্গে কাটাতে পারে, এটাই আমার প্রত্যাশা।

ঈদ মানে আপনার কাছে কি কেবল আনন্দ, নাকি আত্মমুল্যবোধ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গঠনের সময়ও?

ঈদ শুধু আনন্দের উৎসব নয়, এটি আমাদের সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করা, সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সহায়তা করা এবং আত্মীয়স্বজনদের পাশে দাঁড়ানো এসবের মাধ্যমেই ঈদের প্রকৃত আনন্দ উপলব্ধি করা সম্ভব। আমি মনে করি, প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষেরই এ দায়িত্ব পালন করা উচিত।

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত ২ বাংলাদেশির ১ জন কলেজছাত্র
  • ০৯ মে ২০২৬
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ হোক স্বচ্ছতার সঙ্গে
  • ০৯ মে ২০২৬
সাজেকে ব্রাশফায়ারে ইউপিডিএফ সদস্য নিহত
  • ০৯ মে ২০২৬
বাংলার নবম, বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভ…
  • ০৯ মে ২০২৬
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ওষুধ সংকট
  • ০৯ মে ২০২৬
মীনা বাজার নিয়োগ দেবে এক্সিকিউটিভ, আবেদন ২০ মে পর্যন্ত
  • ০৯ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9