মিশন আচার্য © টিডিসি সম্পাদিত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সব পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় নিয়োগপত্র পাননি ঝিনাইদহের তরুণ মিশন আচার্য। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের হস্তক্ষেপে অবশেষে তাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাশেদ খাঁন নিজেই ।
এর আগে গতকাল রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে মিশন আচার্যকে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে দেখা করতে যান রাশেদ খাঁন। সেখানে মিশন আচার্যকে নিয়োগপত্র দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন মন্ত্রী। একদিন পর সেই দেওয়া হল সেই নিয়োগপত্র।
পোস্টে নিয়োগপত্রটি শেয়ার করে রাশেদ খাঁন লেখেন, আলোচিত মিশন আচার্য আজকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পেয়েছে। আজ থেকে তার নামের আগে শিক্ষক শব্দটি যুক্ত হলো। আমি তাকে একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। তিনি যেন হাজারো শিক্ষার্থীর প্রিয় শিক্ষক হতে পারেন। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন শিক্ষক মিশন আচার্য। ভবিষ্যৎ সুন্দর ও সাবলীল হোক।
‘‘আশা করি, স্থায়ী বসতভিটা না থাকার কারণে আর কোনো মিশন আচার্যকে ভোগান্তির শিকার হওয়ার লাগবে না। আমি সকল সাংবাদিককে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই, যারা মানসিক সাপোর্ট দিয়ে মিশন আচার্যের পাশে ছিলেন।’’
মিশন আচার্য ঝিনাইদহ শহরের ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন। তার মা অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে তাকে পড়ালেখা শিখিয়েছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর শেষ করে মিশন আচার্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেন।
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরির সুপারিশপ্রাপ্ত হন মিশন আচার্য; কিন্তু নিজেদের কোনো ভিটেবাড়ি না থাকায় নিয়োগপত্র পাননি। তার সঙ্গে যে ১৮২ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ১৮০ জন ইতিমধ্যে নিয়োগপত্র পেয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) তারা যোগদান করেছেন। নিয়োগপত্র না পাওয়ায় মিশন আচার্য যোগদান করতে পারেননি। সম্প্রতি এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।