এখনো উৎকণ্ঠা কাটেনি শতাধিক নিয়োগপত্র বঞ্চিতের, যাচ্ছেন অনশনে

০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৪ PM
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর © লোগো

৮ মাসের অপেক্ষার পর নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. আবু তালহা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিয়োগের শেষ ধাপে এসে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েন। পরে বাদ পড়াদের নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হলেও গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দ্বিতীয় দফায় গাইবান্ধার আরও ছয়জন নিয়োগপত্র পেলেন। কিন্তু তালহা আবারও বাদ রয়ে গেলেন। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ৯৫ জনের মধ্যে ৯৪ জন নিয়োগপত্র পেলেও একমাত্র তালহাই এখনো অপেক্ষায়।

তালহার মতো চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও শেষ ধাপে নিয়োগপত্র না পাওয়া শতাধিক প্রার্থীদের উৎকণ্ঠা এখনো কাটেনি। বিভিন্ন জেলায় ধাপে ধাপে তাঁদের অনেককে নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও দেশের ঠিক কতজন এখনো নিয়োগবঞ্চিত, সেই পূর্ণাঙ্গ হিসাব জানাতে পারেনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বিভিন্ন জেলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এখনো এক শতাধিক প্রার্থী নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন।

নিয়োগপত্র না পাওয়ার যত কারণ
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য গত ৮ ফেব্রুয়ারি সুপারিশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়। প্রথম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলো ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করলেও দেখা গেছে সুপারিশপ্রাপ্ত সবার নাম নিয়োগের তালিকায় নেই।

সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা জানান, প্রথমে বাদ পড়া প্রার্থী ছিল দুই হাজারের বেশি।

প্রাথমিকের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্তদের এনএসআই বা গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক (বিরূপ) মন্তব্য থাকা, স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা সংক্রান্ত ভুল, ফৌজদারি মামলার কারণে প্রথম দফায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর অনেকেই নিয়োগপত্র পাননি। 

এদিকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন গ্রুপ খুলে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। পরে নিজেরা সংগঠিত হয়ে শাহবাগে জড়ো হতে থাকেন সব জেলার নিয়োগপত্র বঞ্চিতরা। দিনভর আন্দোলনের পর দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র দিতে শুরু করে সরকার। এভাবে কয়েক ধাপে যোগদানের দিন পর্যন্ত নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। তবে শুধুমাত্র ফৌজদারি মামলা থাকা প্রার্থীদের বাদ রাখা হয়েছে।

আমরণ অনশন শুরু করবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে
প্রাথমিকের নিয়োগপত্র বঞ্চিতদের সংখ্যা এখনও শতাধিক। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা নেই বা রাজনৈতিক কিংবা অন্য কোনো ত্রুটি না থাকার দাবি প্রার্থীদের। ফলে পদায়নের আগে নিয়োগপত্র পাওয়ার দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগামীকাল রবিবার (৪ অক্টোবর) আমরণ অনশন শুরু করবেন তারা।

নতুন শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ শুরু রবিবার
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কাজের পরিবেশ, দায়িত্ব ও কর্তব্যের সঙ্গে পরিচিত করানোর একটি প্রাথমিক পরিচিতিমূলক কর্মসূচি বা ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ শুরু হবে আগামীকাল রবিবার। এটি চলবে আগামী বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পর্যন্ত।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নবনিযুক্ত শিক্ষকদের পাঁচ দিনের এ প্রশিক্ষণ শেষে ১১ অক্টোবর পদায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ঘোষণা করা হয়েছিল ৪ অক্টোবর পদায়ন করা হবে। সে মতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের।

সারাদেশের ইউএনওদের মীর শাহে আলমের সতর্কবার্তা
  • ০৪ অক্টোবর ২০২৬
সালাহউদ্দিন আহমেদের সমন্বয় ছাড়া ৩৬ দিনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান …
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষেই ভর্তি কার্যক্রম শুর…
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রতি জেলায় ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ প্রতিষ্ঠা করা হবে: ক্রীড়া প্রত…
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জ জেলা জ…
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
এখনো উৎকণ্ঠা কাটেনি শতাধিক নিয়োগপত্র বঞ্চিতের, যাচ্ছেন অনশনে
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬