সরকারি হলো ৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তালিকায় আরও ২৮টি

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৭ PM , আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৩ PM
শিক্ষা মন্ত্রণালয়

শিক্ষা মন্ত্রণালয় © টিডিসি সম্পাদিত

২০২৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি স্কুল ও দুটি ডিগ্রি কলেজ রয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয়করণের জন্য তালিকায় রাখা হয়েছে আরও ২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

সরকারি হওয়া ৩ স্কুল হলো- বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, বগুড়ার গাবলতলী উপজেলার গাবতলী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় এবং শিবগঞ্জ উপজেলার শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়। 

এর মধ্যে গত ১৩ জুলাই  তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক-৩ শাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলাধীন তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই থেকে ‘তিন্দু সরকারি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়’ নামে সরকারি করা হলো। প্রচলিত বিধি-বিধানের আলোকে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের আত্তীকরণ করা হবে। আত্তীকৃত শিক্ষক ও কর্মচারীর চাকরি বদলিযোগ্য হবেন না।

এছাড়া গত ২৭ আগস্ট বগুড়ার দুই স্কুল সরকারিকরণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, 
বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলাধীন ‘শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ ২৫ আগস্ট থেকে ‘শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে সরকারিকরণ করা হলো।

অপর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলাধীন গাবতলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টি ২৭ আগস্ট থেকে ‘গাবতলী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে সরকারিকরণ করা হলো।

দুই প্রজ্ঞাপনেই বলা হয়েছে, প্রচলিত বিধিবিধানের আলোকে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারীদের আত্তীকরণ করা হবে। আত্তীকৃত শিক্ষক, কর্মচারীর চাকরি বদলিযোগ্য হবে না।

এদিকে সরকারি হওয়া দুই ডিগ্রি কলেজ হলো—বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলাধীন ‘শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ’ ও পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলাধীন ‘মির্জা গোলাম হাফিজ ডিগ্রি কলেজ’। 

গত ২৫ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপন দুটিতে স্বাক্ষর করেছেন সিনিয়র সহকারী সচিব মনজুরুল আলম। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘সরকারিকৃত কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা-২০১৮’-এর আলোকে পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলাধীন ‘মির্জা গোলাম হাফিজ ডিগ্রী কলেজ’ ও বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলাধীন ‘শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ’ ২৫ আগস্ট ২০২৬/১০ ভাদ্র ১৪৩৩ হতে সরকারি করা হলো। 

এদিকে আরও ২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া উপজেলাধীন রুহিয়া ডিগ্রি কলেজ ও ভুল্লী উপজেলাধীন ভুল্লী ডিগ্রি কলেজ। ভোলার নাজিউর রহমান কলেজ, চরফ্যাশনের ফাতেমা-মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়, চরফ্যাশন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা কলেজ এবং মনপুরার সাকুচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

এ ছাড়া বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলাধীন মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজ ও বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বরিশালের শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ ও বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কলেজ রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও শিবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ, নওগাঁর কোলা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ এবং চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ মহিলা কলেজও জাতীয়করণের তালিকায় রয়েছে।

মাদারীপুরের সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ, নাটোরের গোপালপুর ডিগ্রি কলেজ, পটুয়াখালীর আবদুল করিম মৃধা কলেজ, সিরাজগঞ্জের হাজী ওয়াহেদ-মরিয়ম কলেজ, ফরিদপুরের নবকাম পল্লী কলেজ, মাগুরার কাজী সালিমা হক মহিলা কলেজ ও আমিনুর রহমান ডিগ্রি কলেজ রয়েছে তালিকায়।

এ ছাড়াও তালিকায় রয়েছে- পাবনার কাশিনাথপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ, ঈশ্বরদী মহিলা কলেজ, সেলিম রেজা হাবিব ডিগ্রি/অনার্স কলেজ, সুজানগর নিজাম উদ্দিন আসগর আলী ডিগ্রি কলেজ। 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর কলেজ এবং ময়মনসিংহের আব্দুর রহমান ডিগ্রি কলেজও জাতীয়করণের উদ্যোগের আওতায় রয়েছে। 

এর মধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। 

এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশের সব শতবর্ষী স্কুল ও কলেজের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে। গত ২ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে। জানা গেছে জাতীয়করণ প্রক্রিয়ায় শতবর্ষী স্কুল-কলেজগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। 

অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার মান, ফলাফল ও অবকাঠামোগত সক্ষমতায় এগিয়ে থাকা অনেক প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের তালিকায় স্থান পায়নি। অথচ তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা কিংবা প্রত্যাশিত ফল না করা কিছু প্রতিষ্ঠান তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর জাতীয়করণ হওয়া কিংবা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পাইপলাইনে থাকা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই সংশ্লিষ্ট এলাকার মন্ত্রী এবং এমপিদের সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়েছে। 

তবে দুটি প্রতিষ্ঠান সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বান্দরবনের তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় ইতোমধ্যে জাতীয়করণ হয়েছে। তবে এই প্রতিষ্ঠানটি মানবিক বিবেচনায় জাতীয়করণ করা হয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ বড় ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে পড়ে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, ভৌগলিক প্রয়োজন কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি করা হলে তা সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে স্বচ্ছ ও অভিন্ন নীতিমালা ছাড়া শুধু ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালীদের সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি করা হলে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হতে পারে।

তাদের মতে, প্রভাবশালীদের সুপারিশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের ফলে বৈষম্য তৈরি হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের সংস্কৃতি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে এ ধরনের তদবির ও সুপারিশের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। একইসঙ্গে যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সরকারিকরণ থেকে বঞ্চিত হবে। এজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে নেওয়া দরকার।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘জাতীয়করণের জন্য নীতিমালা প্রয়োজন। এটি থাকলে তখন সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা যায়। তবে কোনো সরকারই এই নীতিমালা করতে ইচ্ছুক নয়। কেননা নীতিমালা না থাকার সুযোগ সরকার যে কোনো প্রতিষ্ঠানকেই সরকারি করতে পারছে।’

সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মন্তব্য করতে রাজি হননি প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।  

দেবরের সঙ্গে বিয়ে, কাজির ‘বেলকিবাজিতে’ বিপন্ন কন্যা!
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাকরির ভাইভায় নম্বর বৃদ্ধি, এবার বললেন পানিসম্পদমন্ত্রী
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারি হলো ৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তালিকায় আরও ২৮টি
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘হিরো আলমই ভালো ছিল’
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে রাবি ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬ বছর পর দিল্লি-গুয়াংজু সরাসরি ফ্লাইট চালু করল চীন
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9