শাকসুর দাবিতে বিকালে স্মারকলিপি © সংগৃহীত
নির্বাচন কমিশনের তিন শর্তকে প্রত্যাখ্যান করে নির্ধারিত সময়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (শাকসু) আয়োজনের লক্ষ্যে বিকালে নির্বাচন কমিশন বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা। সেই স্মারকলিপি থেকে সন্ধ্যায় স্বাক্ষর প্রত্যাহার করেছেন ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য‘ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকাল ৪টায় সেন্টার অব এক্সিলেন্স ভবনের সামনে নির্বাচন কমিশনের হাতে ৭৬ জন প্রার্থীর স্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপি তুলে দেন প্রার্থীরা। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি ও স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী হঠাৎ সেই স্বাক্ষর প্রত্যাহার করায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে অন্য প্রার্থীদের মাঝে।
তবে কোন কারণে স্বাক্ষর প্রত্যাহার করা হয়েছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানাননি তারা।
এর আগে ইসি কর্তৃক নির্বাচন স্থগিতের খবরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিন শর্তে নির্বাচনের অনুমতি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম।
শর্ত তিনটি হলো-নির্বাচনকালীন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে না এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না। এসব শর্তে প্রার্থীদের লিখিত স্বাক্ষর প্রদান করতে হবে। তবেই শাকসু নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের আপত্তি থাকবে না বলে জানানো হয়।
তবে উপ-উপাচার্যের এমন শর্তকে প্রহসন আখ্যা দিয়ে গতকাল রাতেই শর্ত প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে আজ বিকালে নির্ধারিত সময়ে শাকসুর দাবিতে স্মারকলিপি দেন তারা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে আসন্ন শাকসু নির্বাচনের পথে বাধা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে মনে করা হচ্ছে, শাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। আমরা শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীগণ মনে করি যে, জাতীয় নির্বাচনের সাথে শাকসু নির্বাচনের কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতা ও সাংঘর্ষিকতা নেই। আসন্ন শাকসু নির্বাচন কোনভাবেই জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করে না। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা বা মুচলেকা চাওয়া কোনভাবেই সম্মানজনক না। আমরা এই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করি। এজন্য আমরা বিশ্বাস করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণ সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে কোন বাধা নেই। সুতরাং, আমরা পূর্বনির্ধারিত সময়ে যে কোন কর্তৃপক্ষ থেকে নতুন কোন শর্ত আরোপ ছাড়াই শাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানাই।’
একাধিক প্রার্থী জানান, ‘নির্বাচনকালীন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটুক সেটা আমরাও চাই। আর সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। আমরা অযৌক্তিক শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছি। এবং সবাই একমত হয়ে যথা সময়ে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু হঠাৎ কেন দুই প্রার্থী স্বাক্ষর প্রত্যাহার করেছেন তা আমাদের বোধগম্য না।
এ বিষয়ে জানতে ছাত্রদল প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল ধরেননি
অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে তিন শর্ত দিয়েছেন সেগুলোর দায়ভার আমাদেরকে নিতে হবে। এই আশঙ্কার জায়গা থেকেই স্মারকলিপি থেকে স্বাক্ষর প্রত্যাহার করেছি।‘
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ সকল প্রকার নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ঘোষণার প্রতিবাদে ১২ তারিখ রাতভর বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সাথে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দীন চৌধুরী দেখা করলে কমিশন নির্বাচনের আশ্বাস দেন।