গত এপ্রিলে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের অবস্থান © ফাইল ফটো
চাকরি পেয়েও বেতন নেই, এমনকি বিদ্যালয়ে যোগদানেরই নেই সুযোগ। নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকের এমন ভোগান্তি চলছে কয়েক মাস ধরে। এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। কারণ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অক্টোবর থেকে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে দীর্ঘ ভোগান্তির পালা আরও ভারী না বাড়াতে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী লাগাতার আন্দোলনের সিদ্ধান্ত বদলাননি। চলতি আগস্টের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনে নামবেন তারা।
আগামীকাল রবিবার (২ আগস্ট) থেকে সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই কর্মসূচিতে শুরু করবেন তারা। এদিকে, আজ শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় আগামী অক্টোবর মাসে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশকৃত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের যোগদান শুরু হচ্ছে এমন ঘোষণা আসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনের উদ্ধৃতি দিয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিকের জন্য সুপারিশ করা ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষকের যোগদানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। তদন্ত ও প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রিতাতে তা বিলম্বিত হয়েছে। আশা করি, আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে তাদের যোগদান প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক আগামী ২৯ অক্টোবরে যোগদান করলে তাদের পদায়নের পর পেশাগত প্রশিক্ষণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে দেবব্রত সরকার ও ফারজানা আক্তারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশের ১৭৫ দিন অতিবাহিত হলেও নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষককে আজও বিদ্যালয়ে পদায়ন ও যোগদানের সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমাদের একমাত্র দাবি ছিল গত ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে বিধিমালা অনুযায়ী যোগদান ও বিদ্যালয়ে পদায়নের সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপন/অফিস আদেশ সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।
এতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষা, অনিশ্চয়তা ও বারবার আশ্বাসের পরও বাস্তব কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় আমরা সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে ন্যায্য অধিকার আদায়ের অংশ হিসেবে শান্তিপূর্ণ লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনে বাধ্য হচ্ছি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দায়িত্বশীল মহল থেকে একাধিকবার আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে কখনোই রাজপথে নামতে হবে না। কিন্তু আজ আমরা বাধ্য হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছি। এ পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের; আমাদের নয়।
মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পরও মন গলেনি তাদের। তাই কর্মসূচির পূর্ব সিদ্ধান্তও বদলাননি। আগামীকালের কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানের দাবিতে গড়ে ওঠা প্ল্যাটফর্মের নেতা দেবব্রত সরকার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘‘এত ভোগান্তির পরেও আরও দেরি করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। তাই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামীকাল থেকেই লাগাতার কর্মসূচিতে যাবো আমরা’’
‘‘তবে আমরা শিক্ষক। কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রেখেই কর্মসূচি পালন করবো। আগস্টের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের দাবিতে লাগাতার কর্মসূচি চলবে।’’