যবিপ্রবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা ছাত্রলীগের

১৭ জুন ২০২৩, ০৯:৩৯ PM , আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৫, ০১:০৩ PM
প্রশাসনিক ভবনের সামনে যবিপ্রবি ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

প্রশাসনিক ভবনের সামনে যবিপ্রবি ছাত্রলীগের বিক্ষোভ © টিডিসি ফটো

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃতির রিটে চূড়ান্ত অভিযুক্তদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অব্যাহতি, একাডেমিক ভবনে লিফট স্থাপনসহ ১২ দফা দাবিতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ঘোষণা দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগ।

আজ শনিবার রাতে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি নতুন। কোথাও তেমন গাছপালা নেই। প্রচণ্ড গরমে লিফট ছাড়া দশতলা ভবনে শিক্ষার্থীরা কোনোমতেই ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে রাজি হচ্ছে না। ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের সংগঠন। তাদের দাবির সাথে এ কারণে আমরাও একাত্মতা ঘোষণা করেছি।

এর আগে, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে বিক্ষোভ করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগ। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান দুই ফটক, আবাসিক হলের ফটক ও বাস বন্ধ করে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের ক্যাম্পাসের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রাখেন শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় যবিপ্রবি উপাচার্যের কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনকেও প্রায় ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

আরো পড়ুন: জাবিতে গেস্টরুমে নির্যাতন: ৮ ছাত্রলীগ নেতার নামে হত্যাচেষ্টা মামলা

পরবর্তীতে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সাথে তুমুল বাকবিতণ্ডা হয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানা ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর ফয়সালসহ অনুসারীদের। উপাচার্যের সাথে আলোচনা ও বাকবিতণ্ডায় দাবীর সুরাহা না হওয়ায় রোববার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা।

শাখা ছাত্রলীগের ১২ দফা দাবিগুলো হল- শিক্ষার্থীদের ক্লাস পরীক্ষার সুবিধার্থে অনতিবিলম্বে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের লিফট লাগানো, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি বিকৃতির রিটে অভিযুক্তদের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা, সুষ্ঠু  তদন্ত ব্যতীত কোনো শিক্ষার্থীর উপর শাস্তি আরোপ বা সরাসরি বহিষ্কার না করা ও বহিষ্কৃত সকল শিক্ষার্থী উপর আরোপিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা।

এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসকল উন্নয়নমূলক কাজে দুর্নীতির রিপোর্ট এসেছে সেসব কাজের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠনের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউকে এই কমিটিতে না রাখার, দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ও দুর্নীতি দমন কমিশনে তদন্তাধীন সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বহিষ্কার করার এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রদানের দাবিও জানান তারা। ফায়ারের কাজ দ্রুত শেষ করা এবং এই কাজে আর্থিক লেনদেনের দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানান তারা।

এর পাশাপাশি, সেমিস্টার ফি কমানো, প্রথমবার রিটেক (অকৃতকার্য) ফি মওকুফ এবং দ্বিতীয় রিটেক (অকৃতকার্য) ফি প্রতি ক্রেডিট বাবদ সর্বোচ্চ ২৫ টাকা নির্ধারণ, বিভাগ উন্নয়নের নামে অবৈধ টাকা নেওয়া বন্ধ, শিক্ষকদের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে কিউআরকোড সম্পর্কিত খাতা প্রদান ও ইমপ্রুভমেন্ট সিস্টেম চালু করার দাবি জানানো হয়। উপাচার্যের এয়ারমার্ক বাংলো ভাঙার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকমীদের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটুক্তিকারীদের বহিষ্কারের দাবিও জানান তারা।

সার্বিক বিষয়ে যবিপ্রবি উপাচার্য ড. মো. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, দুপুরের দিকে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি সোহেল রানা রেজিস্ট্রার দপ্তরের সামনে তাদের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে অবস্থান নেন। তখন আমি কথা বলতে গেলে ছাত্রলীগের সভাপতির সাথে আমার উচ্চবাচ্য হয়। এ ঘটনার ১০-১৫ মিনিট পর তাদের আরও বেশ কিছু কর্মীদের নিয়ে ১২ দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় ও আমাকে আমার কার্যালয়ে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে এবং এক পর্যায়ে আমার কার্যালয়ের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ছাত্রলীগের কারণে রেজিস্ট্রার দপ্তর, পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও পূর্ত দপ্তর, প্রকৌশল দপ্তর, হিসাব দপ্তর সহ বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের কাজ আটকে রয়েছে। তাদের কারণে দাপ্তরিক কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায় না। এর কারণ কি হতে পারে তা আমার থেকে আপনারাই ভালো বুঝবেন।

ছাত্রলীগের ১২ দফা দাবি সম্পর্কে ড. আনোয়ার বলেন, সকল অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি আমাকে দ্বিতীয় মেয়াদে যবিপ্রবিতে উপাচার্য হিসাবে নিযুক্ত করেছেন এবং গবেষণা ও কাজের সম্মাননা স্বরূপ একুশে পদকেও ভূষিত করেন। এরপরও যদি তারা আমাকে অসম্মান করে তবে তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সরকারকেই অবমাননা করার শামিল। অতি দ্রুত লিফটগুলো কার্যকর করার পদক্ষেপ নিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, দুদকের তদন্ত কমিটি গঠন করা সাপেক্ষে আমরা কাউকে বহিষ্কার করতে পারি না তবে অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নিতে পারবো। ফায়ার সিকিউরিটির কাজ জুনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবার কথা কিন্তু শাখা ছাত্রলীগ আমাকে এ কাজের বিষয়ে একাধিকবার বাধাগ্রস্ত করেছে। আগামী দু’মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ হয়ে যাবে।

সেমিস্টার ফি ও রিটেকের ফি নিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাথে আলোচনা করতে হবে যেহেতু এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের বিষয়। এক্ষেত্রে আমাদেরকে ইউজিসির আয়-ব্যয় দেখাতে হবে। কিউআর কোড সম্বলিত খাতা ও ইমপ্রুভমেন্ট সিস্টেমের বিষয় একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বিসিবিকে ধুয়ে দিলেন আমিনুল হক
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
এমপিওভুক্তির আবেদন ৩৬১৫, যাচাইয়ের প্রাথমিক সভা বুধবার
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতের সঙ্গে ম্যাচ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
লালমোহনে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২০
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
জামায়াতের সমাবেশে বিপুল নারীর উপস্থিতি, কী প্রতিশ্রুতি দিলে…
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের তথ্য চাইল মাউশি
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬