শিক্ষা মন্ত্রণালয় © ফাইল ছবি
বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে চিঠির স্মারক নাম্বারে ভুল হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন কেউ।
অভিযোগকারীদের দাবি, অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে স্মারক নাম্বারের শেষে ২০১৯ লেখা রয়েছে। যেটি হওয়ার কথা ২০২৬। ফলে চিঠি পাঠানোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত একটি চিঠি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেই চিঠিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ১২ মাসের বেতন-ভাতা দিতে মোট কত টাকা প্রয়োজন হবে তার হিসাব বিবরণী তুলে ধরা হয়।
হিসাব বিবরণী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পৌছানোর পর সেটি দ্রুত সময়ের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়। দ্রুত সম্পাদনা করতে গিয়ে টাইপিং মিসটেক-এর কারণে স্মারক নাম্বারে ভুল হয়ে থাকতে পারে। তবে টাকার অঙ্কে কোনো ভুল হয়নি। শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতাসহ প্রস্তাবনা হিসাব করা হয়েছে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা আজ সোমবার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আগামী ৪ নভেম্বর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলন কর্মসূচি রয়েছে। বিষয়টি সরকার অবগত। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন করতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। টাইপিং মিসটেকের কারণে স্মারকে ভুল হয়ে থাকতে পারে।’
শিক্ষকরা কবে থেকে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বিষয়টি নির্ভর করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর। অর্থ মন্ত্রণালয় যত দ্রুত সম্মতি দেবে তত দ্রুতই শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন স্কেলে বেতন-ভাতা পাবেন।’
এর আগে গতকাল রবিবার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অনুকূলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসিচব মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষা খাতের উন্নয়নে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীর অবদান অপরিসীম। সারাদেশের শিক্ষকগণের চাকরির সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিসহ তাদের কল্যাণ এবং সার্বিক পরিসেবা উন্নয়নে বর্তমান সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতের আনুপাতিক বাজেট বৃদ্ধি করছে। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান ও তাদের পেশাদারীত্বের মান বৃদ্ধি পাবে।
এতে বলা হয়, ‘বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বেতন ভাতা পাচ্ছেন। জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বেতন ভাতা প্রদান করতে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহে অতিরিক্ত ২ হাজার ৫৩১ কোটি ৫৪ লাখ এবং বেসরকারি কলেজসমূহে অতিরিক্ত ৭৩৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকাসহ সর্বোমোট প্রায় ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অনুকূলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অতিরিক্ত প্রায় ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা প্রয়োজন।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অনুকূলে অতিরিক্ত ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’